Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করলেন মুশফিকা-মোবাশশারা মোস্তফা

রাতেই নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

মুশফিকা মোস্তাফা এবং মোবাশশারা মোস্তফাকে পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার পুঁজার ছুটির দিন সন্ধ্যার পরপরই আদেশ দিলেন আদালত। বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর এই দুই বোনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে মর্মে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এবং টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশিত হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন। আদেশটি গতকাল রাতেই গুলশান থানা পুলিশকে টেলিফোনে অবহিত করেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান।
এর আগে ‘অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেনকে দেখাশোনা করতে এসে সম্পত্তি দখল!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় একটি জাতীয় দৈনিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (পাইলট) মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ। তাকে দেখাশোনার নাম করে ৬ বছর আগে রাজধানীর গুলশানের একটি বাড়িতে প্রবেশ করেন এক ভারতীয় নারী। ১০ অক্টোবর ওই কর্মকর্তা মারা যাওয়ার পর শতকোটি টাকার সম্পত্তি নিজের দখলে নিয়ে যান অঞ্জু কাপুর না¤œী ওই নারী।
১০ কাঠা জামির ওপর নির্মিত তিনতলা বাড়ির প্রকৃত মালিক বিমানবাহিনীর মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ। ওয়াহিদের জীবদ্দশায় অঞ্জু কাপুর নিজেকে ওয়াহিদের স্ত্রী দাবি না করলেও এখন বলছেন, ওয়াহিদ তার স্বামী ছিলেন। তার স্বামী তাকে বাড়িটি লিখে দিয়ে গেছেন। যদিও তার বক্তব্যের সমর্থনে কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অঞ্জু। ওয়াহিদের কোনো ছেলে নেই। তার দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা এবং মোবাশশরা মোস্তফা। তাদে ওই বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না অঞ্জু। বাবার স্মৃবিজড়িত বাড়িতে এই দুই বোন প্রতিদিনই বাড়ির গেটে গিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু মেইন গেট ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের এই ইচ্ছাটুকুও পূরণ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মোবাশশারা-মুশফিকা।এ বিষয়ে গত শনিবার গুলশান থানার ওসির কাছে একটি চিঠি দেন তারা। এতে উল্লেখ করেন গুলশান-২ নম্বরের ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি তাদের বাবার। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ১০ অক্টোবর মোস্তফা জগলুল হায়দতার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। মোবাশশারা ওই সময় আমেরিকায় স্বামীর বাড়িতে ছিলেন। মুশফিকা গুলশানেই ছিলেন। বাবার লাশ দাফনের পর মুশফিকা ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে অঞ্জু কাপুর নামের মহিলা তাকে বাধা দেয়। এ কারণে তিনি বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে মোবাশশারা তার স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। কিন্তু তাদেরকেও বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গুলশান থানায় ১২ এবং ১৪ অক্টোবর পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শনিবার দুই বোন ফের ওই বাড়িতে গেলে অঞ্জু কাপুর ভেতর থেকে মেইন গেট বন্ধ করে রাখেন। দিনভর বাড়ির গেটের সামনে অপেক্ষা করেও বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। মুশফিকা বলেন, এই বাড়িটি একটি মিনি জাদুঘর। এখানে অন্তত: ৫০ কোটি টাকার দুর্লভ সামগ্রী রয়েছে। তার অভিযোগ,অনেক জিনিসপত্র ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মোবাশশারা মোস্তফা জানান, ২০০৪ সালে বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০০৫ সালে মায়ের সঙ্গে আমার বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১৪ সালে আমরা দুই বোন দেশের বাইরে ছিলাম। এ সময় আমার বাবা টায়ফয়েডে আক্রান্ত হন। তখন তাকে দেখাশোনার জন্য অঞ্জু কাপুর এ বাড়িতে আসেন। এরপর থেকে তিনি বাবাকে দেখাশোনার জন্য বাবার সঙ্গে এই বাড়িতেই থাকছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি পুরো বাড়িটিতে একাই থাকছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আমার বিয়ে হয়। এরপর থেকে আমি আমেরিকায় স্বামী ইভগেনী রহমানের বাড়িতে থাকি। দেশে এলে এ বাড়িতেই উঠতাম। আমার বোন মুশফিকা গুলশানে মায়ের সঙ্গেই থাকেন। তবে মাঝেমধ্যে এ বাড়িতে আসতেন। কিন্তু এখন বাবার স্মৃবিজড়িত বাড়িটির ভেতরে প্রবেশের অধিকারও আমাদের নেই। মুশফিকা বলেন, অঞ্জু কাপুরের দাবি অনুযায়ী, আমার বাবা তাকে বিয়ে করেছেন। প্রকৃতঅর্থে অঞ্জু কাপুরের সঙ্গে আমার বাবার বিয়ে হয়নি। কারণ এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
এদিকে প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন। আদেশে আদালত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ওই বাড়িতে পুলিশ প্রহরনা বসাতে বলা হয়। আগামি ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় অঞ্জু কাপুর, মুশফিকা মোস্তাফা এবং মোবাশশারা মোস্তফাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির হতে বলা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাইকোর্ট

১ ডিসেম্বর, ২০২০
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন