Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অব্যাহত নদীভাঙন কমছে বন্যার পানি

৬১ পয়েন্টে পানি হ্রাস ৩৪টিতে বৃদ্ধি করতোয়া বিপদসীমায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল হয়ে ভাটির দিকে ক্রমাগত নামছে বন্যার পানি। ভাটিতে পানির চাপ ও স্রোত বেড়েই চলেছে। গতকাল দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের ৬১টি পয়েন্টে পানি হ্রাস ও ৩৪টি স্থানে বৃদ্ধি পায়। শুধুই করতোয়া নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অধিকাংশ স্থানে নদ-নদীর পানি হ্রাসের দিকে রয়েছে। বানের পানি হ্রাসের সাথে অব্যাহত রয়েছে তীব্র নদীভাঙন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আপার মেঘনা অববাহিকায় সুরমা, কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি গতকালসহ তিন দিনে কমবেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে উত্তর-পূর্ব ভারতে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিশেষত সিলেট বিভাগে গত কয়েকদিনের টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট বিভাগে বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে গেছে।
বানের পানি নামার সাথে সাথে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, আত্রাই, করতোয়া, তিস্তা, ধরলা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, ছোট যমুনা, ধলেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন চলছে। ভাটির দিকে পদ্মা-মেঘনার মোহনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের উপকূলের দিকে বন্যার পানি অপসারিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র চাপ ও ঘূর্ণিস্রোত। এর সঙ্গেই নদীভাঙন অব্যাহত আছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে দুই তীরের বসতভিটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সড়ক রাস্তাঘাট, হাটবাজার, ফল-ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় নদীভাঙনে আশ্রয়হারা হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গতকাল পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকা ছাড়া প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। প্রধান নদ-নদীসমূহের ১০১টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৬১টি পয়েন্টে পানি হ্রাস ও ৩৪টিতে বৃদ্ধি পায়। ৬টি পয়েন্টে পানি অপরিবর্তিত থাকে। করতোয়া নদীর পানি চক রহিমপুরে আরও কমেছে এবং বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আর কোনো নদী বিপদসীমার ঊর্ধ্বে নেই।
অতি বর্ষণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আপার মেঘনা অববাহিকায় সিলেট বিভাগে সুরমা ও কুশিয়ারাসহ অধিকাংশ নদীর পানি গতকাল আরও বৃদ্ধি পায়। তবে সবখানেই বিপদসীমার নিচে রয়েছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি বেড়ে কানাইঘাটে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার নিচে, কুশিয়ারা নদী অমলশীদে ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে, সোমেশ্বরী কলমাকান্দা পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
গতকাল ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্ব ভারতে বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে চেরাপুঞ্জিতে ৭১, কৈলাশহরে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এ সময় সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। এরমধ্যে মহেশখোলায় ২৮৩, দুর্গাপরে ১৫৫, ছাতকে ১৩০, সুনামগঞ্জে ১২৮, নাকুয়াগাঁওয়ে ১১০, নওগাঁয় ৮৪, শ্রীমঙ্গলে ৬৮, লরেরগড় ও দেওয়ানগঞ্জে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অব্যাহত-নদীভাঙন
আরও পড়ুন