Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

রামুতে বায়োফ্লক মৎস্য চাষে আশার আলো

এম আবদুল্লাহ আল মামুন, রামু (কক্সবাজার) থেকে | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের বেকার যুবকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থান বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ। বাংলাদেশে মৎস্য চাষে এই পদ্ধতি নতুন হলেও অন্যান্য দেশে অনেক আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয়। কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনিরঝিল দরগাহ পাড়া গ্রামে এই পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করে সফলতা পেয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা জাবেদ পারভেজ ও তার দুই সহোদর।
সরজমিনে জানা গেছে, তারা ৩ ভাইয়ের মধ্যে জাবেদ পারভেজ মূলত চট্টগ্রাম থেকে এই পদ্ধতির বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ করে। এলাকায় এসে গত আগস্ট মাসে নিজ গ্রামের বাড়িতে প্রাথমিকভাবে একটি ৩০ হাজার লিটার ট্যাংকে তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করে। শীতের পরে ২ মাসের মধ্যে এই ট্যাংক থেকে ন্যূনতম ৫শ’ কেজি মাছ উৎপাদন হবে তিনি জানান। তরুণ উদ্ধোক্তা পারভেজ জানায়, এই পদ্ধতি শিক্ষিত বেকারদের জন্য খুবই উপযোগি। তবে পদ্ধতিটা সম্বন্ধে খুব ভালোভাবে জানতে হবে এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই পদ্ধতি এক রকম আশার আলো দেখিয়েছে তাদের। তাছাড়া অনেক বেকার এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। সে আরও জানায়, তাছাড়া আমরা প্রথমে সীমিত পরিসরে এই পদ্বতি প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়ছি। আমরা খুব শিগগিরই ১ লাখ লিটারের বায়োফ্লক পদ্বতি হাতে নিতে যাচ্ছি।
মৎস্যবীদরা জানায়, এই পদ্ধতিতে মাছ মাছ চাষ তুলনামূলকভাবে অন্য পদ্ধতি অপেক্ষা খরচ সাশ্রয়ী ও কম ব্যয়বহুল। এই পদ্ধতিটা মূলত ইউরোপের একটি দেশ থেকে উৎপত্তি হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আশা রাখি বাংলাদেশে এটি একটি যুগান্তকারী পেশা হিসেবে পরিণত হবে।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ বলেন, এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। তেমনি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়ে বেকারত্বের হার কমে আসবে।
রামু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, রামু উপজেলায় এটিই সর্বপ্রথম হয়েছে। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য আরও কয়েকজন উদ্যোক্তা পরামর্শ চেয়েছেন। এটি নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ভালো একটি পদ্ধতি বলাযায়। যারা বিভিন্ন পদ্বতিতে মৎস্যজাতীয় চাষ করতে গিয়ে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে তাদেরকে তারা সংশ্লিষ্ট অধিদফতর থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে থাকেন বলেও তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন