Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্রপাতি পদ্মায়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল যন্ত্রাংশ নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পারমাণবিক চুল্লি এবং একটি স্টিম জেনারেটর রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ১১টায় সমুদ্রপথে রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছে। সেখান থেকে এই যন্ত্রাংশগুলো গতকাল বিকাল চারটায় মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো.শৌকত সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ এই ইক্যুইপমেন্ট রাশান ফেডারেশনের সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় বিশেষ বার্জে স্থানান্তর করা হবে। এখন মাদার ভেসেল থেকে আনলোড করা হচ্ছে। আগামী ৫ নভেম্বর মোংলা বন্দর থেকে এই যন্ত্রাংশ নিয়ে আরেকটি জাহাজ রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। নদীপথে চাঁদপুর হয়ে আজ পদ্মাপাড়ে প্রকল্প এলাকায় নবনির্মিত রূপপুর নৌ-বন্দরে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, এইগুলো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল হচ্ছে পারমাণবিক চুল্লি। যেখানে মূল জ্বালানি থাকবে। মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্পের অগ্রগতিতে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল এবং স্টিম জেনারেটরের চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্যদিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মাইল ফলক অর্জিত হলো।এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এর আগে এই কেন্দ্র নির্মাণকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম জানায়, পারমাণবিক চুল্লি পাত্রটির ওজন ৩৩৩ দশমিক ৬ টন এবং স্টিম জেনারেটরের ওজন ৩৪০ টন। এধরনের যন্ত্রাংশ স্থানান্তর এবং পরিবহন একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ করে চুল্লি এবং স্টিম জেনারেটর স্বয়ংক্রিয় যানে করে ভোলগোদোনস্কের সিমলিয়ান্সককের একটি জেটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এগুলো নভোরোসিয়েস্কে পৌঁছায়। সেখান থেকে কৃষ্ণসাগর এবং সুয়েজ ক্যানেল হয়ে এটি মোংলায় এসে পৌঁছেছে। রোসাটমের যন্ত্র উৎপাদনকারী শাখা জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশ থেকে জানানো হয়েছে। রাশিয়ার ভোলগোদোনস্কের অটোম্যাসের কারখানায় এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।



 

Show all comments
  • Jack Ali ২১ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪২ এএম says : 0
    We don't need nuclear power reactor, it is very dangerous.. we can take lesson. The April 1986 disaster at the Chernobyl nuclear plant also The Fukushima nuclear disaster in Japan. The waste of nuclear will cause sever affect on Nature and also human being.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ