Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বন্ধ হলে জাবির কর্মচারিদের ইয়াবা সেবন, প্রভোস্টের হাতে আটক

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০২০, ৫:০৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের একটি কক্ষ থেকে দুজন কর্মচারি আটক করা পর ওই রুম থেকে দুই পিছ ইয়াবা ও ইয়াবা খাওয়ার সরাঞ্জম পাওয়া গেছে।

আটককৃত দুজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব এ্যাটেন্ডডেন্ট আব্দুল খালেক ও শেখ হাসিনা হলের অর্ডারলি পিওন জাহিদুল ইসলাম।

হলটির প্রভোস্ট ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম জানান, ‘ওই দুজনকে আটক করার পর তারা জানায় হলের গার্ড দেলওয়ার হোসনে তাদেরকে নিয়ে আসছে। এরপর জানতে পারি গার্ড দেলওয়ার কাউকে না জানিয়ে বাবুর্চিদের কক্ষটির তালা পরিবর্তন করে গত দুইমাস ধরে ইচ্ছা মতো ব্যবহার করে আসছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দুইমাস ধরে আমি বিভিন্নজনের কাছে খবর পাই ওই কক্ষটিতে বিভিন্নসময় মাদকসেবিদের আড্ডা বসে। তার ভিত্তিতে সেমবার সন্ধায় হলের সিকবয়কে নিয়ে ওই কক্ষে গেলে দুজনকে বের হয়ে যেতে দেখি। পরে তাদেরকে আটক করি এবং নাম পরিচয় জানতে চাই। এইসময় কক্ষটিতে তল্লাশি করলে দুটি ইয়াবা ও ইয়াবা খাওয়ার সরাঞ্জম পাই। কিন্তু তল্লাশি করার সময় ওই দুজন পালিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গার্ড দেলওয়ারকে তালা পরিবর্তন ও বন্ধ হলে অন্য কর্মচারীদেরকে নিয়ে আসার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোন উপযুক্ত উত্তর দিতে পারেনি। তাই আমি আগামীকাল হলের মিটিং ডেকেছি। মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে, ওনারা আমাকে প্রয়োজনীয় আলামত ও লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দিতে বলেছেন। বুধবার যেহেতু ক্যাম্পাস খোলা কাল আমরা এগুলো প্রস্তুত করে জমা দিয়ে দিব। পাশাপাশি শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির নিকটও পাঠাবো। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা নিবে।’

এই বিষয়ে হলটির গার্ড দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ সোমবার বিকেল থেকে আমি হলে ছিলামনা। ওই কক্ষটির চাবি একটি দোকানে রেখে আমি ইসলামনগর বাজারে যাই। তখন খালেক ও জাহিদ আমাকে ফোন দিয়ে বলে তাদের কাজ আছে একটু চাবি দিতে। পরে তারা চাবি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে। এরপর নাকি প্রভোস্ট স্যার তল্লাশি করে ইয়াবা পাইছে। এই বিষয়ে আমি আর কিছু জানিনা।’

কক্ষটির তালা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগের তালা নষ্ট হয়ে গেছে তাই এই তালা আমি পরিবর্তন করেছি।’

এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক ও জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকার কল দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ