Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১ ব্শৈাখ ১৪২৮, ০১ রমজান ১৪৪২ হিজরী

আসামে সরকারি I মাদরসাগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৫ এএম

ভারতের আসাম রাজ্যের সকল মাদরাসা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার আসামের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার আসামের সমস্ত সরকারি মাদরাসা বন্ধ করে দেবে কারণ, জনসাধারণের অর্থ দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, আগামী মাসে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মাদরাসা বন্ধ করা হলেও সরকারি ‘টোল’গুলো (হিন্দু ধর্ম শিক্ষা দেয়ার প্রতিষ্ঠান) বন্ধ করার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। গত ফেব্রæয়ারিতে শর্মা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকার কেবলমাত্র সরকার পরিচালিত মাদরাসাগুলি নয়, সরকারি ‘টোল’ বন্ধ করার পরিকল্পনাও করেছে। তারপরে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্য দাবি করে বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে সরকারি তহবিল দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া যায় না। তবে বৃহস্পতিবার শর্মা বলেন, ‘কোনও তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি অর্থায়নে কাজ করতে দেয়া হবে না। আমরা এই বিষয়ে নভেম্বর মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। তবে বেসরকারিভাবে চালিত মাদরাসাগুলি সম্পর্কে আমাদের কিছু বলার নেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি টোলের বিষয়টি আলাদা। টোলগুলোর বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে এগুলি স্বচ্ছ নয়। আমরা এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’

এই বক্তব্যের পরপরই, এআইইউডিএফ সুপ্রিমো এবং লোকসভার সাংসদ বদরুদ্দীন আজমল বলেন, ‘বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার যদি সরকার পরিচালিত মাদরাসাগুলি বন্ধ করে দেয় তবে তার দল আগামী বছরের শুরুর দিকে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পরে সেগুলো আবার খুলে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনি মাদরাসা বন্ধ করতে পারবেন না। বর্তমান সরকার যদি এগুলি জোর করে বন্ধ করে দেয় তবে আমরা ক্ষমতায় আসার পরে, ৫০-৬০ বছরের পুরানো এই মাদরাসাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেব।’

প্রসঙ্গত, আসামে ৬১৪ টি সরকারি ও প্রায় ৯০০ টি বেসরকারি মাদরাসা রয়েছে। যার প্রায় সবই জমিয়ত উলামা দ্বারা পরিচালিত হয়, অথচ প্রায় ১০০ টি সরকারি সংস্কৃত টোল এবং ৫০০ এর বেশি বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। রাজ্য মাদরাসাগুলিতে সরকার বার্ষিক প্রায় তিন কোটি থেকে চার কোটি রুপি এবং সংস্কৃত টোলগুলিতে বছরে প্রায় এক কোটি রুপি ব্যয় করে। দু’বছর আগে, রাজ্য সরকার দুটি নিয়ন্ত্রণকারী বোর্ড - রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং আসাম সংস্কৃত বোর্ডকে বাতিল করে দেয়। এরপরে, মাদরাসাগুলোকে আসামের মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড (শেবা) এবং সংস্কৃত টোলগুলোকে কুমার ভাস্কর ভার্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন বিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করে মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারবে। সূত্র : টিওআই।

 



 

Show all comments
  • Mohammad Sirajullah, M.D. ১৩ অক্টোবর, ২০২০, ৩:২৮ এএম says : 0
    This is a very very good decision. In a secular country like India and Bangladesh Government has no right to patronise ament has no right to spend public fund for any kind of religious education and/or maintaining religious inst enact of any religious establishments. However Government has no right to stop religious education and/oir religious institutions. Tax benefit fir religious organizations should also be st be stopped. There should not be any ifs and buts.
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Altaf Hossain ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৫৬ পিএম says : 0
    মাদ্রাসা বন্দ করে ইসলামের অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবেনা । ইসলাম আছে, এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তাতে যত কিছু করা হয় কিছুই কাজে আসবেনা । মাদ্রসা বন্দ করে দিলে আল্লাহ তায়ালা যে কোন সময় গজব দিয়ে তোদের ধ্বংস করে দিতে পারেন। তাই সময় থাকতে এইে এগুলো বন্দ করা উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • azad ১১ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০১ পিএম says : 0
    যে কোনো রাষ্ট্রে যদি সত্যিকার অৰ্থে গনতন্র থাকে তাহলে সেখানে সব ধর্মের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন। ধৰ্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্দ করা এইটা কোনো ভালো সিদ্বান্ত নয়। পিথিবীর উন্নত রাষ্টের দিকে খেয়াল করি সে সব দেশে সব রকমের ধৰ্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে। সব ধর্মের লোকদের সমান অধিকার থাকে দেশ দ্রুত উন্নত রাষ্টের দিকে এগুতে থাকে। এইটা একটা আধুনিক রাষ্টের পরিচয়। আর না ক্ষমিতার জুরে ধৰ্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্দ করা তাহলে সেখানে অন্ধকার সেখানে নেমে আসবে । এর পাশপ্রতিক্রিয়া পুরা দেশে ছড়িয়ে পড়বে ।
    Total Reply(0) Reply
  • azad ১১ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০১ পিএম says : 0
    If there is a true democracy in any state, then all religions need to have equal rights. Closing down a religious institution is not a good idea. Looking at the developed countries of the world, there are all kinds of religious institutions in those countries. People of all religions have equal rights. The country is rapidly moving towards a developed state. This is the identity of a modern state. And if religious institutions are not closed due to forgiveness, then darkness will descend there. Its side effects will spread throughout the country.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন