Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বাকিতে চলছে ‘নগদ’

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে গ্রাহকের অর্থ ৪৯ ভাগ মালিকের হাতে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সারা দেশে কত এজেন্ট জানে না ডাক বিভাগ

সাঈদ আহমেদ | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

‘ডাক বিভাগের মোবাইল ফোনভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা’ পরিচয়ে যাত্রা ‘নগদ’ এর। হাজারে ১৭ টাকা মাসুল নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে- আর্থিক লেনদেন। দেশের ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক’ দাবিদার এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই কি করে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে- ব্যক্তিমালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠান? ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগের ঘাড়েই বা সওয়ার হলো কেমন করে? যেখানে ‘ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস’ (ইএমটিএস)র মতো নিজস্ব সেবা রয়েছে। যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে যে সেবার। সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন (‘নগদ’র অপারেটর থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি লিমিটেড) একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণায় ডাক বিভাগ নিবেদিত হয়েছে কার স্বার্থে? ইত্যকার প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে কিছু ভয়াবহ তথ্য। জানা গেছে, ‘নগদ’ নামক মোবাইল সার্ভিসটিই পরিচালিত হচ্ছে অনেকটা বাকি-বাট্টার ওপর। এ সেবাটির সঙ্গে ডাক বিভাগের কার্যকর কোনো সংশ্লিষ্টতাই নেই। নিয়ন্ত্রণও নেই। 

রেকর্ডপত্র ঘেটে দেখা যায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পরিচালিত ‘নগদ’ এর অপারেটর ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড’ নামক ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। যৌথ মালিকানায় পরিচালিত এ ডিজিটাল পরিষেবা কার্যক্রমে ডাক বিভাগের (সরকারি) মালিকানা দেখানো হয়েছে ৫১ ভাগ। বাকি ৪৯ ভাগের দাবিদার ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি লি:।’ তানভীর আহমেদ মিশুক ‘নগদ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে ‘নগদ’ আর্থিক সেবার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। পরিচালন ব্যবস্থাপনায়ও ডাক বিভাগের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থনৈতিক বিষয়ে একতরফা কর্তৃত্ব ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:’ এর। ডাক সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে ডাক বিভাগে দুর্নীতি এবং নৈরাজ্যের নতুন স্মারক হচ্ছে এই ‘নগদ’।
রেকর্ড অনুসারে, ২০১৮ সালের নভেম্বর ডাক বিভাগের সঙ্গে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির এমওইউর’ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) আওতায় কার্যক্রম শুরু হয়। এটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পরিচালিত ‘পোস্টাল ক্যাশ কার্ড’ এবং ‘ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম (ইএমটিএস)’ নতুন সংস্করণ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনের বাইরে এ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে- পোস্টাল ভলিউম অনুযায়ী।
ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আর্থিক লেনদেনের অনুমোদন নেই ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:’-এর। কিন্তু সেবামূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেনের এখতিয়ার রয়েছে। এ এখতিয়ার কাজে লাগিয়ে ডাক অধিদফতর ‘ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস’ (ইএমটিএস) প্রকল্প শুরু করে। কিন্তু ব্যাপক দুর্নীতি, অদক্ষ পরিচালনা, বেসরকারি মানি ট্রান্সফার অপারেটরগুলোর সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণার অভাবে ডাকের এ সেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে।
বিকাশ লাভ করে ব্র্যাক ব্যাংক পরিচালিত ‘বিকাশ’। ‘বিকাশ’ এ কোনো গ্রাহক একদফায় ১৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করতে পারেন না। ডাক বিভাগের মোবাইল মানি-অর্ডারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি’ ডাক বিভাগের এ সুবিধাটি হাতিয়ে নেয় ‘নগদ’।
আর্থিক লেনদেনের আইনগত বৈধতা না থাকায় সওয়ার হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগের কাঁধে। ডাক বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র (বর্তমানে ছুটিতে পাঠানো মহাপরিচালক, চলতি দায়িত্ব) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থেই ‘নগদ’ পরিচালনার জন্য ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি’র সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডাক বিভাগের সঙ্গে ‘নগদ’ পরিচালনাকারী ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি’র লভ্যাংশের ভাগাভাগি হওয়ার কথা ৫১:৪৯ শতাংশ হারে। কিন্তু থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি ডাক বিভাগের সঙ্গে তাদের লভ্যাংশের মোট পরিমাণটিই খোলাসা করেনি। নিজেদের ইচ্ছেমতো নামমাত্র টাকা ডাক বিভাগকে দিচ্ছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ডাক বিভাগকে থার্ড ওয়েভ ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৬ টাকার চেক হস্তান্তর করে।
‘ডাক বিভাগের ২শ’ বছরের ইতিহাসে প্রথম আয়’ হিসেবে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয় এ বিষয়ে। অথচ এ ‘লভ্যাংশ’ কিভাবে নির্ধারণ হলো- সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। এর আগেও ডাক বিভাগকে নগদ কর্তৃপক্ষ কয়েক কোটি টাকার ‘লভ্যাংশ’ দিয়েছে বলে শোনা যায়। কিন্তু কথিত ‘লভ্যাংশের’র কোনো টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। ‘নগদ’র হিসেব-নিকাশেও রয়েছে অস্বচ্ছতা।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইনিশিয়াল অ্যাকাউন্ট কোড’ অনুযায়ী সিএন্ডএজি অর্থাৎ সিও, ডাক এবং মহাপরিচালক অডিট কর্তৃক ডাক বিভাগের হিসাব-নিকাশ ও অডিটের কাজসম্পন্ন করার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আশ্রয় নেয়া হয়েছে চাতুর্যের। ‘নগদ’ কর্তৃপক্ষের সাথে ডাক বিভাগের ৫১:৪৯ শতাংশের ভাগাভাগির বিষয়টি অডিট কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি। তাই ‘নগদ’র বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কোনো অডিটও হয়নি। ‘তাই থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি ‘নগদ’ থেকে কত টাকা মুনাফা করেছে, সেই মুনাফার কত টাকা ডাক বিভাগ বুঝে পেল সেটির কোনো হিসাব নেই। ডাক বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ‘নগদ’ সম্পর্কে ওয়াকিবহালও নন।
নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে ডাক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ডাক বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার করছে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:’। নিজেদের নগদ লেনদেনের কোনো বৈধতা না থাকায় কৌশলে ডাক অধিদফতরের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে নিয়েছে। ডাক বিভাগের আইনগত ভিত্তির ওপর ভর করে চলছে ‘নগদ’র অবৈধ লেনদেন। আইনজ্ঞদের যুক্তিতে এটি ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২’ সুস্পষ্টভাইবে অবৈধ এবং অপরাধমূলক।
৪৯ ভাগ মালিকানার হাতে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ : ‘নগদ’র ৫১ শতাংশ মালিক ডাক অধিদপ্তর। অথচ এর ব্যবস্থাপনা, আর্থিক বিষয়াদি, পরিচালনার শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:’। সরকারি আর্থিক বিধান অনুযায়ী পাবলিক-পার্টনারশিপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ডিরেক্টর্স হিসেবে সরকারের যুগ্ম-সচিব অথবা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে থাকেন। অথচ ‘নগদ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরর্স’ এ সরকারের কোনো প্রতিনিধিত্বই নেই।
ফলে ডাক বিভাগ তথা সরকারকে অন্ধকারে রেখে ‘নগদ’ কর্র্তৃপক্ষ স্বনির্ধারণী হারে মুনাফার হিসেব এবং লভ্যাংশ বিলি-বণ্টন করছে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সুধাংশু শেখর ভদ্র (এএস ভদ্র) ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির সঙ্গে অসম, অস্পষ্ট এবং অস্বচ্ছ এ চুক্তি সম্পাদন করেন। এ কারণে নগদ থেকে প্রাপ্য হিস্যা বুঝে নেয়ার বিষয়ে বৈরাগ্য প্রদর্শন করছেন। সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করে রেখেছেন অস্বচ্ছতা।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস ডাক মহাপরিচালককে ‘নগদ’র লেনদেনের বিষয়ে প্রতিমাসে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। কিন্তু ডাকের মহাপরিচালক (বর্তমানে ছুটিতে) এসএস ভদ্র কোনো প্রতিবেদনই মন্ত্রণালয়কে দেননি। সার্ভার জেনারেটর রিপোর্টের একটি কপিও ডাক বিভাগে প্রতিদিন জমা দেয়ার কথা।
কিন্তু ‘নগদ’ কর্তৃপক্ষ দুই বছরে একটি স্টেটমেন্টও ডাক বিভাগে জমা দেননি। এ বছর শুরুর দিকে ডাক মহাপরিচালকে চিঠি লেখে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ‘নগদ’ কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হয়, কিভাবে সরকার তার লভ্যাংশ পাচ্ছে- জানতে চাওয়া হয়। ডাক মহাপরিচালক ওই চিঠির কোনো জবাব দেননি। পরে ‘নগদ’কে ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’র আওতায় এনে সাময়িক অনুমতি দেয়। সেক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ রক্ষার্থে নগদে লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ হাজার থেকে নামিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়।
‘নগদ’র কত এজেন্ট জানে না ডাক বিভাগ : ‘ডিজিটাল পোস্ট অফিস’ এবং ‘নগদ’ কার্যক্রম পরিচালনার ৮ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল রয়েছে। ডাক অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) হারুনুর রশীদ এ সেলের প্রধান। গতবছর ৬ নভেম্বর মনিটরিং সেলের সভায় উল্লেখ করা হয়, ডাক বিভাগের ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড’ কর্তৃক পরিচালিত হলেও ‘নগদ’ সেবাটি ডাক বিভাগের ‘ডিজিটাল আর্থিক সেবা’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নগদের মাধ্যমে সকল লেনদেন ও লেনদেনকৃত সকল পাবলিক মানির পূর্ণাঙ্গ তদারকির সুযোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না।
সভার আলোচনায় আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত আর্থিক সেবা হওয়া সত্তে¡ও ‘নগদ’র মাধ্যমে প্রতিদিনকার লেনদেন ও স্থিতি কোন ধরনের হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত ও সঞ্চিত হয় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের কর্মকর্তাদের পদ্ধতিগত ধারণা নেই। ‘ডিজিটাল কারেন্সি’ ও পাবলিক মানির ব্যাপারে ধারণাগত স্পষ্টীকরণ ব্যতিরেকে মনিটরিং সেলের তদারকির কাঠামো তৈরি সম্ভব নয়।
সেলের প্রধান ডাক অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) মো. হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. মোস্তাক আহমেদ, ডাক অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. আজাদুল ইসলাম, মো. শাহ আলম ভুইয়া, মো. মাহফুজুর রহমান, খন্দকার শাহ নূর সাব্বির এবং মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভা থেকে জানা যায়, নগদ’র বিষয়ে ডাক বিভাগের একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থাকলেও এর কোনো অফিস নেই। নেই জনবল এবং নথি ব্যবস্থাপনা। লজিস্টিক কোনো সাপোর্টও নেই। দেশের পাড়া-মহল্লা, গলির মুখে ‘নগদ’র শত শত ডিলার এজেন্ট রয়েছে। কতগুলো এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা তার কিছুই জানেন না।
ডাক বিভাগ কি প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তাদের দিয়ে ‘নগদ’ লেনদেন মনিটর করছে-তাও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে রয়েছে ধোঁয়াশা। পক্ষান্তরে ‘নগদ’ পরিচালনায় কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে যাবতীয় জনবল নিয়োগ দিয়েছে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:’।
মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ‘আউট সোর্সিং’ করা হয়েছে ‘নগদ’র জনবল। ৮/১০ লাখ টাকা করে জামানত নিয়ে ডিলার-এজেন্ট-সাব-ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কিভাবে দেয়া হচ্ছে- তাও জানা যায় না। ডাক বিভাগের সুনাম ব্যবহৃত হচ্ছে, আইনত ডাক বিভাগের এখতিয়ার ব্যবহৃত হচ্ছে, আর্থিক লেনদেনের সকল দায় ডাক বিভাগের ঘাড়েই চাপছে অথচ ‘নগদ’র মাধ্যমে মানুষের কি পরিমাণ অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে ডাক বিভাগ তার কিছুই জানে না।
‘নগদ’র আর্থিক লেনদেন, বিজনেস পলিসি, জনবল নিয়োগসহ যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকছে ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:-এর পরিচালিত নিজস্ব সার্ভারে। এ সার্ভারে প্রবেশের পাসওয়ার্ড নেই ৫১ শতাংশের মালিক ডাক বিভাগের হাতে। ‘নগদ’র প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্মিত ‘ডাক ভবন’ এ। ডাক অধিদফতর থেকে ভাড়া নেয়া হয়েছে তিনটি ফ্লোর। মূলত: গ্রাহককে বিভ্রান্ত করতেই বেসরকারি ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে ডাক বিভাগকে এভাবে ‘সংযুক্ত’ করে।
ডাক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চুক্তির আওতায় থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লি:-এর ব্যবহার করছে দুইশ’ বছরের পুরোনো ডাক বিভাগের নাম। অন্যদিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের দায়-দায়িত্ব নিতে হচ্ছে ডাক বিভাগকে। বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি। লাখো গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন করতে পারে কি না-এ প্রশ্নটি আগে। যদি বৈধতা না থাকে তাহলে মানুষের লেনদেনকৃত অর্থের নিরাপত্তা কোথায়? এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লন্ডারিং হচ্ছে- কি না- এ প্রশ্নটিও চলে আসে। এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেকোনো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিজনেসে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। না হলে দুর্নীতির ক্ষেত্রটি অবারিত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ডাক অধিদফতরের ‘কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল’র সভাপতি মো. হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে সপ্তাহের বিভিন্ন সময় কল করা হয়। ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। এতে তিনি সাড়া দেননি। বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হয় ‘নগদ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির আহমেদ মিশুকের সঙ্গে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সজল জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার ব্যক্তিগত ই.মেলে প্রশ্ন পাঠানো হয়।
‘মেসার্স থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আপনার প্রশ্নগুলো আমরা দেখেছি। এগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য ডাক বিভাগের কাছ থেকে আমাদের অনুমোদন নেই। সুতরাং এখানে আমাদের বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই।’ তবে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) বাহিজা আক্তার গতকাল সোমবার ‘ইনকিলাব’কে বলেন, মাত্র আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখনও সবকিছু বুঝে উঠতে পারিনি। বিগত মহাপরিচালকের সময়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তিনি ভালো বলতে পারবেন।



 

Show all comments
  • Mobarok Hosen ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫০ এএম says : 0
    ইনকেলাব হচ্ছে একটা .... পত্রিকা , বিকাশ থেকে কত টাকা ঘুষ খেয়ে এই রিপোর্ট করেছে আল্লাহ জানে ।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdullah KM ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫০ এএম says : 0
    সরকারি কোনকিছুরই সেবা ভাল না
    Total Reply(0) Reply
  • Himel ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    ....সোলাইমান সুখন কই।এইবার পাবলিক তোমারে মোটিভেশন দিবে
    Total Reply(0) Reply
  • Reza Rahman ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    নগদ নামক বাটপারি ব্যাবসায় জড়িত আছে সোলাইমান সুখন ...
    Total Reply(0) Reply
  • Rubel Puthia ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    সরকারি বলে কথা
    Total Reply(0) Reply
  • Abir Islam ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    যেখানে সোলাইমান সুখন আছে সেই কোম্পানি গেছে
    Total Reply(0) Reply
  • GM Chonchol ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫১ এএম says : 0
    সরকারী খাত বলে কথা ,এর থেকে ভাল কিছু আশা করা যায়?
    Total Reply(0) Reply
  • Asanur Rahaman ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১:৫২ এএম says : 0
    ঠিক সন্ধ্যা বেলা এই কথাটাই ভাবছিলাম !!
    Total Reply(0) Reply
  • rimon ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৪৮ এএম says : 0
    তাহলে নগদে লেনদেন করা নিরাপদ না
    Total Reply(0) Reply
  • Rishad Araf ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৮:৪৫ এএম says : 0
    এটি অবশ্যই বিকাশের প্রচারণা।
    Total Reply(0) Reply
  • ARZU AHAMED ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৯:০৪ পিএম says : 0
    JODI AITA SHOTTI HOY JE NAGOTH AR MALIK GOVERNMENTS NOY,BORONG GOVT.AR KADHE BONDUK REKHE SHIKIE KORCE ONNO KONO SHIKARI JEMON TAILE ATA HOBE SHOKOL PROTARONAR মেসার্স থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড NAMOK BESHORKARI PROTISHTAN, TAR MANE NOGOTH AR DAY VAR GOVERNMENT NICCE NA,TAI NA ? R ATI JODI GOVERMENT ONUMODITHO BA GIVT.AR PROTISHTAN NAI HOY,TAILE AMRA JE NOGOTH AR LENDEN BA TK JOMAIA RAKHI THA JE SHOTHIK VABE FEROTH PABO TAR KI KONO GARAUNTY ACE KI ? JATHIR VIVEKER KACE AI PROSHNO ?
    Total Reply(0) Reply
  • শরিফ ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৫১ পিএম says : 0
    নিউজ লেখার কোনো মিল নেই, ভুয়া রিপোর্ট, বর্তমানে সকল মোবাইল ব্যাংকিং এর লিমিট এক, এখানে লেখছে বিকাশ ১৫০০০, আর নগদ ৫০০০০০ একদিনে লেনদেন, সাংবাদিক সাহেব আগে ভালো করে জেনে নিন তারপর রিপোর্ট করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম খাবেন না মাথায় দিবেন? ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৩৭ পিএম says : 0
    ডাক বিভাগ ঘুমিয়ে থেকে হঠাৎ জেগে ওঠা দেখেই সন্দেহ হয়েছিলো। আর ঘুমিয়ে থাকার সুযোগটাই নিছে ঐ ...........। ..............নিজের স্বার্থে চুক্তি করে টাকা খাচ্ছে।ডাক বিভাগও সরকারের সব লোকেরা ঠিকই টাকা পাচ্ছে। শুধু সরকারি হিসেবের খাতায় তুলে না। বুঝি সবই। খাই না তো সুজি
    Total Reply(0) Reply
  • নাম নাই ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১:৩১ এএম says : 0
    প্রথম থেকেই নগদে ঘাপলা আছে ধরে নিয়েছিলাম। তবে বিকাশ ও ডাকাতি করে ‌
    Total Reply(0) Reply
  • Pritom ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৫৩ পিএম says : 0
    bkash theke koto taka khaisen bhai. nagad ei 2 bochore jonogoner ki khoti korse? borong manush ke olpo taka cash out korar sujog diyeche.9.99 taka cash out charge korate bkash er market nosto hoitese. bkash voi paise. ar ei sonoato ghush khor report der diye report korachse.
    Total Reply(0) Reply
  • ইমরুল ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:৫৯ পিএম says : 0
    কি অাজব
    Total Reply(0) Reply
  • MD Al-Amin ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৯:০৪ এএম says : 1
    ভাই বাংলাদেশের একমাত্র নিরাপদ মোবাইল ব্যাংকিং হল (রকেট)
    Total Reply(0) Reply
  • মো অাতিকুর রহমান মুন্না ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:০০ এএম says : 0
    ডাক বিভাগের নগদ। জনগণের পাশে তেকে ভাল সার্ভিস দিছে। কম খরছে। বিকাশ শত শত মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তা কোন হিসাব নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Robiul islam ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৩:২৯ পিএম says : 0
    আসল কোনটা নকল কোনটা, কিছুই বলতে পারছি না,যদি এটি গ্রাহকদের জন্য সেফটি না হয়,,,তাহলে ভালো একটা পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে,,,,নগদ গ্রাহকদের ভালোই সেবা দিয়ে আসছে,,, আমি তাদের পক্ষে কথা বলবো, কারন বিকাশ সেবার নামে মানুষের কটি কটি টাকা লুটপাট কীতাছে,,,নগদ এর সরকারি কোনো ইসু থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করুন,,,,, নগদ আমাদেরকে ভালোই সহায়তা প্রদান করেছে,,,, এটি গ্রাহকদের জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • Robiul islam ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৩:৩০ পিএম says : 0
    আসল কোনটা নকল কোনটা, কিছুই বলতে পারছি না,যদি এটি গ্রাহকদের জন্য সেফটি না হয়,,,তাহলে ভালো একটা পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে,,,,নগদ গ্রাহকদের ভালোই সেবা দিয়ে আসছে,,, আমি তাদের পক্ষে কথা বলবো, কারন বিকাশ সেবার নামে মানুষের কটি কটি টাকা লুটপাট কীতাছে,,,নগদ এর সরকারি কোনো ইসু থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করুন,,,,, নগদ আমাদেরকে ভালোই সহায়তা প্রদান করেছে,,,, এটি গ্রাহকদের জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • রহমান রাসেল ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৬:১৭ পিএম says : 0
    চমৎকার প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনের ফলে আসল সত্যটা বের হবে আশা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • রহমান রাসেল ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৬:১৮ পিএম says : 0
    চমৎকার প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনের ফলে আসল সত্যটা বের হবে আশা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Shahin chowdhury ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৪৩ পিএম says : 0
    বিকাশ এর চেয়ে নগদ এর সূবিধা ভালো
    Total Reply(0) Reply
  • মোস্তফা কামাল ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৬ পিএম says : 0
    ঠিক বুঝলামনা, বাঁকিতে চলছে নগদ। নগদ কি কাউকে বাঁকিতে টাকা দেয় বা কারো কাছ থেকে টাকা নেন বিষয়টি পরিস্কার নয়। আপনি রিপোর্ট করেছেন ডিলার,এজেন্ট, সাব ডিলার কাছ থেকে ৮ /১০ লক্ষ জামানত নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছে। আপনি কি সেটা প্রমান করতে পারবেন। আপনার রিপোর্টে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য ভুল বানোয়াট মনগড়া। তথ্য ভালো করে যাচাই-বাছাই না করে ডাক বিভাগের মতো ২০০ বছরের ঐতিহ্য সরকারি প্রতিষ্টানের উপর আংগুল তুলতে পারেন না।আপনি উদ্যোক্তা এবং ডিষ্ট্রিবিউটারদের সংগে ইন্টারভিউ না করে কি করে উল্লেখ করেন ৮/১০ লক্ষ টাকা জামানত নেওয়া হইছে।আমিওতো একজন ডিষ্ট্রিবিউটর কই আমার কাছ থেকে এত টাকা জামানত নেওয়া হয়নি। "নগদ " ক্যাশ আউট চার্জ ৯.৯৯ পয়সা করাতে আপনাদের যত চুলকানি। প্রতি হাজারে ১৮.৫০ পয়সার দিন শেষ, ভালো কাজে উৎসাহ দিন। অন্যের দালালি করবেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • Feroz ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১০:০৮ পিএম says : 0
    যখন মানুষ বিকাশ এর চাইতে কম খরচে,নগদে আর্থিক লেনদেন সুবিধা পাচ্ছে। এবং গত 100 বছরের ইতিহাসের মধ্যে ডাক বিভাগ ও লাভবান হচ্ছে। এটা দেখে আমার মনে হয় বিকাশ কোম্পানির পাছায় আগুন জ্বলছে। তাই এমন প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Feroz ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১০:০৭ পিএম says : 0
    যখন মানুষ বিকাশ এর চাইতে কম খরচে,নগদে আর্থিক লেনদেন সুবিধা পাচ্ছে। এবং গত 100 বছরের ইতিহাসের মধ্যে ডাক বিভাগ ও লাভবান হচ্ছে। এটা দেখে আমার মনে হয় বিকাশ কোম্পানির পাছায় আগুন জ্বলছে। তাই এমন প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Kabir Ahamed Parvej ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৫১ এএম says : 0
    Mobile Banking Er,,,,,Khetre (Rocket) is Best......
    Total Reply(0) Reply
  • ফিরোজ ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ৭:৪৪ পিএম says : 0
    বিপদজনক নগদ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ