Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জেলে পল্লীতে নীরবতা

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের উপকূলভাগের জেলে পল্লী ও ইলিশ মোকামগুলোতে এখন সুনশান নীরবতা। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ১৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২২ দিন সব ধরনের মাছ আহরণ এবং সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ফলে জেলে পল্লী ও ইলিশ মোকামে এখন নেই কোন কোলাহল-কর্মব্যস্ততা। দক্ষিণাঞ্চল ও উপক‚লের বিভিন্ন এলাকার ছোট ও মাঝারি কয়েকশ’ বরফ কলও বন্ধ।
মৎস্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ৪০টি জেলার ১৪৫ উপজেলার দেড় হাজার ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ জেলে পরিবার ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত। যার ৩২% সার্বক্ষণিক এবং ৬৮% খন্ডকালীন। এছাড়াও ইলিশ বিপণন, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জাল, নৌকা, বরফ তৈরি এবং মেরামত কাজেও প্রায় ২০-২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলাতেই প্রায় সোয়া ৩ লাখ জেলে এ পেশার সাথে জড়িত। যার ৬৫% সার্বক্ষণিক ইলিশ আহরণে সরাসরি জড়িত বলে মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে।
২০০৫ সালে সর্বপ্রথম প্রজনন মৌসুমে ‘হিলসা ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্লান’র আওতায় ১০ দিন ইলিশের আহরণ বন্ধ রাখা হয়। মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশে ২০১১ সালে তা ১১, ২০১৫ সালে ১৫ এবং পরে ২০১৬ সাল থেকে ২২ দিনে উন্নীত করা হয়। জিডিপিতে জাতীয় মাছ ইলিশের একক অবদান এখন ১%-এরও বেশি। আর মৎস্যখাতে অবদান প্রায় ১২-১৩%। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বিশ্বে উৎপাদন হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গত দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় ৬০%-এরও বেশি বাংলাদেশে হয়।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় শুধু বরিশাল পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম ও বরফ কলগুলোর প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক এখন বেকার। যদিও মূূল প্রজনন এলাকা ভোলার উত্তর তজুমুদ্দিন থেকে পশ্চিমে সৈয়দ আউলিয়া পয়েন্ট, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলি পয়েন্টের ধলচর ও মনপুরা দ্বীপ, চট্টগ্রাম উপক‚লের মীরসরাই উপজেলার শাহেরখালী হয়ে হাইতকান্দী-মায়ানী পয়েন্ট এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া থেকে গন্ডামারা পয়েন্ট এলাকার বাইরে অন্যসব মাছ ধরায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। গত তিন দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নদ-নদীতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জেলেকে জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইলিশ আহরণ বন্ধে মৎস্য অধিদফতরসহ আরো কয়েকটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং সেল ও দেশের উপকূলীয় ৩৬টি জেলার ১৫২টি উপজেলায় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন ছাড়াও নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব ও আনসার-ভিডিপি এসব টাস্কফোর্সের সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্বপালন করছে।
ফলে বেশিরভাগ জেলে এখন অখন্ড অবসরে। মাছের মোকামগুলোর শ্রমিকরাও বেকার। এসব বেকার শ্রমিকদের জন্য কোন ধরনের সহায়ক কার্যক্রম এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তবে বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১৫২টি উপজেলার ৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৮২ জেলে পরিবারের জন্য এবার ২০ কেজি করে ১০ হাজার ৫৬৬ টন চাল বরাদ্ধ করেছে সরকার। যার মধ্যে বরিশাল বিভাগের ২ লাখ ৮২ হাজার ৫শ’ জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫০ টন চাল। তবে এখনো জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ চাল বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। সারাদেশে উৎপাদিত ইলিশের ৬৬-৭০% আহরণ হচ্ছে বরিশাল বিভাগের অভ্যন্তরীণ ও উপক‚লীয় মুক্ত জলাশয়ে। গত দুই দশকে বরিশাল বিভাগে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ১৫০%-এরও বেশি।
আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ১ নভেম্বর থেকে ৭ মাসের জন্য সারা দেশে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। আহরণ নিয়ন্ত্রণের ফলেই গত দুই দশকে দেশে ইলিশ উৎপাদন ২ লাখ টন থেকে ইতোমধ্যে ৫.৩০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে উৎপাদন সাড়ে ৫ লাখ টনের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইলিশ-আহরণ

১৮ অক্টোবর, ২০২০
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ