Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

রামগতিতে এবার সুপারির বাম্পার ফলন

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩২ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। সুপারির মোকামগুলোতে খুছরা পাইকারি কেনা-বেচায় ব্যস্ত চাষি ও পাইকাররা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনে উপযোগী। এ জনপদের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে সুপারির গাছ নেই। এ ছাড়া বিশাল-বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুপারির বাগান। সুপারির বাগান করে উৎপাদন করা হচ্ছে শত কোটি টাকার সুপারি। বাজার দর ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের।তবে নদী ভাংগার কারনে দিন দিন সুপারির চাষ ও কমে যাচ্ছে। মানুষের ঘরবাড়ী ভিটিমাটি নদীর কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার কারনে চাষ করার মত তেমন জায়গা এখন আর নেই। নদী ভাংগনের ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে বসতবাড়ী ও সুপারির চাষ।
রামগতি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এখানকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার এ উপজেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এতে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারি পুরোপুরি পাকে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। মূলত কার্তিক মাস আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। তবে এবার সময়ের আগেই বাজারে এসেছে সুপারি। এবার আশ্বিন মাসের শেষের দিকে বাজারে আসতে শুরু করে সুপারি।
এখন উপজেলার প্রতিটি বাজারেই প্রচুর পরিমাণে সুপারি আসছে। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ শতাংশ নদীনালা, খালডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি চৌবাচ্চায় ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষি, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা সুপারির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সুপারি বিক্রির মোকাম উপজেলার আলেকজান্ডার, রামদয়াল বাজার,বিবিরহাট,রামগতি বাজার,আযাদনগর,হাজিগন্জ,বান্দেরহাট,জমিদারহাট,চরসেকান্তর ও আশ্রম সহ উপজেলার প্রতিটি বাজারে সুপারিকে ঘিরে চলছে জমজমাট ব্যবসা।
স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদা মতো সুপারি স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রতি পোন সুপারি (৮০টি) মানভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, প্রতি কাউন (১২৮০টি) ২৫ শ টাকা থেকে দুই হাজার ৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।তবে এবার বাজারে সুপারির দাম অন্যন্য বছরের তুলনায় বেশী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, নদী ভাংগার কারনে এ বছর সুপারির আবাদ অনেক কম হয়েছে।রামগতিতে ছোট বড় মিলিয়ে বর্তমানে ৪৮ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। আর এসব বাগানে এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ১২০ মেঃটন সুপারি। এ মৌসুমে উৎপাদিত সুপারির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাম্পার ফলন

২৫ অক্টোবর, ২০১৮
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন