Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

প্রতিবাদেও থামছে না ধর্ষণ-ব্যভিচার

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

ধর্ষণ-ব্যভিচার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ আর র‌্যাব-পুলিশের ধরপাকড়েও থামছে না ধর্ষণ-গণধর্ষণের ঘটনা। চট্টগ্রামে এবার শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হলো ১০ বছরের এক শিশু। জেলার বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। গতকাল সোমবার কন্যা শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছে বাঁশখালী থানা পুলিশ।
সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরে নারীকে বর্বরতম যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড়ের মধ্যে চট্টগ্রামেও শুরু হয় ধর্ষণ বিরোধী ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিদিনই নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদী মানববন্ধন করছে। কিন্তু এর মধ্যেও চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, যুবতীকে হোটেলে জিম্মি করে গণধর্ষণ, শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মতো বর্বরতম ঘটনাও ঘটেছে গত কয়েকদিনে। এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। তবে এরপরও থামছে না নারী-শিশু ধর্ষণের অমানবিক ঘটনা।
সর্বশেষ বাঁশখালীর চাম্বলে ঘটে ন্যাক্কারজনক শিশু কন্যা ধর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হলেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত। থানার ওসি রেজাউল করিম ইনকিলাবকে বলেন, পশ্চিম চাম্বল ফোরকানিয়া মাদরাসার শিক্ষক মোজাম্মেল হককে মামলায় আসামি করা হয়েছে। ওই শিক্ষক গত এক সপ্তাহে চারদিন শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানিয়ে দেয়। এরপর তারা থানায় এসে অভিযোগ দেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর সীতাকুন্ড সদরের জলসা হোটেল থেকে এক যুবতীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হোটেল কক্ষে আটকে টানা দুইদিন গণধর্ষণের অভিযোগে তার কথিত প্রেমিক নয়নসহ ছয় যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবুল কাশেমের ছেলে নয়নের সঙ্গে মিরসরাইয়ের গাছবাড়িয়া এলাকার এক স্বামী পরিত্যক্তা যুবতীর এক মাস আগে পরিচয় হয়।
তার আগে নগরীর সদরঘাটে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. রিয়াজ (২২) নামে এক কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রিয়াজ ডবলমুরিং থানার মোগলটুলী কাটা বটগাছ এলাকার মো. হানিফের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নগরীর সদরঘাট থানার সরকার পুকুর পাড় এলাকায় ওই কিশোরীকে বন্ধুর বাসায় নিয়ে রিয়াজ ও তার সহযোগীরা ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। অভিযোগ পেয়ে রিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে ওই যুবক।
গত ৬ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে আনোয়ারা উপজেলার গহিরা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশিকুর রহমান নয়ন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সে আনোয়ারা উপজেলার মধ্যম গহিরা গ্রামের মো. ফোরকান মিয়ার ছেলে। র‌্যাব জানায়, স্কুলে আসা-যাওার পথে ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করতো নয়ন। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে অসহায় পরিবার মেয়েটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর নয়ন তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রেখে টানা এক মাস ধর্ষণ করে। কিন্তু মেয়েটির পরিবার অসহায় হওয়ায় তারা বিষয়টি নীরবে হজম করে। দেশব্যাপী ধর্ষণ বিরোধী সভা-সমাবেশ শুরু হতেই মেয়েটির মা র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।
ধর্ষণ থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালী থানার সুকুমার বড়–য়া অভিযোগ করেন তার শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন রাউজানের বাসিন্দা সাধন বড়–য়া (৭৪)। এ অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব রাউজানের উরকিরচর আবুরখীল নন্দনকানন এলাকা থেকে সাধন বড়–য়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে এক মাদরাসা ছাত্রীকে তুলে রাঙ্গামাটিতে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বাড়ি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গাবতল গ্রামে। গ্রেফতারের পর ওই যুবক দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তুলে রাঙ্গামাটি নিয়ে যায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা। এরপর জেলা সদরের বনরূপা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাড়ি একই ইউনিয়নের বেতছড়ি গ্রামে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
নগরীর আগ্রাবাদে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় বাড়ির মালিকসহ গ্রেফতার হয়েছেন চারজন। নগরীর দেওয়ানহাট সুপারিওয়ালা পাড়ায় ঘটে এ ঘটনা। ওই কিশোরী ফেনী থেকে চট্টগ্রামে বেড়াতে আসে। পূর্ব পরিচয়ের জের ধরে নুরী আক্তার নামে এক যুবতী তাকে ওই বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর তার সহযোগিতায় বাড়িওয়ালা চান্দু মিয়া কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সম্প্রতি বাঁশখালী এবং ফটিকছড়িতে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুইজন র‌্যাব-পুলিশের হাতে ক্রসফায়ারে মারা যান। নগরীর বায়েজিদে গার্মেন্টস কর্মী এবং পটিয়ায় নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনাও ঘটে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ

২৫ নভেম্বর, ২০২০
২১ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন