Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

পর্যটনে অপার সম্ভাবনা

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশে

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ করতে যাচ্ছে সরকার। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্রের কোল ঘেঁষে কমবেশি ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি যুক্ত হবে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিদ্যমান ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে। ইতোমধ্যে এই সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইটি ইন্টারন্যাশনাল। চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন ও নকশা পেতে এক বছর সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণ হলে এটি হবে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। এর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই সড়ক দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। উন্মোচন হবে নতুন দিগন্তের। শুধু তাই নয়, বদলে যাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপক‚লীয় এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়ে ছিলেন, এই মেরিন ড্রাইভকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের বেশ কয়েক বছর পর এখন নতুন করে টেকনাফ-মিরসরাই মেরিন ড্রাইভের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ চলবে প্রায় এক বছর। আগামী বছরের অক্টোবরে এর প্রতিবেদন ও প্রাথমিক নকশা পাওয়া যাবে। তারপরই চ‚ড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। তিনি বলেন, এ রকম একটি প্রকল্পের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ করা। এটা প্রথম কাজ।

সরকার কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ শেষ করেছে। বছর পাঁচেক আগে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এত দিনে বাকি প্রায় ১৭০ কিলোমিটার অর্থাৎ টেকনাফ থেকে মিরসরাই পর্যন্ত অংশে নানা জটিলতার কারণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করা যায়নি। চলতি বছরে কোভিড-১৯ এর কারণে এ প্রক্রিয়া আরেক দফা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে পেরেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সওজ সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এসএমইটি এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটা প্রাথমিক নকশা দেবে। এটির জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা পাওয়ার পরই জানা যাবে সড়কটি কত কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকার ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ বা সমুদ্র ঘেঁষা সড়ক। এটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হবে। অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। ঘুরতে আসবেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

এই মেরিন ড্রাইভ ঘিরে শুধু পর্যটন শিল্প থেকেই বছরে আয় করা সম্ভব হবে হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে কাঁচা পণ্যের ব্যবসা। বিশেষ করে বু ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে সেটি কাজে লাগানো যেতে পারে এই মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে। সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণ করা হয় সেটি দ্রুততম সময়ে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার চেহারাও পাল্টে যাবে। এর পাশাপাশি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক বেল্ট তৈরি হবে। সুরক্ষিত হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপক‚লীয় এলাকা।

সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপক‚ল এলাকায়। এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ। বদলে যাবে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও। ওই অঞ্চলে কমবে বেকারত্ব। এটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল এবং সীতাকুন্ড উপক‚লে প্রস্তাবিত মিনিবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। উপক‚লীয় এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। বিশেষ করে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় মেরিন ড্রাইভের সুফল পাওয়া যাবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার আগেই নির্মাণ হয়েছে। আমরা এটিকে একেবারে সাগর ঘেঁষে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। সমীক্ষা শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য যথেষ্ট সময় লাগবে। এটি নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে।



 

Show all comments
  • Mojammel Haque Murad ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫০ এএম says : 0
    গল্প দিয়ে লাব কি মেরিন ড্রাইবতো হবেনা, পবে টাকা চুরির মহা মেরিন ড্রাইব
    Total Reply(0) Reply
  • Sayem Rafi ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    তবে এই রাস্তায় গাছ লাগানো যেতে পারে। এতে করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rob ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫২ এএম says : 0
    রাস্তাটার নাম স্বর্গের রাস্তা রাখলে ভালো হতো।
    Total Reply(0) Reply
  • Ahiya Tafsi ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫২ এএম says : 0
    মেরিন ড্রাইভকে বেশি সুন্দর বলার বিশেষ কারণ আছে।মেরিন ড্রাইভের এক পাশে সমুদ্র আর অন্য পাশে পাহাড়।যাতে প্রকৃতির দুই রূপ একসাথে দেখতে পায় আমরা
    Total Reply(0) Reply
  • আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫৩ এএম says : 0
    এটা অনেক সুন্দর বলতেই হবে। মেরিন ড্রাইভেরটা আলাদা একটা সৌন্দর্য বহন করে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ শহিদুল ইসলাম ১১ অক্টোবর, ২০২০, ৭:২৬ এএম says : 0
    সত্যিই এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। এটি নির্মিত হলে কক্সবাজার মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, বাশকালী গন্ড়ামারা বিদ্যূৎ কেন্দ্র,বন্দর, বেটার্মিনাল, মীরস্বরাই শিল্প পার্ক, ব্লু ইকোনোমী প্রসার, পর্যটন শিল্প, বেড়িবাদ সহ নানাপ্রকার সুবিধা পাবে এ অন্চলের মানুষ।
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Rifat hossain khan ১২ অক্টোবর, ২০২০, ৮:০২ পিএম says : 0
    This is going to be the most economically sound project of bangladesh history as lots of undicovered sectors will be flourished and will play a bog role in the international business route
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার

১১ অক্টোবর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন