Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

যে মৃত্যু এক সপ্তাহ আগে হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

দাফনের আগে জীবিত সেই নবজাতক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছে। গত বুধবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের সন্তান সম্ভাবনা গৃহবধূ শাহিনুর। গত ১৬ অক্টোবর ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। গৃহবধূ শাহিনুরের স্বামী ইয়াসিন মোল্লা জানান, জন্মের পরপরই ওই নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে ওই নবজাতককে একটি প্যাকেটে ভরে ইয়াসিন মোল্লার কাছে হস্তান্তর করে চিকিৎসক বলেন, নবজাতকটি মৃতই জন্ম নিয়েছে।

একপর্যায়ে ওই প্যাকেটে থাকা নবজাতকটিকে নিয়ে ইয়াসিন আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে অর্থনৈতিক কারণে তাকে দাফন করতে না পারায় নবজাতকটিকে নিয়ে বসিলা কবরস্থানে যান তিনি। সেখানে লোকজন তাকে দাফনের জন্য প্যাকেট খুললে নবজাতকটি নড়ে ওঠে কান্না করে। এ সময় চমকে যান ইয়াসিন। পরে তিনি দ্রæত নবজাতককে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা তাকে নবজাতক ইউনিটে আইসিইউতে ভর্তি করেন। এছাড়া এই নবজাতকের নাম রাখা হয় মরিয়ম।

এদিকে, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এ ঘটনার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বাচ্চা ও তার মাকে বাঁচানোর জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা চেষ্টা করে। পরে যা ঘটেছিল তা অনিচ্ছাকৃত। দীর্ঘক্ষণ শিশুটির বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণই ছিল না। শিশুটির বেঁচে থাকা অস্বাভাবিক এবং বিরল ঘটনা বলে জানান তিনি।

এদিকে, নবজাতকটির মৃত্যুর পর তার বাবা ইয়াসিন মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে থেকে হাসপাতালে আনা হলে ভালোই চলছিলো সন্তানের চিকিৎসা। আশা করেছিলাম, সন্তান আমার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে, তাকে নিয়ে বাসায় ফিরবো। বড় মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করবে। অবশেষে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর আগে ওর নাম রেখেছিলাম মরিয়ম। আল্লাহর জিনিস আল্লাহ নিয়ে গেছেন। তাকে বসিলা কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মৃত্যু

২৮ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন