Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ফ্রান্সে মহানবী (সা.)-এর অমর্যাদা: সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:৪১ পিএম

সম্প্রতি ফ্রান্সে প্রকাশ্যে মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর অমর্যাদা করা নিয়ে ইতোমধ্যেই সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনগুলোও এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিশ্বনবী (সা.)-এর অবমাননার প্রতিবাদে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কুয়েতের অধিবাসীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বয়কটের একাত্মতা ঘোষনা করেছে বাংলাদেশী নেটিজেনরা।

জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘রবিউল আউয়াল মাসে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, ফ্রান্সের দুটো বিল্ডিংয়ে প্রকাশ্যে আল্লাহর রাসূল (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন— শতাব্দীর সর্ব নিকৃষ্ট অসভ্যতা। কোন সভ্য সমাজের মানুষ এভাবে ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষদের সেন্টিমেন্টের প্রতি এরকম উগ্র আচরণ করতে পারে না। এটা সুস্পষ্ট উস্কানিমূলক। এর প্রতিক্রিয়ায়, অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোন ঘটনা বা পরিস্থিতির জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দায়ী থাকবে। কারণ সে বলেছে, ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করবে না। এটা নাকি তাদের বাক-স্বাধীনতা। শেইম! শেইম অন এমানুয়েল ম্যাক্রন!............’

সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেন, ‘মেড ইন ফ্রান্স লেখা কোন পণ্য এখন থেকে আমি আর ক্রয় করবো না।’

ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে অ্যানি খান লিখেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন নিউজ সূত্রে জানলাম, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইনে কুয়েতে মার্কেট থেকে ফ্রান্সের পণ্য সরিয়ে ফেলতেছে। স্যালুট! শুধু তা নয়, সৌদি আরব এবং অন্যান্য রাষ্ট্রেও নাগরিকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। সরকার কিছু করুক বা না করুক, নাগরিকেরা পণ্য বর্জন করলে অচিরেই বিশাল প্রভাব পড়বে। এর জন্য দরকার জোরালো ক্যাম্পেইন। ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রগ্রাম যার যা আছে তাতে হ্যাশট্যাগ শুরু করেন..... ’

সম্রাট হাসান লিখেন, ‘ধিক্কার ঐ নিকৃষ্ট জাতিগোষ্ঠীর প্রতি, যারা আমাদের কলিজায় আঘাত দিলো। ফ্রান্সের সকল পণ্য সামগ্রী এবং ফ্রান্সের দূতাবাস ঢাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হোক।’

মাসুম বিল্লাহ লিখেন, ‘ফ্রান্সকে বর্জন করুন। ফ্রান্সের মত উন্নত একটি দেশ তাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মুসলমানদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চরমতম অবমাননাকর ব্যাঙ্গাত্বক কার্টুন শহরের সুউচ্চ ভবনে টাঙিয়ে জোড় গলায় দাবী করছে, এটাই নাকি তাদের বাক স্বাধীনতা! এটাই নাকি তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা! সারাবিশ্বের মুসলমানদের জীবনের চাইতেও অধিকতর প্রিয় মুসলমানদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। মহানবীর প্রতি এহেন বর্বরোচিত হিংস্র আচরণে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের হৃদয় ভেংগে চুরমার হয়ে যাচ্ছে! হৃৎপিন্ডে রক্তক্ষরণ হচ্ছে! কান্নায় বুক ফেটে যাচ্ছে!’

কাজী মনজুরুল আলম মঞ্জু লিখেন, ‘প্রথম করণীয় ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করা। দ্বিতীয়ত, সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রদূতকে তলব করা এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননার ব্যাখ্যা চাওয়া।’

এদিকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে ফ্রান্সের কয়েকটি বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ‘সাইবার ৭১’ নামে বাংলাদেশি হ্যাকার কমিউনিটি। শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এই সাইবার হামলা চালানো হয়। তারা জানান, ফ্রান্স এই ন্যক্কারজনক কাজের জন্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণ চলতেই থাকবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া
আরও পড়ুন