Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

কয়েক হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে

প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প’ শঙ্কায়
অর্থনৈতিক রিপোর্টার : ঘরে ঘরে বিনা মূল্যে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার সরকারের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের কারণে সৌর বিদ্যুৎ খাতের কয়েক হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।
ইতোমধ্যে সোলার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সাব) ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) কালো থাবা থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা) সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে’ ইডকল পিও’দের কালো থাবা থেকে রক্ষার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন ‘সাব’ সভাপতি আব্দুল হালিম মৃধা। সূত্রমতে, সরকারি টাকায় ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর কাবিখা কর্মসূচির নির্দেশিকায় প্রকল্পের কাজের পরিধিতে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা খাদ্য শস্য/নগদ টাকা) বাজেটের ৫০ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস স্থাপনের মাধ্যমে খরচ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর ফলে সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান ও নতুন হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তৈরি হয় লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান। বাজার, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও রাজধানী পর্যায়ের হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য সৌর বিদ্যুৎ সহজলভ্য এবং সুদমুক্ত সেবায় পরিণত হয়। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ প্রদত্ত পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে প্লানেট অব দ্য আরথ্ পুরস্কারে ভূষিত হন। অথচ দেশের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রধানমন্ত্রীর সৌর বিদ্যুৎ বিস্তার সম্পর্কিত এই দূরদর্শী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিলের অপর একটি স্মারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত সোলার হোম সিস্টেম, সোলার মিনি/মাইক্রো/ন্যানো গ্রিড, সৌর সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস প্লান্ট ও উন্নত চুলা স্থাপন করাসহ এর বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) নবায়নযোগ্য কর্মসূচির অধীনে কর্মরত ৫৭টি সহযোগী সংস্থার মধ্য হতে সক্ষমতা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বাংলাদেশের প্রতি উপজেলাতে একটি করে পিও অথবা একাধিক উপজেলাতে একটি পিও’র মাধ্যমে কাজ করার কথা বলেছেন। পিও’দের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যও নির্বাচন করা হয়। এই নীতির ফলে সৌর বিদ্যুৎ খাতকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রায় হাজার হাজার উদ্যোক্তা কাজ হারিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পরেছে। এমনকি কর্ম হারিয়ে তারা অনেকটা বিপর্যস্ত।
সূত্রমতে, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (¯্রডো), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) পারসপেকটিভ প্লান (২০১০-২০২১) অনুযায়ী দেখা গেছে, গত ২০১৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশও (৮০০ মেগাওয়াট) বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে হবে ১০শতাংশ (২০০০ মেগাওয়াট) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে হবে ১০শতাংশ (৪০০০ মেগাওয়াট)। ভুক্তভোগীরা জানান, আগামী দিনে এভাবে এই শিল্পকে কিছু সীমাবদ্ধ কোম্পানি কিংবা সংস্থার হাতে জিম্মি রাখলে কখনোই সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
এদিকে গ্রামীণ শক্তির ন্যায় ইডকলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সহযোগী সংস্থা বিনা টেন্ডারে, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ কাজের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাজেটের অর্থ আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। সোলার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সাব) মুখপত্র মো. আলী আশরাফুল কবির ইনকিলাবকে বলেন, উন্নত বিশ^ যেখানে জীবাশ্ম জ¦ালানি কিংবা পারমাণবিক শক্তির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ¦ালানি বিশেষ করে অফুরন্ত সৌর শক্তির আধার সৌর বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে সম্প্রসারন ও উন্নত করা যায় এ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে সক্রিয়। সেখানে আমাদের দেশের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রধান মন্ত্রীর সৌর বিদ্যুৎ বিস্তার সম্পর্কিত এই দূরদর্শী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ