Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

শত শত কোটি টাকার সম্পদ হাবিবের

তদন্তে দুদক-এনবিআর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহিভর্‚ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘রানিং টাইগার বিডি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে। চীন, হংকংসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মেশিনারিজ রফতানির নামে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইদুর রহমান হাবিব এসব জালিয়াতি করেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সাইদুর রহমান হাবিবের হংকংয়েও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার নাম ‘আরটিএ এমব্রোডায়েরি’ ও ‘চায়না নার্টস অ্যান্ড পার্টস’। এই কোম্পানি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে হাবিব বহু ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব করেছেন। তার বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)।
প্রতিষ্ঠান দু’টি থেকে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য সাইদুর রহমান হাবিবের টিআইএন নম্বর ৬১৫৬৬৫২৪০০৫৪। তার খপ্পরে পড়ে বাংলাদেশের বহু ব্যবসায়ী এখন নিঃস্ব। মেশিনারিজ আমদানির নামে ব্যাংক ঋণের টাকা নিয়ে তাকে এলসির মাধ্যমে পরিশোধের পর তিনি মেশিনারিজ সরবরাহ না করে ওইসব অর্থ আত্মসাৎ করে বহু ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়েছেন।
পুলিশসহ সরকারি দফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি ব্যবসায়ীদের হয়রানি, আটকে রেখে চেকে স্বাক্ষর নেয়াসহ নানাবিধ প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে এক শ্রেণির অসাধু পুলিশ সদস্য।
দুদক সূত্র জানায়, সাইদুর রহমান হাবিব হংকংয়ে লিজেন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিডেট নামে কোম্পানি খুলে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে তৈরি পোষাকসহ বিভিন্ন কারখানায় ছোটখাট মেশিনারিজ সরবরাহ করেন। এই মেশিনারিজ সরহরাহের নামে বহু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ নিয়ে তা পরিশোধ করেনি কিংবা মেশিনারিজও সরবরাহ করেননি।
তিনি স্ট্যাডার্ড অ্যাসোসিয়েশনসহ বহু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মেশিনারিজ সরবরাহের এলসি খোলান। কিন্তু নিম্নমানের ও ব্যবহৃত এবং অকেজো মেশিনারিজ সরবরাহ করে এর সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাইদুর রহমান হাবিব কর ফাঁকি দেয়ার কারণে এনবিআর তাকে কয়েকটি নোটিশ দিয়েছে। বিগত অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় এনবিআর তাকে গত ১০ সেপ্টেম্বর নোটিশ দিয়েছে।
এছাড়া তার বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে এনবিআর। তদন্তে তার বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। এনবিআরের হিসাব অনুসারে সাইদুর রহমান হাবিব ২০১৬ সালে সর্বশেষ ১০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ লাখ ৮৮৮ টাকার স্থাবর-অস্থবর সম্পদ আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে আর আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।
সূত্রটি আরও জানায়, সাইদুর রহমানের অপরাধলব্ধ আয় অবিশ্বাস্য অঙ্কের। তিনি প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ঢাকা ও তার আশপাশে কমপক্ষে ৭টি বাড়ি ও প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার ২টি প্লট ও নাভানা হাউজিংয়ে ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
তার নামে বাড়ি ৭১/বি, রোড ১২, সেক্টর-১০, উত্তরা, ঢাকার ঠিকানায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দাম প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া বনানীর বøক-জি, রোড-৭, বাড়ি-৪৭ এ কিনেছেন বিলাসবহুল বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট। যার দাম অন্তত ৬ কোটি টাকা। সাভারের এক দাগে ১৮ শতাংশ, অপর দাগে ৭২ শতাংশ, অপর দাগে ৩৬ শতাংশ, উত্তরায় ৫ কাঠার প্লট, সাভারে ১০ কাঠার বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে।
মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সে তার সাড়ে ৪ কোটি টাকা রয়েছে। তার রয়েছে টয়োটা প্রাডো বিলাসবহুল গাড়ি। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৮৬৬৭। স্ত্রীর রয়েছে কয়েকশ’ ভরি সোনার গহনা। তার কাছে নগদ অন্তত ৫০ কোটি টাকা, লংকা-বাংলা ফিন্যান্সে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার।
দুদক সূত্র জানায়, সাইদুর রহমান হাবিব মালয়েশিয়ায় বিপুল অর্থ পাচার করে সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন। সিঙ্গাপুরে কিনেছেন ফ্ল্যাট। তার আয়কর নথিতে এসবের কোন বিবরণ নেই। তার এসব সম্পদ আয়ের উৎস কি সেটাও অজানা। এছাড়াও সাইদুর রহমান হাবিব বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা জমা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইদুর রহমান হাবিব বলেন, আমরা ব্যবসা করি। ব্যবসায়িকভাবে ষড়যন্ত্র করে কেউ আমার নামে অভিযোগ করে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে সত্য নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তদন্ত


আরও
আরও পড়ুন