Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাক কি দায়ী

শায়খ আহমাদুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, হে নবী বলে দিন আপনাদের স্ত্রীদের ও আপনার কন্যাদের এবং মুমিনদের স্ত্রীদের তাদের বস্ত্র (ওড়না) তাদের (মুখমন্ডল, গলা, বুকের) উপর দিয়ে টেনে রাখে। এটাই অধিক উপযোগী যাতে তাদের চেনা যায় (ঈমানদার নারীরূপে) ফলে উত্ত্যক্ত হবে না (কুনজরকারীদের থেকে)। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)। একই সূরার ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, তোমাদের গৃহে অবস্থান করবে (শান্তভাবে), (বাহিরে) সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াবে না, যেমন প্রদর্শন করতে পূর্বে অজ্ঞতার যুগে।

নারীর খোলামেলা পোশাক ও চলাফেরা যদি ধর্ষণের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে আপাদমস্তক বোরকা পরা মেয়েটি কেন ধর্ষণের শিকার হয়? এ প্রশ্ন অনেকের। এর সরল উত্তর হলো, ধর্ষিতা কিংবা বোরকা পরিহিতা মেয়েটি নয়, বরং নরাধম ধর্ষকের উম্মাদনা এবং পশুত্ব জাগ্রত করতে ভূমিকা রেখেছে অনলাইন বা অফলাইনে প্রদর্শিত নারীদেহের খোলামেলা কিংবা যৌন আবেদনময় দৃশ্য।

যাদের ব্যাপারে নবী করিম (সা.) বলে গেছেন, যেই হাদীসের ভাবার্থ হলো, অনেক দূর থেকে জান্নাতের সুগন্ধি পাওয়া গেলেও এসব নারী জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। আর তারা জান্নাতে প্রবেশ তো করবেই না। যারা কাপড় পরিধান করে বটে, এরপরও ডিজাইন ফ্যাশন সুবাদে তারা বস্ত্রহীনই থেকে যায়, মানসিকভাবে তারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করার নিয়তে নগ্ন থাকে, যৌনাবেদনময়ী নিজেরাও অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের কেশ বিন্যাস বা মাথাবন্ধনী উটের পিঠের মতো উঁচু ও হেলে পড়া। (মুসলিম)।

পিশাচ ধর্ষক সাধারণত: যৌন আবেদন ও উত্তেজনা সৃষ্টি করা মেয়েকে হাতের নাগালে না পেয়ে যাকে যখন নাগালে পায়- সে দুর্বলের ওপর হামলে পড়ে। এমনকি মানুষ না পেলে পশুর উপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুতরাং ধর্ষণের জন্য ধর্ষিতার পোশাক দায়ী নয়, দায়ী ধর্ষণের মনোবৃত্তি তৈরি করতে সহায়ক সংস্কৃতি; যেখানে নারীকে পণ্য ও কেবল ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হয়। সেই সাথে ভোগবাদী দর্শনের প্রভাব, পুরুষের আত্মসংযমের ঘাটতি এবং যথাযথ শাস্তিমূলক আইন ও তার প্রয়োগের অভাব ইত্যাদিও ধর্ষণ বৃদ্ধির মৌলিক কারণ।

চুরি থেকে রক্ষা পেতে মানুষ তালার ব্যবস্থা করে। কেউ তালা মারার পরও চুরি হলে কি এ কথা বলা যাবে- তালা মেরে কি লাভ? তালাও তো রক্ষা করতে পারে না? পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা অবাধ নারীদেহ প্রদর্শন- ধর্ষণের জন্য কোনো একটিই এককভাবে দায়ী নয়। পুরুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিক শিক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নারীর সংযমী লাইফস্টাইল- উভয়মুখী প্রচেষ্টায়ই কেবল ধর্ষণ কমাতে পারে।

যারা মনে করছেন কেবল পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই ধর্ষণ বন্ধের জন্য যথেষ্ঠ, তারা কি পৃথিবিতে এমন কোনো সমাজ দেখাতে পারবেন যেখানে মেয়েদের খোলামেলা চলাফেরা সত্বেও পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, ফলে ধর্ষণ নাই বা নিয়ন্ত্রিত?

নারীর প্রতি পাশবিক সহিংসতার মৌলিক কারণ যদিও ভোগবাদী দর্শনের প্রভাব, আত্মসংযমের ঘাটতি ও নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং অশ্লীলতার ব্যপকতা, যৌন আবেদনময় প্রচারণা, যথাযথ আইনের অভাব ও তার প্রয়োগ না থাকা এবং বিচারের ফাঁক-ফোকর কিংবা বিচারহীনতা ইত্যাদি

তথাপি সা¤প্রতিক সময়ে; বরং সব সময় চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের বেশিরভাগ ঘটনাবলীর কারণ ক্ষমতার দাপট। সুতরাং দলীয় দাপট ও গুন্ডামী কঠোরভাবে বন্ধ করা না গেলে এগুলো থামবে না। তবে মূল ও স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসলামী লাইফস্টাইল, কালচার ও আইনেই ফিরে যেতে হবে। তার কোনো বিকল্প নাই।

ধর্ষকের পাশাপাশি তাদেরও বিচার করা উচিত যারা নারীকে পণ্য ও ভোগ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করে। ইসলামী লাইফস্টাইল ও সংস্কৃতি চর্চা এবং ধর্ষণের বিচারে শরিয়া আইন কার্যকর করা হলো এ সমস্যার মূল ও স্থায়ী সমাধান। অন্যথায় ধর্ষণ বন্ধ করতে এক জায়গায় বাঁধ দিলে সাময়ীকের জন্য বন্ধ হলেও কিছু সময় পর অন্য জায়গা থেকে ঠিকই লিক করবে।



 

Show all comments
  • মোঃ দুলাল মিয়া ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ২:৫৭ এএম says : 0
    আজকালকার মেয়েদের হাতে বাবা ও মা আই ফোন তুলে দেয়।মা বাবার কারনে এই অবস্থা।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ দুলাল মিয়া ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৩:০১ এএম says : 0
    আরোক টি হলো যতুক এই সমস্ত কারনে ধর্ষণ হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Neamat Ullah ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৪ এএম says : 0
    আসলে পোশাক দায়ী নয় মূলত আমাদের চরিত্র ভালো না হওয়ার কারনেই আমাদের মন-মানসিকতা ডাস্টবিনের চেয়ে ও নোংরা
    Total Reply(0) Reply
  • Habib ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৪ এএম says : 0
    আকাশ সংস্কৃতি সহ-পোশাক,প্রসাধনী,উদসীন বিলসী,পরনির্ভরশীল সাংস্কৃতি,অলস বা বেকার সংস্কৃতি,কর্মবিমূখ শিখ্খা সংস্কৃতি,দেশ প্রেম হীন সাংস্কৃতি,নত জানু পররাষ্ট্র নীতি,নিরপেখ্খবিমুখ বিচার ব্যাবস্থা,অগোছালো রাষ্ট্র ব্যাবস্থা.ও অসম পুজিঁবাদী ভয়ানক আগ্রাসন..অনেকাংসে দায়ী। ওরা বিপথগামী ওরা এদেশেরই সন্তান,ওদের বিপথ গামিতার জন্য দায়ী কে--এর মৌলিক দিকগুলো খোঁজ করুন
    Total Reply(0) Reply
  • Fuad ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৫ এএম says : 0
    আমার বউ সুন্দর পোশাক পড়লে আমি আকর্ষিত হই, নিশ্চয়ই পোশাকেও কিছু না কিছু রয়েছে, তাইতো ইসলামে বলা আছে নারীর পর্দা ফরজ।এবং নারীরা তাদের স্বামীদের জন্যই উন্মুক্ত। তবেঁ পোশাক কে দায়ী করলে হবেনা পোশাক ও মজক দুইটাই দায়ী।
    Total Reply(0) Reply
  • Liakat Ali ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৬ এএম says : 0
    আসলে ভাই সব চেয়ে বেশি দায়ি এ দেশের আইন। কুরআন'এর বিধান চালু করে দেন সব সমাধান হয়ে যাবে। ২ নাম্বার মানুষের চরিত্র দায়ি । কারণ মানুষের চরিত্র সর্বাচ্চ খারাপ হলেই এই ধরনের পাপ করা সম্ভব । ৩ নাম্বার পোশাক এর কারনে ও হতে পারে।
    Total Reply(0) Reply
  • Yusuf samin ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৭ এএম says : 0
    ভাই,ধর্ষণের জন্য বিকৃত মন-মানসিকতা এবং পোশাক উভয় দায়ী। কারণ উদাহরণ স্বরূপ আপনি ভাবতে পারেন, ডাকনা ছাড়া খাবারে মাছি, পোকামাকড় বসাটা স্বাভাবিক। সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে অতএব আমি,আপনি, সবাই স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারি এতে ভয় পাওয়া বা হারানোর কিছু নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Avil ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৯ এএম says : 0
    পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা অবাধ নারীদেহ প্রদর্শন-ধর্ষণের জন্য কোনো একটিই এককভাবে দায়ী নয়। পুরুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিক শিক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নারীর সংযমী লাইফস্টাইল-উভয়মুখী প্রচেষ্টায়ই কেবল ধর্ষণ কমাতে পারে। যারা মনে করছেন কেবল পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই ধর্ষণ বন্ধের জন্য যথেষ্ঠ, তারা কি পৃথিবিতে এমন কোনো সমাজ দেখাতে পারবেন যেখানে মেয়েদের খোলামেলা চলাফেরা সত্বেও পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, ফলে ধর্ষণ নাই বা নিয়ন্ত্রীত?
    Total Reply(0) Reply
  • Anwar Hossain ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ১১:২৬ এএম says : 0
    কেউ তালা মারার পরও চুরি হলে কি এ কথা বলা যাবে- তালা মেরে কি লাভ? তালাও তো রক্ষা করতে পারে না? আসলে ভাই সব চেয়ে বেশি দায়ি এ দেশের আইন। কুরআন'এর বিধান চালু করে দেন সব সমাধান হয়ে যাবে। বেশিরভাগ ঘটনাবলীর কারণ ক্ষমতার দাপট। সুতরাং দলীয় দাপট ও গুন্ডামী কঠোরভাবে বন্ধ করা না গেলে এগুলো থামবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Jack Ali ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:১৪ পিএম says : 0
    No body talks about the root cause of these heinous crimes are committed by the Criminals,, Allah created us and He know what is best for us. Our country is ruled by ........... government as such all the crime is happening. We muslim need to establish the Law of Allah then these criminal cannot commit any of these heinous crime because of the severity of the punishment and these punishment will be executed in public place and also broadcast in all the TV channel.
    Total Reply(0) Reply
  • খলিলুর রহমান ১৬ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৬ পিএম says : 0
    এখন বড় বেশি মনে পড়ে বাংলার জনপ্রিয় হুজুরের তেঁতুলের ডায়লগটি। আসলে বাস্তব কথা হলো প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী আগুনের কাছে মোম রাখলে মোম গলবেই//তেতুল দেখলে আপনার জ্বিবায় পানি আসবেই,পানি না আসলে আপনি অসুস্থ। ঠিক তেমনি নগ্নভাবে মেয়েদের চলাফেরা করাটাই ছেলেদের ইন্দ্রিয় ভাবেই মোশনাল করে তোলে। আর তখনই সব ছেলেরা নয় কিছু সংখ্যাক ছেলেরা খারাপ কাজের সুযোগ খুজে।
    Total Reply(0) Reply
  • ইব্রাহীম খলিল ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৭:২৪ এএম says : 0
    লেখকে মনের গভীর থেকে জানাই মোবারকবাদ। ইউটুব,মোভি,নাটকে,সিনেমায় নারীর অশ্লীল চবি দেওয়া বন্ধ করোন,সর্বপরি ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করোন বঙ্গ-বন্ধু সোনার বাংলা থেকে ধর্ষণের মতো অপরাধ ইনশা'আল্লাহ উঠে যাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Moinuddin ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৪:৫৯ পিএম says : 0
    ।সঠিক কথা গুলো বলা হয়েছে। এর মাদ্যমেই ধর্ষণ বন্ধ করা শম্বভ।
    Total Reply(0) Reply
  • তানজিম ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ২:৪০ পিএম says : 0
    ধন্যবাদ প্রিয় ইনকিলাব,শায়খদের আরো আর্টিকেল চাই
    Total Reply(0) Reply
  • সাগরিকা ইয়াসমিন ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৫:১৮ পিএম says : 0
    মাশা আল্লাহ।সুন্দর কথা বলেছেন।জাযাকাল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply
  • Murad hasan ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ৮:০১ পিএম says : 0
    সঠিক কথা গুলো বলা হয়েছে। এর মাদ্যমেই ধর্ষণ বন্ধ করা শম্বভ।
    Total Reply(0) Reply
  • Murad hasan ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ৮:০২ পিএম says : 0
    সঠিক কথা গুলো বলা হয়েছে। এর মাদ্যমেই ধর্ষণ বন্ধ করা শম্বভ।
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল আহমদ ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:১৫ পিএম says : 0
    কথাগুলো বর্তমান সময়ের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন। ধন্যবাদ দৈনিক ইনকিলাব এবং ধন্যবাদ প্রিয় শায়েখ আহমাদুল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২২ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ