Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিক্ষোভে পদ ছাড়তে নারাজ থাই প্রধানমন্ত্রী, জরুরি বৈঠক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৬ এএম

জরুরি অবস্থা জারি করা আছে থাইল্যান্ডে। তার পরেও রাস্তায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতেও দেশটির রাজধানী ব্যাংককে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো- থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। সেই সঙ্গে অন্য বেশ কিছু দাবি রয়েছে বিক্ষোভকারীদের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওছা গতকাল শুক্রবার বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। গত বৃহস্পতিবার রাতের বিক্ষোভের জেরে গতকাল তিনি মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন।

প্রায়ুথ বলেন, আমি সরে যাচ্ছি না। সরকারকে জরুরি অবস্থা ব্যবহার করতে হবে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ পরিস্থিতি হিংস্র হয়ে উঠছে এটি (জরুরি অবস্থা) ৩০ দিনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি সহজ হয় তবে এর চেয়ে কম সময় ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের রাত ১০টার দিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একই জায়গায় জমায়েত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কারপন্থীরা। জরুরি অবস্থা জারির পর সরকারি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে জমায়েত বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। সে সময় অন্তত ২০ জনকে আটক করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান। সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন, সামরিক সরকারের লেখা সংবিধান সংশোধন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজশাসন সংস্কারের মতো দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছেন।

বৃহস্পতিবার সারাদিনই স্লােগান দেয়ার পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘তিন আঙ্গুলে স্যালুট’ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে অনেককেই। এর আগে, দীর্ঘদিন ইউরোপে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের রাজা মহা বাজিরালংকর্ণ বুধবার রাজধানী ব্যাংককে ফিরলে বিশাল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তারপর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে বৃহস্পতিবার সকালেই জরুরি ডিক্রি জারি করেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা। ওই ডিক্রির মাধ্যমে চারজনের বেশি একসঙ্গে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই সেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের একটি ব্যস্ত এলাকায় সমবেত হন। ওই জমাইয়েত থেকে আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। সেখান থেকে স্লোগান ওঠে ‘পুলিশ একনায়কের দাস’। সে সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ঘিরে দাঁড়ায়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং পুলিশকে ধরপাকড় করতেও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
থাইল্যান্ডে মূলতঃ অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার পদত্যাগ দাবি করে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তবে, সম্প্রতি কয়েকমাস যাবত ছাত্রদের সঙ্গে নানা শ্রেনি পেশার মানুষ যোগ দিয়ে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা পুনঃনির্ধারণের দাবিও তুলছেন।

প্রসঙ্গত, তিন মাস ধরেই থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ ও সামরিক কর্তৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলে আসছে। যদিও, থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী রাজতন্ত্রের সমালোচনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বিক্ষোভকারীদের আইন লঙ্ঘন করার মত সাহসী করে তুলছে। সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: থাই-প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ