Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

দেশ চালাতে না পারলে পদত্যাগ করুন : সরকারকে বিএনপি

ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

সরকার দেশ চালাতে, মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আজকে শিশুরা, কলেজের ছাত্ররা, স্কুলের ছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে। কেনো নেমেছে এটা আপনাদের (সরকার) বুঝতে হবে। যদি আপনারা দেশ চালাতে না পারেন, মা-বোনের ইজ্জতের সম্মান দিতে না পারেন, তাদেরকে রক্ষা করতে না পারেন তাহলে সোজাসুজি পদত্যাগ করুন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশব্যাপী ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচারের দাবিতে বিএনপির উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আজকে প্রতিবাদের এই সূচনা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। আজকে বলে যাই আগামীতে এমন সমাবেশ হবে, অতিথিজন উপস্থিত থাকবেন, যেখানে সমাবেশ হবে, সেখানেই প্রত্যেকে থাকবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র হরণকারী, ধর্ষণকারী, নারী নির্যাতনকারী আর অর্থ-লুটপাটকারী এই সরকার পদত্যাগ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী দক্ষ, তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন, আমাদের বিচারপতিরা সঠিকভাবে বিচার করতে পারবে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের ছত্রছায়ায় সারাদেশে নারী নির্যাতনের ‘মহোৎসব’ চলছে। আজকে সমস্ত বাংলাদেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। যে ভয়াবহ অবস্থায় এই অবৈধ সরকার দেশকে নিয়ে গেছে তাতে দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যে ভয়াবহ লোহর্মষক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে এটা সমস্ত জাতি শুধু নয় আমার মনে হয় সমস্ত বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শুধু এই নোয়াখালীর ঘটনা নয়, গত কয়েক মাসে আপনারা লক্ষ্য করেছেন এখানে একটা মহোৎসব শুরু হয়েছে। এই নারীর শ্লীলতাহানি, নারী ওপরে নির্যাতন-এটা এখন এই অবৈধ সরকারের ছত্রছায়ায় একটা নিয়মিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সমস্ত বৈধতা তারা হারিয়েছে। তাদের আর ক্ষমতায় থাকার আর কোনো রকমের কোনো কারণ নেই। গত দুইদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন যে, এই ধর্ষনের দায় আমরা এড়াতে পারি না। তাহলে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই ধর্ষন, লুন্ঠন, নির্যাতন-নিপীড়নের পেছনে আপনাদেরই মদদ রয়েছে।
তিনি বলেন, এই সমাবেশ থেকে আপনাদের আহবান জানাচ্ছি- অবিলম্বে পদত্যাগ করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যান। যদি না যান এই দেশের জনগণ জেগে উঠবে, আপনাদেরকে চলে যেতে বাধ্য করবে। আজকে যে ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে, সিলেটের মতো পবিত্র জায়গায়, আজকে আমাদের আর চুপ করে বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। আমাদের উচিত হবে-সবাই একত্রিত হয়ে দলমত নির্বিশেষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সমস্ত অনাচার-ব্যাপীচার-অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।
এসময় মানববন্ধনে কালো পতাকা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এই মানববন্ধন এক সমাবেশে রূপ নেয়। ‘ধর্ষকের আস্তনা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, নিপীড়ক যেখানে, লড়াই হবে সেখানে, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি শ্লোগানে প্রেস ক্লাব এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ইশরাক হোসেন, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আবদুল আলিম নকি, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের আব্দুর রহিম, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি

২৯ নভেম্বর, ২০২০
২৪ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন