Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সার গুদামের স্থান পরিবর্তন না হলে আন্দোলন

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

নওগাঁয় বাফার গুদাম নির্মাণের স্থান পরিবর্তন করা না হলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাশোসিয়েশন বিএফএ’র নেতারা। অবিলম্বে খাট্টাসাহাপুর স্থলে কুমুরিয়া করার দাবি করেন তারা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় নওগাঁ শহরের সরিষাহাটির মোড়ে বিএফএ’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শস্য ভান্ডার নওগাঁ জেলায় বছরে রাসায়নিক সারের চাহিদা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। অথচ এখনও মজুদ ও বিতরণে এ জেলায় কোন গুদাম নির্মাণ হয়নি। এই দাবি তাদের দীর্ঘ দিনের। অথচ স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে কুমুরিয়া এলাকায় স্থলে খাট্টাসাহাপুর নামক একটি আবাসিক এলাকায় গুদাম নির্মাণ করার পায়তারা করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন বিসিআইসি। ইতোমধ্যেই সেখানকার জমি অধিগ্রহণে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলায় বাফার গুদাম নির্মাণের জায়গা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। খাট্টাসাহাপুর নওগাঁ জেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকা। সেখানে গুদাম নির্মাণ করতে গেলে একদিকে জমি অধিগ্রহণে বেশী অর্থ ব্যয় হবে। অন্যদিকে সুফল থেকে বঞ্চিত হবে নওগাঁর কৃষক, ডিলারসহ সর্বস্তরের মানুষ।
আবাসিক এলাকা হওয়ায় খাট্টাসাহাপুর গুদাম নির্মান করা হলে সরকারী স্থাপনা নির্মাণের শর্ত ভঙ্গ হবে। তাছাড়া খাট্টাসাহাপুরের পাশেই বগুড়া জেলার সান্তাহার। সান্তাহারে বিসিআইসির একটি বাফার গুদাম আছে। সেখানে সার নিতে গিয়ে নওগাঁর ডিলারদেরকে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। সঠিক সময়ে কৃষকের মাঝে সার সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ে। খাট্টাসাহাপুরে গুদাম নির্মাণ হলে সার আনা-নেয়া, পরিবহন চলাচল ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিলারকে চরম হয়রানী ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএফএর সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসানসহ কার্যকরী পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, কুমুরিয়া নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার জন্য একটি সুবিধা জনক স্থান। সেখানে গুদাম নির্মান করা হলে প্রতিটি উপজেলায় সার সরবরাহ সহজ হবে। কুমুরিয়ার জমিগুলো প্রায় সবই পরিত্যাক্ত। সেখানে অধিক পরিমাণ পরিত্যক্ত জমি আছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন মত আরও জমি অধিগ্রহণের সুযোগও রয়েছে।
খাট্টাসাহাপুর মৌজায় জমি অধিগ্রহণ করতে লাগবে প্রায় ৩২ কোটি টাকা। আর কুমুরিয়া মৌজায় মাত্র ১০ কোটি টাকা হলেই জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব। স্থান পরিবর্তন করলে সরকারের প্রায় ২২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সব দিক বিবেচনায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে গুদাম নির্মাণ করতে হলে কুমুরিয়াতেই করতে হবে। তাই স্থান পরিবর্তন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ‘খাট্টাসাহাপুর’ মৌজার পরিবর্তে ‘কুমুরিয়া’ মৌজায় বাফার গুদাম নির্মাণের পক্ষে ইতোমধ্যেই মতামত দিয়েছেন নওগাঁ-১ আসনের এমপি ও খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার। এছাড়া নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের এমপি ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনের এমপি আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি সলিম উদ্দিন তরফদার মতামত দিয়েছেন।
প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ বাস্তবায়নের শুরুতেই গোড়ায় গলদ দেখা দিয়েছে। গুদাম নির্মাণের স্থান নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় স্থানীয়দের মতামতকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে ব্যবসায়ী মহলে, বিশেষ করে সার ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থান পরিবর্তন করার দাবি দ্রুত মানা না হলে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে হুশিয়ারী দেন বিএফএ নেতারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সার-গুদা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ