Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

দেশে আর কেউ না খেয়ে থাকবে না

বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে এক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিটি ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে, কাজেই এদেশে আর কোনো দিন কেউ না খেয়ে থাকবে না। বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাটা যেন নিশ্চিত থাকে এবং প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায় সেজন্য হতদরিদ্রের মাঝে আমরা বিনে পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি এবং এটা আমরা সব সময় অব্যাহত রাখব। একটি মানুষও যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ যাতে চিকিৎসাসেবা পায় সেজন্য তাদের দোরগোড়ায় আমরা চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছি, কেউ পুষ্টিহীনতাতেও ভুগবে না, সেজন্য মায়েদেরকেও আমরা মাতৃত্বকালীন আর্থিক সাহায্য দিচ্ছি, সদ্য প্রসূত মা বা যারা বেস্ট ফিডিং করান তাদেরকেও আমরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি, বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের যে কর্মসূচি রয়েছে তার মাধ্যমেও আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন এই বিশ্বকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করি। আর বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা রাখে।
তিনি বলেন, আমরা এই করোনার সাথে সাথে ঝড়, বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। কাজেই এভাবে আমাদের বাঁচতে হবে প্রকৃতির সাথে। কিন্তু আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাটা যাতে নিশ্চিত থাকে, প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায় হতদরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি এবং এটা অব্যাহত রাখব সব সময়। একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে, তাদের দোরগোড়ায় আমরা চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছি এবং কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মানুষকে সহায়তা দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেন খাদ্যের সাথে সাথে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা ভূ-খন্ডের দিক থেকে বাংলাদেশ আসলে খুবই ছোট, মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আমাদের ভূমি। কিন্তু আজ আমাদের মানুষের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটির কাছাকাছি। এই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়াটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল বাংলাদেশ। এরপর খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করে তখন ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্ধৃত্ত ছিল। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে জাতির পিতার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশপাশি কৃষকদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা কাজের লক্ষ্য কৃষকদের সুবিধা দেয়া। সেদিকে লক্ষ্য রেখে যখনই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে তখনই আমরা সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমরা নিশ্চিত করেছি আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। খাদ্য নিশ্চয়তা রাখতে হবে। কারণ এই করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারাবিশ্ব স্থবির তখন একটা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না পড়ে, বাংলাদেশের মানুষ যেন এ ব্যাপারে কোনো কষ্টভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। মহামারির মধ্যে সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তা জিডিপির চার শতাংশ। কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সরকার সহায়তা করছে জানিয়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষেত্রে আমরা তিন হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি এবং খুব অল্প মূল্যে যেন তারা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করতে পারে, বাকি অর্থ সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হচ্ছে। কৃষি সহায়তার জন্য সরকার নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেটা আমরা কৃষি সহায়তা হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করি, যাতে কৃষক তাদের উৎপাদনে উৎসাহ না হারায়, তারা যেন উৎপাদন করতে পারে। সেই সাথে সাথে আমরা মানুষকে উৎসাহিত করছি যে, এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, তরিতরকারি যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক কু ডংইয়ু ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন। এই সময় গণভবন প্রাণে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল প্রান্তে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।



 

Show all comments
  • Jack Ali ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১১:২১ এএম says : 0
    The food you eat then every bangladeshi people must have right to the same food, the place you live then every bangladeshi people have the same right live like you. The clothes you wear then every bangladeshi people have right to wear the same cloth.
    Total Reply(0) Reply
  • Jack Ali ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১১:১৯ এএম says : 0
    আজিজুল ইসলাম একটি ডেভেলপার কোম্পানির সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন। বেতন পেতেন ১৮ হাজার টাকা। রামপুরায় ১০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। একমাত্র সন্তানকে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নার্সারিতে ভর্তি করে ছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারি তার সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে। গত জুলাই মাসে কোরবানি ঈদের আগে অফিস তাকেসহ আরও কয়েকজনকে ছাঁটাই করে। এরপর থেকে তিনি বেকার। তার ওপর লাগামহীন দ্রব্যল্যের ঊর্ধ্বগতি তার জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। একটা চাকরি জোগাড় করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেননি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাস সামান্য যা কিছু সঞ্চয় ছিল তা ভেঙে খেয়েছেন। স্ত্রীর কিছু অলংকার ছিল তাও বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। আত্মীয়-পরিচিতদের কাছ থেকে ধার-দেনাও করেছেন। এখন আর চলতে পারছেন না। আজিজুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, করোনা শুরুর পর অর্থাৎ গত মার্চ থেকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে তা কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এখন প্রায় সব জিনিসের দামই বাড়ছে। আলুর দাম কম ছিল অথচ এখন ৫০ টাকা কেজি হয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে আমার মতো ছোট সংসারেরও মাসে দু’তিন হাজার টাকা খরচ বেড়ে গেছে। অথচ এক টাকাও আয় নেই। ধারদেনা করেও চলতে পারছি না। তাই চলতি গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বেসরকারি ব্যংকে চাকরি করেন আহাদ। গতকাল খিলগাঁও রেলগেইট মার্কেটে বাজার করতে আসেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি কিছুটা ক্ষোভের সাথে বলেন, মিডিয়াতে একটি খবর বেশ ভালোভাবে প্রচার করা হয়েছে। খবরটি হলো- জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে ৮৮৬ ডলার হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর তা বাড়বে ৪ শতাংশ। খবরটা খুশির। কিন্তু জিডিপির এ আয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে কী পারছে সাধারণ মানুষ। মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে বাজারে পণ্যের দাম যে আকাশচুম্বী তার হিসাব কিভাবে মিলাবেন? তিনি বলেন, জিডিপির এ খবর আসার অনেক আগ থেকেই বাজারে আগুন। পেঁয়াজ নিয়ে হইচই চলছে এক বছর ধরে। এবছরই পেঁয়াজ ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে। এখন একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সরকারের অবস্থা এমন মিডিয়া কিছু লিখলে তারা জানতে পারেন পণ্যমূল্য বাড়ছে। সিন্ডিকেট আছে। সহজ প্রশ্নের উত্তর বাজারে জানতে চাইলে বলে আমরা কি করব? আমরা কিনি বেশি দামে, বেচি বেশি দামে। কাঁচামরিচের দাম তিনশত টাকা ছুঁইছুঁই। ভাত কমিয়ে আলু খান, চালের ওপর চাপ কমান। সরকারের এই সেøাগান এখন আর চলেছে না। যে আলু ছিল গরিবের খাবার। তাতেও এখন দুষ্টচক্রের হাত। আলু লাগামহীন ছুটে চলেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা দিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কে শোনে কার কথা। বাজারে যে কোনো সবজি এখন ১০০ টাকা। মানুষ সবজি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। যে আলু ছিল মানুষের খাদ্য তালিকার দুঃসময়ের সঙ্গী তাও এখন পাতে জুটছে না। গরিব, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ বাঁচবে কি করে? নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের এরকমই ত্রাহি অবস্থা। বাজারে গত জুলাই থেকে চড়া সবজির দাম। দুই সপ্তাহে দর আরও বেড়েছে। যেসব সবজি আগে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল, সেটা এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির দাম কমতে আরও মাসখানেক লাগবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা নতুন সবজি আবাদ শুরু করেছেন। ওই সবজি এলেই শুধু দাম কমতে পারে। সবজির মতো চাল, পেঁয়া
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন