Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অবশেষে পদত্যাগ করলেন কিরগিজ প্রেসিডেন্ট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৪:০৪ পিএম

বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগে বাধ্য হলেন মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগজিস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জেনবেকোভ। দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই প্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটল। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সাদির জাপারভককে মেনে নিলেও জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন তিনি। বিতর্কিত নির্বাচনের পর টানা দশদিন ধরে দেশটির মানুষ তার পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করে আসছিল। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
চলতি মাসের শুরুতে দেশটির সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর রাজধানী বিশকেকে শুরু হওয়ার পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ভাঙচুর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেন।
দুর্নীতির দায়ে রাজধানী বিশকেকে বন্দি বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভকে মুক্ত করেন তারা। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জিনবেকোভের কার্যালয়ে ঢুকে কাগজপত্র জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন। ওই সময় ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়।
মধ্য এশিয়ার এই দেশটিতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভোটে জালিয়াতি হয়েছে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। ভোটে জালিয়াতির অভিযোগকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ অভিহিত করে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও।
দেশটিতে সম্প্রতি গণঅভ্যুত্থানের মুখে এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে বাধ্য হন সুরনবাই।
গত ৪ অক্টোবর দেশটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে সুরনবাই সমর্থিত রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু বিরোধীরা বলছে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংসদ ভবন এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে নেয়। এছাড়া জাতীয়তাবাদী নেতা সাদির জাপারভককে কারাগারে আটক রাখা হলেও তাকে বিক্ষোভকারীরা মুক্ত করে।
গত সপ্তাহে সুরনবাই পদত্যাগ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বুধবার জাতীয় সংসদ জাপারভকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং সে নিয়োগ প্রেসিডেন্ট সুরনবাই মেনে নেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে চাননি।
এ অবস্থায় জাপারভক জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি সুরনবাইয়ের ওপরে চাপ অব্যাহত রাখবেন এবং তাকে পদত্যাগ করতে হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট।
কিরগিজস্তানের পার্লামেন্ট সুপ্রিম কাউন্সিল-এর আসন সংখ্যা ১২০টি। দেশটির আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বন্টন করা হয়। তবে পার্লামেন্টে কোনও আসন পেতে গেলে কোনও দলকে ন্যূনতম সাত শতাংশ ভোট পেতে হয়। এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয় কিরগিজস্তানের ১৬টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে কেবল চারটি দল পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পেরেছে। এর মধ্যে তিনটি দল আবার প্রেসিডেন্ট সরোনবাই জিনবেকভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে দুটি দল ২৫ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সুরনবই জিনবেকভ ও তার সমর্থিত দলগুলোর জয়ের পর নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেন কিরগিজস্তানের আন্দোলনকারীরা। এরপরই এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সূত্র : রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কিরগিজ প্রেসিডেন্ট
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ