Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) ও জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী : বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাণপ্রিয় সংগঠনের নাম। এ সংগঠনের নাম আসলেই মরহুম মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) এর নাম চলে আসে। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের জন্ম ১৯৩৭ ইংরেজিতে হলেও ১৯৭৬ সালে মাওলানা এম এ মান্নান সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাংগঠনিভাবে এর ভিত্তি রচনা হয়। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে এ দেশের চিরঅবহেলিত মাদরাসা শিক্ষা জাতীয় শিক্ষার অন্যতম শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাঁর বুদ্ধিমত্তার কারণে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীগণ আজ জাতীয় পেস্কেলের আওতায় আসে। শুধু তাই নয় তাঁর নেতৃত্বে এ দেশের দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের এক বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন গঠিত হয় এবং সেই ঐক্যবদ্ধ ফেডারেশনের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীগণ জাতীয় বেতন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে আজ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগণ নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বেতন প্রাপ্ত হচ্ছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকারি শিক্ষকগণেরও অনেক সমস্যা সমাধান হয়েছে। যার সুফল আজও অব্যাহত রয়েছে। মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) শুধু শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ উন্নয়নের এক জাতীয় নেতা। তিনি ছিলেন একজন সুবিখ্যাত আলেমেদ্বীন ও সুবক্তা, তিনি আধ্যাত্মিক উচ্চপর্যায়ের একজন সাধকও ছিলেন। যার প্রমাণ বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন।
মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ও এ দেশের আলেম-ওলামা বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার কল্যাণে ব্যয় করেছেন। আজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) ইহজগতে নেই কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর হাতে গড়া প্রাণপ্রিয় সংগঠন। তাঁর ইন্তেকালের পূর্বমুহূর্তে এ সংগঠনকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র হয়েছে বেশ পরিকল্পিতভাবে কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আল্লাহর ওলীগণের হাতে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের তিল মাত্র ক্ষতি করতে পারেনি বহু চেষ্টা করেও। আজ বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন তাঁর সুযোগ্য সন্তান আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ একটি জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। যার প্রমাণ গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ও মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সের ঐতিহাসিক শুকরিয়া সমাবেশ। এ ধরনের ঐতিহাসিক সমাবেশ ও মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ইতিপূর্বে লক্ষ করা যায়নি। আজ বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন একটি ঐক্যের প্রতীক। দল-মত, মাযহাব, দরবার, খানকার মতানৈক্য ভুলে গিয়ে সকলেই আজ ঐক্যবদ্ধ জমিয়াতুল রয়েছেন মোদার্রেছীনের পতাকাতলে। বহু বৎসরের সাধনা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক দাবিই আজ পূর্ণ হয়েছে। মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) বলতেন, আমি মাত্র ২৫ ভাগ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি ৭৫ ভাগ রেখে গেলাম তোমাদের জন্য। আমার বিশ্বাস তাঁরই চিন্তার ফসল ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানও হবে অচিরেই। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর ওলীগণের ওফাতের পর তার অসমাপ্ত মিশন স্বার্থক হয় সুন্দরভাবে। কাজেই আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হবেই একদিন।
মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) হুজুরের প্রাণপ্রিয় জমিয়াতে আজ তাঁরই সন্তানের দূরদর্শী চিন্তাচেতনায় গড়ে উঠছে, আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন চিন্তাচেতনায় দূরদর্শী আলেমে দ্বীনদের মিলন মেলায়, যাদের নেতৃত্বে সারাদেশে গড়ে উঠেছে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সেতুবন্ধন, সৃষ্টি হয়েছে মরহুম মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী লাখো শিক্ষকের মহাঐক্য যা ৩০ জানুয়ারি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্যেও প্রমাণ করেছেন কবি রূহুল আমীন খান, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা কাফিল উদ্দীন সরকার, মাওলানা আবুবকর সিদ্দীক, মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মোকাদ্দাসুল ইসলাম, মাওলানা আ ন ম হাদিউজ্জামান, মাওলানা আবুল ফরাহ মোঃ ফরিদউদ্দীন, মাওলানা আবুল বয়ান হাশেমী, মাওলানা মোক্তার আহম্মেদ, মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা আবু ইউসুফ, মাওলানা জালাল উদ্দীন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, মাওলানা আব্দুল হান্নান আজিজী, মাওলানা আব্দুর রব, মাওলানা ড. নজরুল ইসলাম আল-মারুফ, মাওলানা ড. ইদ্রিস খান, মাওলানা নেছার আহম্মদ, মাওলানা হাসান মাসুদ, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাই বারী, মাওলানা আনছার উল্লাহ, হাফেজ মাওলানা জাকারীয়া, মাওলানা অবুল কালাম, মাওলানা ওজায়ের, মাওলানা নূরুল আমীন, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মাওলানা জহিরুল হক, মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা ইজহার, মাওলানা জাফর ছাদেক, মাওলানা পারভেজ, মাওলানা নুমান আহম্মেদ বিশ্বনাথী, মাওলানা পারভেজ, এ কে এম মনোয়ার আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। তারা সকলেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ)-এর অমর কৃতিত্বের কথা। বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাঐক্যের কথা। আজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ) নেই কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর বহু সাধনার জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। আছেন লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী, আছেন তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরীগণ, এ বিশাল বাহিনী সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নিলে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী ইসলামী আকিদানির্ভর সমাজ গঠনে বিরাট অবদান রাখতে পারেন। তাহলেই শান্তি পাবেন মাওলানা এম এ মান্নান (রহঃ)-এর পবিত্র আত্মা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কাছে শ্রদ্ধার সংগঠন হবে মরহুম সভাপতি হুজুরের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন।
লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।