Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনাথ আজেরি শিশু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৬ এএম

দীর্ঘ বৈঠকের পর শনিবার সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। মস্কোর মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্তে¡ও যুদ্ধ থামেনি।আজারবাইজানের সরকার এবার দাবি করল, আর্মেনিয়াই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল। সে কারণেই তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আরও দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে আজারবাইজানের একটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। এতে বহু শিশু অনাথ হয়ে গিয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ খবর জানিয়েছে।

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। গত কয়েক দিনের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। রুশ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষ মস্কোতে অস্ত্রবিরতির আলোচনায় সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। আজারবাইজানের দাবি, যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আর্মেনিয়ার সেনা।

আর্মেনিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্যাঞ্জা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিতর্কিত এলাকা নাগোরনো-কারাবাখ থেকে গ্যাঞ্জার দূরত্ব প্রায় ৯৭ কিলোমিটার। সেখানে সেই অর্থে আজারবাইজানের কোনও সেনা কাঠামোও নেই। অভিযোগ রয়েছে, আক্রমণের ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া যুদ্ধের সাধারণ নীতিও মানছে না। সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। আজারবাইজান জানিয়েছে, গ্যাঞ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অনেকেই। যার মধ্যে শিশুও আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ওই দিনের হামলার পরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গ্যাঞ্জার একটি অংশ। রাতারাতি অনাথ হয়ে গিয়েছে বহু শিশু। আজারবাইজানের প্রশাসন ওই শিশুদের এখন আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

সংবাদকর্মীদের ওই শিশুরা জানিয়েছে, কীভাবে চোখের সামনে বাবা-মাকে, পরিবারের অন্য সদস্যদের মারা যেতে দেখেছে তারা। কীভাবে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছে তারা। সবাই বাঁচেনি। গ্যাঞ্জার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি বহু শিশুও।

আর্মেনিয়া অবশ্য আজারবাইজানের এই দাবি প্রথম থেকেই অস্বীকার করছে। বৃহস্পতিবারও তারা জানিয়েছে, আজারবাইজানের কেবল সেনা কাঠামো লক্ষ্য করেই তারা আক্রমণ চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কখনোই তাদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু বাস্তবে শুধু গ্যাঞ্জা নয়, আজারবাইজানের একাধিক শহরে সাধারণ মানুষের ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে আর্মেনিয়ার ছোড়া রকেট এবং মিসাইলে।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজান জানিয়েছিল, আর্মেনিয়ার রকেট ও মিসাইল লঞ্চার প্যাড ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আজেরি সেনা। ওই লঞ্চপ্যাড থেকেই আজারবাইজানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ। এদিকে আর্মেনিয়ার অভিযোগ, যুদ্ধের নামে নাগোরনো-কারাবাখকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে আজারি সেনা। সেখানকার আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণ চালানো হয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখ থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে আসছেন বলে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। সেখানেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অনাথ-আজেরি-শিশু
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ