Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

শিশু বিয়ে বন্ধে প্রয়োজন জোরদার পদক্ষেপ

ইউনিসেফের প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিশু বিয়ে বন্ধে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্তে¡ও, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই শিশু বিয়ের প্রচলন সবচেয়ে বেশি এবং এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যেও রয়েছে দেশটি।
শিশু বিয়ে বন্ধ করা বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ উভয়েরই একটি অগ্রাধিকার। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে শিশু বিয়ে বন্ধের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে শিশু বিয়ে বন্ধের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে আরও পরিবর্তন আনতে প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জাতীয় লক্ষ্য পূরণের জন্য শিশু বিয়ে বন্ধের হারে অগ্রগতি গত দশকের তুলনায় কমপক্ষে ৮ গুণ এবং এসডিজির লক্ষ্য পূরণের জন্য ১৭ গুণ দ্রুততর করতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপ-প্রতিনিধি ভিরা মেন্ডোনকা বলেন, একসঙ্গে আমাদের অবশ্যই ক্ষতিকর রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে এবং শিশু বিয়ে বন্ধ করতে হবে। মানবাধিকারের এই লঙ্ঘন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনছে, যা শিশুদের কাছ থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেয়ার সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে শিশু বিয়ের প্রবণতা ১৯৭০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, তা সত্তে¡ও এখনও এই হার অনেক বেশি। বর্তমানে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৫১ শতাংশের বিয়ে হয়েছে তারা শিশু থাকা অবস্থাতেই। এটি এই দেশকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ‘শিশু কনের’ দেশে পরিণত করেছে, যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই। আবার এদের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ নারীর বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগেই।
মেয়েদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে তাদের অবশ্যই পুনরায় পড়াশোনায় ফিরে যেতে উৎসাহ দিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পরেও পড়াশোনা করা মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘শিশু কনে’ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে, এমনকি তারা গ্রামে বসবাসকারী এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্য হলেও।
তাই সমাজকে পরিবর্তন করতে এবং মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও মাল্টি-সেক্টোরাল প্রোগ্রাম টু অ্যান্ড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট ওমেন প্রকল্পের পরিচালক আবুল হোসেন।
‘শিশু বিয়ে সমাপ্তি : বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। যেখানে ইউএন, সরকার, উন্নয়ন অংশীদার এবং কিশোরী-ক্লাবের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউনিসেফের প্রতিবেদন
আরও পড়ুন