Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বন্যায় সড়কের সর্বনাশ

৪ মাসেও সংস্কার হয়নি : ফুলগাজীতে দুর্ভোগ চরমে

মো. ওমর ফারুক, ফেনী থেকে | প্রকাশের সময় : ১২ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রতিবছর বর্ষামৌসুমে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। ফলে নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও পোল-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ফুলগাজীতে প্রথম ধাপের বন্যায় গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হল পরশুরাম-বাঁশপদুয়া বক্সমাহমুদ সড়ক, উত্তর দৌলতপুর শেখ রাসেল সড়ক, ফুলগাজী জিয়া সড়ক, সাহাপাড়া সড়ক ও জয়পুর সড়ক। এসব সড়কের মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরশুরাম বাঁশপদুয়া বক্সমাহমুদ সড়কটি। কিছমত ঘনিয়ামোড়া বজল চকিদার বাড়ির পাশের এই সড়কটির প্রায় ২শ’ মিটার অংশ ভেঙে পুকুরে পতিত হয়। এছাড়াও উত্তর দৌলতপুর শেখ রাসেল সড়কের প্রায় ১শ’ মিটার অংশ ভেঙে জমিতে বিলীন হয়ে যায়। বাকি সড়কগুলোর কার্পেটিং ওঠে গিয়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বন্যার পানি নেমে গেলে সড়কের ক্ষতচিহ্ন ভেসে ওঠে। বন্যার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও ভাঙা সড়ক সংস্কার না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে যানচলাচল করতে পারছে না, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীগণকে।
এ সড়ক দিয়ে ফুলগাজী সদর হয়ে পরশুরাম, বক্সমাহমুদ, খন্ডলহাই বাজার, মনুরহাট, বক্তারহাট, গজারিয়া, চাঁদগাজী ও ছাগলনাইয়া বাজারে যাওয়া যায়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা, টমটম, মোটরচালিত রিকশা, ট্রাক, পিকাআপসহ আরো অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ মানুষ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এই সড়কে কয়েকটি স্কুল, কিন্ডারগার্ডেন ও মাদরাসা এতিমখানা রয়েছে। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ বেহাল সড়কটিতে বড় গর্তগুলো মেরামত করে ভাঙা সড়কে মাটি দিয়ে যানচলাচলের পথ সচল করা হয়নি আজও।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও গাড়ি চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী ঘেঁষা পরশুরাম-বাঁশপদুয়া বক্সমাহমুদ সড়কটি বন্যার পানির তীব্র স্রোতে বিশাল ভাঙনের ফলে গাড়ি চলাচল করতে পারছে না গত ৪ মাস ধরে। তারা বলেন, যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে বন্যার পানি নামার পর ভাঙা সড়কটি মেরামত করার জন্য তারা উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বারবার অবহিত করার পরও তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। পরে গাড়ি চালকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে কোনরকমে মাটি ফেলে গাড়ি চলাচলের কিছুটা উপযোগী করলেও এখনো পুরোদমে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সড়কে গর্তটি এতই গভীর যে গাড়ি নামলে ঠেলে ওপরে তুলতে অনেক কষ্ট হয়। প্রতিদিন ভাঙা সড়কের গর্তে গাড়ি উল্টে অনেক যাত্রী ও চালক আহত হয়েছেন বলে তারা জানান। তারা দ্রুত এই সড়কটি মেরামতের জোর দাবি জানান।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও এলজিইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, এসব সড়কের জরুরি মেরামতের কাজ ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে করবে বা চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে করে দেবে এরকম কোন বিধান নেই। এটি এলজিইডির সড়ক তারা করবে।
উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনির হায়দার ইনকিলাবকে বলেন, ফুলগাজীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি সড়ক ও ১টি কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে উদ্ধতন অফিসে প্রাক্কলনসহ প্রস্তাব প্রেরণ করেছি, বরাদ্দ এলে দ্রুত সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক-সর্বনাশ

১২ অক্টোবর, ২০২০
আরও পড়ুন