Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার প্রধান দুই ঘাতক গ্রেফতার

আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০২০, ৭:২৪ পিএম

পিরোজপুরের বেকুঠিয়ায় কঁচা নদীর ওপর নির্মানাধীন ‘৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রি সেত’ুর কর্মরত চিনা নাগরিক লাও ফান ওরফে ফান ইয়াংজুন (৫৮) হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি মূল দুই আসামীকেও গ্রেফÍার করেছে পুলিশ। গ্রেফÍারকৃতরা ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত হোসেন সেখ পিরোজপুর সদরের মরিচাল এলাকার সোহরাব সেখের ছেলে এবং সাব্বির সেখ একই এলাকার হায়দার আলী সেখের পুত্র। দুজনের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২০বছর।
ডি আই জি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অত্যন্ত স্পর্ষকাতর এ ঘটনায় নিবিড় তদন্তের পর মাত্র ৬ দিনেই মুল আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পিরোজপুর পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সাব্বির সেখ নির্মানাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রি সেতুর কর্মরত একজন স্থানীয় শ্রমিক এবং হোসেন সেখ সাব্বিরের সুপারিশে গত মে মাসে ওখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয়। হোসেনের কাজ ভাল না হওয়ায় তাকে মাত্র ১৪ দিন পরে কাজ থেকে বাদ দেয় চীনা নাগরিক ফান ইয়াংজুন। এ সময় হোসেন তার কাজের ব্যবহৃত হেলমেটটি ফেরত না দিলে পরবর্তী মাসের বেতন থেকে ফান ইয়াংজুন ৫ শত টাকা কেটে রাখেন।
এরপর থেকেই ঘাতক ঐ চীনা নাগরিক ও প্রকল্পের প্রধান টেকনিশিয়ান ফান ইয়াংজুন কখন কি ভাবে শ্রমিকদের বেতনের টাকা নিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষন করতে থাকে। পরে সাব্বিরের সাথে যোগসাজশে তারা দুজনে কোন এক সময় ফান ইয়াংজুন এর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।
গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চীনা নাগরিক ফান ইয়াংজুন শ্রমিকদের বেতন দিতে কয়েকটি ব্যাগে করে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা নিয়ে বাইসাইকেলে করে বাসস্থান থেকে মুল সেতুর দিকে যাচ্ছিল। পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী পথিমধ্যে ওৎপেতে থাকা হোসেন সেখ টাকার ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেস্টা করলে লাও ফান বাধা দেয়। তখন হোসেন তাকে ছুড়িকাঘাত করে একটি টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত লাও ফান পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষনেসর মধ্যেই মারা যায়।
এদিকে বাড়ি গিয়ে হোসেন কাদাঁ মাখা টাকা, ব্যাগ, জামা-কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে নেয়। এবং ফোনে সাব্বিরকে জানায় কাজ শেষ।
পরবর্তীতে ব্যাপক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে পুলিশ ১২ অক্টোবর কর্মরত শ্রমিক সাব্বিরকে সন্দেহ জনক আটক করে জিজ্ঞাসা বাদ করলে সে সকল ঘটনা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ওইদিন রাতেই হোসেনকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। এসময় তার কথিতমতে বাড়ির ভিতর খাটের নীচ থেকে ছিনতাইকৃত ১ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত জিনিষপত্র উদ্ধার করে। এরপর তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হোসান ও সাব্বির সব দোষ স্বীকার করে রবিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের এসপি হায়াতুল ইসলাম খান জানান, তদন্ত কালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগে ৬১ হাজার এবং আশপাশের বিভিন্ন যায়গা থেকে আরো ৮শ টাকা উদ্ধার করে। মুল টাকা থেকে হিসাব অনুযায়ী ২ হাজার ৪৩০ টাকা পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ফান ইয়াংজুন এর অধীনে ১৪ জন শ্রমিক কাজ করত। ফান ইয়াংজুন এর মরদেহ ময়না তদন্তের পর চীনা কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় নির্মানাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর সিকিউরিটি ইনচার্জ কাও চিয়েন হুয়া বাদী হয়ে ওই রাতেই অজ্ঞাত আসামীদের নামে পিরোজপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ