Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

কুরগাঁওয়ের একই পরিবারের ৩ সদস্যের লাশ উদ্ধার, স্বজনদের দাবি হত্যা

ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৬:৪৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ নিয়ে রহস্য ক্রমশ ঘনিভূত হচ্ছে। নিহত গৃহবধু আরিদার স্মামী ও শ্বশুরের দাবী তারা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন কিন্তু তা মানতে রাজী নন মৃতের ভাই , মামা ও স্বজনরা। তাদের দাবী আরিদা ও তার ২ সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি বিষ খেয়ে মারা গেলে লাশ কী করে ডোবায় গেলো? উপজেলার ধর্মগড় ভরনিয়া শেয়ালডাঙ্গী গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তাদের তিনজনের লাশ প্রতিবেশীরা বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

মৃতরা হলেন, গৃহবধু আরিদা খাতুন (৩২) তার কন্যা তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রী আখি আক্তার (১০) ও পুত্র সন্তান আরাফাত (৫)।

আরিদার স্বজনরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গৃহবধুর স্বামী আকবর আলী জানান, রাতে সবাই এক বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম। সকালে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে না পেয়ে শ্বশুড়বাড়ীতে খুঁজতে গিয়েছিলাম। আমি বাড়ী ফেরার আগেই স্থানীয়রা ও আমার বাবা সিরাজুল ইসলাম ডোবা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

গৃহবধুর শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম জানান, এর আগেও আমার পুত্রবধু গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়ে আমাদের জিম্মায় তুলে দেয়। পরে এমন ঘটনা ঘটাবে আমরা কোনদিন ধারনা করিনি।
গৃহবধুর ভাই রানা দাবি করেন, কোনোভাবেই এটা আত্মহআত্যা নয়, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলে লাশ কি করে ডোবায় গেলো?

গৃহবধুর মামা আলাউদ্দিন জানান, ৩ জনকেই পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে স্মামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে স্ত্রীকে যদি খুনও করা হয়ে থাকে তাহলে সন্তানদের মৃত্যুর কারণটা কি, তার উত্তর বা ব্যাখ্যা কারো কাছেই ষ্পষ্ট নয়। এদিকে তদন্তে নিয়োজিত সংস্থাসহ এলাকাবাসী এ ব্যাপারেও রহস্যের কিনারা পাচ্ছেন না যে, আরিদার স্বজনদের কাছে খুনের সন্দেহভাজন তার স্মামী আকবর ফেরি করে জীবন ধারণ করলেও তার ঋণগ্রস্ততার সমস্যা সবাই জানলেও তার নেশাগ্রস্ততার কোনো অভিযোগ কেউ করেননি। তাহলে কি ৩য় কেউ এই ঘটনার পেছনে আছেন? তারও জবাব খুঁজছে পুলিশ।

ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শরিফ জানান বুধবার আকবর তার বাবা সিরাজুলের সঙ্গে তর্ক-বির্তক হয় । আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উঠানের নিকটে একটি ডোবায় পানিতে ভেসে উঠে আকবরের স্ত্রী ও তার দুই শিশু সন্তানের মরদেহ । ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন আকবর পেশায় ফেরিওয়ালা । আবার কোন সময় কৃষি কাজ করে সংসারের খরচ চালায় । তিনি জানান, পরিবারটি ধার দেনায় জর্জড়িত। হয়তো বা এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্ম হননের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা।

এ ঘটনার পর রাণীশংকৈল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রহস্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমাদেরকে কিছুটা সময় দেন। লাশের ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে এবং তদন্ত সম্পন্ন হলে, রহস্যের সব জট খুলবে ধীরে ধীরে।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে জাহিদ ইকবাল জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লাশ উদ্ধার


আরও
আরও পড়ুন