Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতি উন্নয়নে কৃষি ব্যাংকের নানামুখি পদক্ষেপ

গত অর্থবছরে ৭৬১ কোটি টাকার কৃষি ও শষ্য ঋন বিতরন

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১২ পিএম | আপডেট : ৪:২৫ পিএম, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলার পল্লী এলাকার কৃষকদের মাঝে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গত অর্থ বছরে ৭৬১ কোটি টাকা কৃষি ও শষ্যঋন বিতরন ছাড়াও সরকারের করোনাকালীন প্রনোদনার আওতায় ‘পুণঃ অর্থায়ন কর্মসূচী’তে মাত্র ৪% সুদে আরো প্রায় ২শ কোটি টাকা বিতরন করেছে। এ অঞ্চলের ৪২টি উপজেলার ১২৯টি শাখার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কৃষক সহ সাধারন ঋন গ্রহিতা কৃষি ব্যাংক থেকে সরকার নির্ধারিত সুদে ঋন গ্রহন করছেন। রাষ্ট্রীয় এ ব্যাংকটির ১০৯টি পল্লী শাখা ও ২০টি আরবান শাখার মধ্যেইতোমধ্যে ৫৬টি শাকা ইতোমধ্যে অন লাএন চলে সংযূক্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি সহ সার্বিক অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে আসছে কৃষি ব্যাংক। এমনকি প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য ও প্রায় ৩ লাখ টন মাছে উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলের আর্থÑসামাজিকব্যবস্থায় কৃষিব্যাংকের গুরুক্বপপূর্ণ ভ’মিকা রয়েছে বরে মনে করচেন অর্থনীতিবীদন। গত মার্চের শেষভাগ থেকে করেনাকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় এ ব্যাংকটি দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন একাধীক অর্থনীতিবীদ।
গত অর্থ বছরে ব্যাংকটি দক্ষিণাঞ্চলে ৫০৯ কোটি টাকা বকেয়া ঋনও আদায় কয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৫%-এর বেশী বলে জানা গেছে। পাশাপাশি চলতি অর্থ বছরে কৃষি ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে এক হাজার ২৫২ কোটি টাকা কৃষি ও শষ্যঋন সহ বিভিন্ন ধরনের ঋন বিতরনের নতুন কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নেমেছ। অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিক,জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ঋন বিতরন সম্পন্ন হয়েছে বলে ব্যাংকটির বরিশাল বিভাগীয় প্রধান নির্বাহী ও জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন।
তবে এখনো দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের কাছে পায় ২ হাজার ২শ কোটি টাকার কৃষি ও শষ্যঋন সহ বিভিন্ন ধরনের ঋন অনাদায়ী রয়েছে। যার একটি বড় অংশই দ্বীপ জেলা ভোলাতে। এ দ্বীপ জেলার চাারদিকে বেষ্টিত মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ভাঙনে হাজার হাজার কৃষক সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বাস্তুুচ্যুত হয়ে পড়ায় তাদের অনেকেরই খোজ মিলছেনা। যাদের অস্তিত্ব বর্তমান রয়েছে, তারাও কৃষিজমি সহ ঘরবাড়ি নদী গর্ভে হারিয়ে ইতোমধ্যে রিতিমত উদ্বাস্তুতে পরিনত হয়েছেন। ফলে নিত্য অভ’ক্ত ঐসব বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছ থেকে বকেয়া ঋন আদায় দুরুহ হয়ে পড়েছে। তবে এসব কিছুর পরেও দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বকেয়া আদায়ে ইতোপূূর্বে দায়ের করা প্রায় সাড়ে ৩হাজার সার্টিফিকেট মামলা ছাড়াও অর্থ ঋন আদালতে প্রায় আড়াইশর মত মামলা চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কৃষি ব্যাংক করোনা কালীন সময়ে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পূণঃ অর্থায়ন কর্মসূচীর আওতায় ৪% সুদে ঋন কার্যক্রম চলমান রয়েচে। এ কর্মসূচীর আওতায় কৃষি ব্যাংক সারা দেশে যে ১২শ কোটি টাকা ঋন বিতরন করছে তার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম পর্যায়ে ১০৫ কোটি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৮৫ কোটি টাকা বিতরন সম্পন্ন হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কৃষক সহ বিভিন্ন ধরনের গ্রহিতাকে এপর্যন্ত ঋন বিতরন করেছে কৃষি ব্যাংক। তবে মারাত্মক জনবল সংকট নিয়ে চলছে রাষ্ট্রীয় বিশেষায়িত এ ব্যাংকটি। দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার ১২৯টি শাখা সহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক অফিসগুলোর জন্য মঞ্জুরীকৃত প্রায় সাড়ে ১৬শ জনবলের মধ্যে বর্তমান কর্মরত আছেন মাত্র ৯৮০ জনের মত। এ সমস্যা বিষয়টি ব্যাংকটির বরিশাল বিভাগীয় জিএম স্বীকার করে জানান, এসব বিষয়ে সদর দপ্তর অবগত আছে পরিস্থিতি উত্তরনে পদক্ষেপও গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ