Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৪

রৌমারী হাসপাতালে টেন্ডারবাজি মুচলেকা নিয়ে ছাড় নিরাপত্তাহীনতায় কর্মকর্তা-কর্মচারী

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী হাসপাতালে টেন্ডারবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ সরকার দলীয় ৪ যুবককে পুলিশ আটক করে ৪ ঘন্টা পর অদৃশ্য ইশারায় ছেড়ে দেয়। রৌমারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা নিরাপত্তাহীনতায় থাকার কথা স্বীকার করলেও কাদের চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা বলতে সাহস করেননি।

রৌমারী থানার এস আই আব্দুল মতিন বলেন, হাসপাতালে ফোর্স নিয়ে গিয়ে ৬/৭জনকে হট্টগোল করতে দেখি। হাসপাতালের ভিতর থেকে তাদের সরে যেতে বললে উল্টো পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে সেখান থেকে মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত, মাহাতাব হোসেন, সাদেকুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেনকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম প্রাথমিক ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিকাল ৪টার দিকে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিযোগ করা হয় দরপত্র বাতিল হওয়ার পরও একদল যুবক জোরপূর্বক কাজ দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে চার যুবককে আটক করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আটক ৪ যুবকের কাছে অপরাধ না করার মুচলেকা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজার রহমান রবিন এর জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের রোগীর খাদ্য সরবরাহ, স্টেশনারী মালামাল সরবরাহ ও কাপড় ধোলাই করণ এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ৩১/০৮/২০ তারিখে। এরপর গত ২৯/০৯/২০ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। দাখিলকৃত দরপত্র মূল্যায়ন করা হয় ২০ অক্টোবর। এতে দেখা যায় ৩টি গ্রুপে ৯টি দরপত্রের মধ্যে ৮টি দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। শুধুমাত্র স্টেশনারী সরবরাহ গ্রুপে একটি দরপত্র বৈধ হয়। ফলে দুটি গ্রæপে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন দেখা দেয়।

এ খবর জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাতিল দরপত্র দাখিলকারী দরপত্র দাতারা। তাদের হয়ে একটি চক্র চাপ সৃষ্টি করতে থাকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান নয় তাদেরকেই এ অবস্থায় কাজ দিতে হবে। ঐ দিন সন্ধ্যায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে একটি গ্রæপ একই ভাবে অবৈধ পন্থায় বাতিলকৃত দরপত্রের নামে কাজ দাবি করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে এক পর্যায়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর বেশী কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। রৌমারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে দাবি করেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রৌমারীর ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযুক্তদের পুলিশ আটক করেছে ঘটনাস্থল থেকে। পরে জেনেছি মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ঘটনা জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি) মহোদয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশনা দেয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আর জিম্মা গ্রহণকারী মোস্তাফিজার রহমান রবিন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। দু’জনে আপন ভাই। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি’র চাচাত ভাই। ফলে এলাকার কোন মানুষ কিংবা সরকারী কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। শহরের ‘রেইনবো’ আবাসিক হোটেলটি ভাড়া নিয়ে মারুফ আহম্মেদ সীপ্তর নেতৃত্বে পাগলা বাহিনী ওরফে বিচ্ছু বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পুলিশের উপর হামলা, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, মাদক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। টর্চার সেল হিসাবে ব্যবহার করা হয় এই রেইনবো আবাসিক হোটেলটি। ইতোপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগে এ বাহিনীর অনেককে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে উপর মহলের চাপে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি। পুলিশের একজন কর্মকর্তা এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। মোবাইল বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত’র বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন