Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা জাহানের নবী

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

পিয়ারা নবী মোহাম্মাদ মুস্তাফা আহমাদ মুজতাবা (সা.) সারা জাহানের নবী, বিশ্বনবী। এ হাকীকতটি মহান আল্লাহপাক এভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে : হে প্রিয় হাবীব (সা.)! নিশ্চিয়ই আমি আপনাকে বিশ্ব মানবের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। (সূরা সাবা : ২৯)। এ আয়াতে কারীমায় উল্লেখিত ‘কাফ্ফাতান্’ শব্দের দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রিয়ারা নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) সমগ্র জিনজাতি, সমগ্র মানবজাতি, আরবি এবং আজমী, অতিতের, বর্তমানের এবং ভবিষ্যতের সকলের জন্যই তিনি নবী। আল্লামা মোজাদ্দেদে মিল্লাত আশরাফ আলী থানুবী (রহ:)।

রাসূলে পাক মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাবুওয়াত ও রিসালাতের ব্যাপ্তি ও পরিধিকে মহান রাব্বুল আলামীন এভাবে তুলে ধরেছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : হে প্রিয়নবী (সা.)। ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। এবং নির্দেশক্রমে তাঁর পথে আহ্বানকারী ও প্রোজ্জল প্রদীপরূপে। আপনি মুমিনদের শুভসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য মহান ফজিলত ও অনুগ্রহ রয়েছে।’ (সূূরা আহযাব : আয়াত ৪৫-৪৭)। এই আয়াতে কারীমায় সাইয়্যেদুল মুরসালীন মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সিরাজামমুনীরা’ অর্থাৎ প্রোজ্জল প্রদীপরূপে বিশেষিত করা হয়েছে।

এই বিশেষণটি আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বিশ্ব জগতের কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেননি। কারণ, এই বিশেষণটি হাবীবে কিবরিয়া মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) এরই প্রাপ্য। তিনিই হলেন আল্লাহপাকের গুনাবলির মূর্ত প্রকাশ। তিনিই মানুষকে শিখিয়েছেন : ‘তোমরা আল্লাহর গুণাবলি অবলম্বন কর’। তাই, মানুষ তার সীমিত মানবীয় পরিমন্ডলের মধ্যে থেকেও তার যাবতীয় মানবীয় দূর্বলতা সাথে নিয়ে আল্লাহর যতসব আখলাক ও গুণের প্রতিচ্ছবি সিরাজামমুনীরার মাধ্যমে নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে সক্ষম। মানুষ কখনো আল্লাহ হতে পারবে না। কিন্তু পৃথিবীর সিরাজামমুনিরার পরশ পেয়ে আল্লাহর গুণাবলির প্রকাশ ঘটাতে পারবে।

এই সক্ষমতাটুকু সিরাজামমুনীরার পরস্পর ধন্য প্রতিনিধিদের মাঝে বিদ্যমান আছে। আল্লাহপাকের সাচ্চা প্রতিনিধিশীল দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্পন্ন করার এটাই একমাত্র উপায়। এভাবে মানুষ যদি প্রকৃতই নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি মনে করতে থাকে এবং আল্লাহর গুণাবলিকে সিরাজামমুনীরার প্রোজ্জল প্রদীপের কিরণে খুঁজতে থাকে ও একে নিজের জীবনের মানদন্ড বানিয়ে নেয়, তাহলে তার উন্নতী, অগ্রগতির ক্রম ধারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং তার প্রতিনিধিত্বের আমলে পৃথিবীর সুখ ও প্রাচুর্যের রূপ কেমন হবে, তা’ কল্পনার তুলিতে ফুটিয়ে তোলা যাবে না। আর যাবে না বলেই, আল কোরআন মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি, এই পৃথিবীর পরিচালনায় আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত এবং এই বৃহত্তর ওয়াকফ স্টেটের মুতাওয়াল্লী ঘোষণা করেছে। মানুষের সম্মান ও মানবতার উত্থান এরচেয়ে অধিক আর কিছু হতে পারে না।

এই বিশেষত্বটিই আল্লাহর বাণী সিরাজামমুনিরার মাঝে মূর্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। একটি প্রোজ্জল প্রদীপের সংস্পর্শে এসে লক্ষ-কোটি আলোহীন প্রদীপ সমুজ্জল হয়ে উঠলে অথবা হতে থাকলে প্রোজ্জল প্রদীপের আলোর মাঝে কোনো কালেই কমতি দেখা যায় না। এজন্যই পিয়ারা নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সিরাজামমুনিরা বিশেষণে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। তাই তো মরমী কবি শেখসাদী (রাহ.) দরদ ভরা কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন : ‘বাদ আজ খোদা বুযুর্গ তু-ই কিসসা মুখতাছার’।



 

Show all comments
  • Farhana Hossain ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১:৩৩ এএম says : 0
    "রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন।" #Boycott_France. #Boycott_everything_of_France. #ShameOnFrance #WeLoveMohammadﷺ #WeFollowMohammadﷺ #La_ilaha_illallahu_muhammadur_rasulullah "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।" (সূরা আহযাব : ৫৭)
    Total Reply(0) Reply
  • Muhammad Rayhan ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৩ এএম says : 0
    জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপের মরু সাহারায় সে বসন্তে যে গোলাপ ফুটল, তার সৌরভে বিশ্বজগৎ বিমোহিত হলো। সে অনিন্দ্যসুন্দর ফুলের ঘ্রাণে সম্মোহিত হলো সমগ্র দুনিয়া। সে ফুলের রঙে রঙিন হলো আরব-অনারব, সাদা-কালো সব মানুষ; সব বিভেদ ভুলে একত্র হলো এক কাতারে। সৃষ্টির সেরা সে অনুপম অপরূপ অতুল ফুলের নাম মুহাম্মদ রাসুল (সা.)।
    Total Reply(0) Reply
  • মমতাজ আহমেদ ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৪ এএম says : 0
    সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, আখেরি নবী, আল্লাহর হাবিব, প্রিয় রাসুল (সা.) জগৎ থেকে দূর করলেন বর্ণবাদ, জাতিভেদ, ভৌগোলিক বিভেদ ও কুল-মানের ব্যবধান। সব মানুষকে গ্রন্থিত করলেন একই সূত্রে, সবাইকে আসীন করলেন ভ্রাতৃত্বের মর্যাদার সমাসনে। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মানদণ্ড নিরূপণ করলেন সত্য বিশ্বাস, সুচিন্তা ও সত্কর্ম সম্পাদন। প্রচার করলেন শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য, সাম্য, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বাণী। স্থাপন করলেন কল্যাণময় সমাজব্যবস্থা, স্থিতিশীলতা ও সৃজনশীল উন্নয়নের নতুন ধারা। সম্মিলন ঘটালেন ধর্ম ও কর্মের। মানুষকে অধিষ্ঠিত করলেন মানবীয় মর্যাদার আসনে। পূর্ণতা দিলেন মানবীয় সদ্‌গুণাবলির।
    Total Reply(0) Reply
  • শাহীন হাসনাত ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৪ এএম says : 0
    সভ্যতার বিকাশে, মানবজাতির উন্নয়নে, মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে তাঁর অবদান সর্বাধিক। তাই সারা বিশ্ব তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। অনন্ত দরুদ ও সালাম তাঁর প্রতি এবং তাঁর আহলে বাইত, সব সাহাবির প্রতি ও সব সৎকর্মশীল ন্যায়পরায়ণ একনিষ্ঠ অনুসারীদের প্রতি।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ইসলাম ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৬ এএম says : 0
    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমেই এ পৃথিবীতে মহান আল্লাহর তাআলার শাশ্বত দ্বীন পৃথিবীতে পরিপূর্ণতা লাভ করে। হজরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে লক্ষাধিক নবী-রাসুল প্রেরণ ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেরণের ভূমিকাস্বরূপ, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে মানবজগতে মহান আল্লাহ তাআলার দ্বীন পরিপূর্ণতায় পৌঁছে। এই শাশ্বত দ্বীনের প্রথম রশ্মি উদ্ভাসিত হয় সমগ্র পৃথিবীর মধ্যমণি ও কেন্দ্রস্থল মক্কাতুল মোকাররমা থেকে। সেখানেই প্রেরিত হন মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সেখান থেকেই এ আলো ছড়িয়ে দেন বিশ্বময়।
    Total Reply(0) Reply
  • মাওলানা মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৬ এএম says : 0
    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন বিশ্ব তথা মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে।
    Total Reply(0) Reply
  • নুরজাহান ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:০৭ এএম says : 0
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীনে অটল থাকার তাওফিক দান করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • saiful ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৫০ এএম says : 0
    সন্মানিত লেখক সাহেব এবং ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট সকলকে এত উত্তম লেখার জন্যে এবং তা প্রকাশ করে আমাদেরকে পড়ার তৌফিক করে দেয়ার জন্যে আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দেবে। আল্লাহ্‌ যেন আমাদেরকে তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) সিরাজুম-মুনিরার আলোকে তাঁর রহমত দিয়ে আলোকিত করেদেন এবং তাঁর উসিলায় আমাদেরকে দুনিয়ায় আখেরাতে কামিয়াবদের দলভুক্ত করেন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২৮ নভেম্বর, ২০২০
২৭ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ