Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ইসি’র মামলায় জামিন চাইলেন নিক্সন চৌধুরী এমপি

শুনানি আগামীকাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) জামিন আবেদন করেছেন। গতকাল রোববার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি কেএম জাহিদ সারোয়ার কাজলের ডিভিশন বেঞ্চে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনের শুনানির জন্য আগামীকাল (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার তারিখ ধার্য করেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ মামলা দায়ের করে।
গতকাল নিক্সন চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন ড. শাহদীন মালিক। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট এম. মনজুর আলম। আবেদনের বিষয়ে মনজুর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের মামলায় নিক্সন চৌধুরীর আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনটি আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালাগাল ও হুমকির অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার নোয়াবুল ইসলাম ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানায় এ মামলা করেন। মামলার বাদী নওয়াবুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ওই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) হুমকি ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের গালাগাল করার অভিযোগ ওঠে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ১০ অক্টোবর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হুমকি এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের গালাগাল করেন নিক্সন। এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অশোভন আচরণের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনেও চিঠি দেয়।

ওই চিঠি পর্যালোচনা করে কমিশন সচিবালয় উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, এমপি নিক্সন চৌধুরী ৯ অক্টোবর সকালে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফোন করে নির্বাচনে অধিকসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ কারণে তার সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হলে মহাসড়ক অবরোধ করাসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান ও অশোভন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া নির্বাচনের দিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক ব্যক্তিকে আটক করেন। এ ঘটনায় সাংসদ ইউএনওর মুঠোফোনে তাকে ও সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখান। তা ছাড়া নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী কার্যকলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

অন্যদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে এ এজাহার লিখে পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বাক্ষর করেছেন মাত্র। এজাহারে এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন খানম জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়ারুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্রততম সময়ে মামলার তদন্ত শেষ করা হবে।
চরভদ্রাস উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন ঘিরে জেলা প্রশাসককে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেয়ার হুমকি এবং চরভদ্রাসনের ইউএনওর ফোনে কল করে ভাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) উদ্দেশে গালাগালের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নিক্সন চৌধুরীর দাবি, ওই অডিও-ভিডিও ‘সুপার এডিট’ করা।

এদিকে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর সংঘাতের আশঙ্কায় গত ১৭ অক্টোবর সদরপুরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ফরিদপুর-৪ আসনের স্থানীয় রাজনীতিতে নিক্সনবিরোধী আওয়ামীলীগের একটি অংশ সক্রিয়। তারা নিক্সনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আগেই মিছিল করে। তবে ১৪৪ ধারা জারির পর নিক্সন বিরোধীদের মাঠে দেখা যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসি

৫ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন