Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

রাশিয়া এবার ইরানি পর্যটকদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা দিচ্ছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১০:১৫ এএম

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারভ বলেছেন, ইরানের পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা শিগগিরই কার্যকর করা হবে। মস্কোয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে গত ২৭ মার্চ এ বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে এবং রাশিয়ার পর্যটন সংস্থা এই চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ করবে। -ফারস

তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ওই চুক্তিতে সই করেছেন। মারিয়া জাখারভ বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরানের পাঁচ থেকে ৫০ জনের একটি পর্যটক দলকে ভিসা ছাড়াই ১৫ দিনের সফরের অনুমতি দেয়া হবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নের দেরি হয়েছে এবং এটি যৌক্তিকও বটে। রাশিয়ার পর্যটন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মায়া লোমিদজে বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দু দেশের মধ্যে পর্যটক বিনিময়ের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে বলে আশা কঅস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ইরান-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে ইরানের ওপর আরোপিত পাঁচ বছরের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ১৮ অক্টোবর। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গতকাল বলেছেন ইরানের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর মস্কো তেহরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। জাখারোভা বলেন, ইরানের উপর চাপানো অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সম্পর্কিত নয়। তবুও তেহরান স্বেচ্ছায় বাড়তি কিছু প্রটোকল মেনে নিয়েছিল। তাঁর মতে, পরমাণু বিষয়ক আলোচনা দ্রুত নিষ্পন্ন করা এবং একটা সমাধানে পৌঁছার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এটা পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে তেহরানের সদিচ্ছার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে। ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পর রাশিয়া তাদের যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করলো তা থেকে মস্কোর মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক এবং বে-আইনি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে গত দেড় বছরে। তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে ইরানের ওপর যেন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করা হয়। কিন্তু রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থানের কথা জানিয়ে দিলো। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা এমনকি ট্রাম্প এবং পম্পেও পর্যন্ত বারবার ভিত্তিহীন কিছু দাবি তুলে মূলত ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়েছে গত ২০১৯ সাল থেকে। তারা বলেছে ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা দেখা দেবে। আর ইরান এবং তাদের মিত্ররা যদি শক্তিশালী হয়ে ওঠে তাহলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এইসব ভিত্তিহীন যুক্তি দেখিয়ে তারা নিরাপত্তা পরিষদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের লক্ষ্যে একটি খসড়া পেশ করেছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের ১৩ সদস্যই খসড়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। অগত্যা তারা অদ্ভুত এক দাবি জানায়। তারা বলে যে আমেরিকা নাকি এখনও পরমাণু সমঝোতার সদস্য। তারা আরও বলে ইরান নাকি সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং সে কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হবে। তারা ২০ সেপ্টেম্বর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববাসীর বিরোধিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওই পদক্ষেপও ভেস্তে গেছে। সবশেষে তারা স্ন্যাপব্যাক মেকানিজমের কথা বলেছে। তাও কাজে আসে নি। আসলে ট্রাম্পের অবিবেচনামুলক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ