Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গাজীপুরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়েছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৪৩ পিএম

চাটাই আতঙ্কে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় তারা অপর একটি কারখানায় ভাঙচুর চালায় এবং বেশ কিছু গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় দিগন্ত সোয়েটার কারখানায় বুধবার সকালে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশেপাশের বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, দিগন্ত সোয়েটার কারখানায় জ্যাকার মেশিন বসানোকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে সম্প্রতি ছাঁটাই আতঙ্ক দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। মঙ্গলবার মালিক পক্ষ পুলিশের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়।


কিন্তু আজ বুধবার সকালে শ্রমিকরা দিগন্ত কারখানায় কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সেকশনে মেশিনের লাইট, মেশিন ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা আন্দোলনে নেমে নির্বিচারে ভাঙচুর চালায় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মিছিল বের করে পার্শ্ববর্তী কোস্ট টু কোস্ট কারখানায় হামলা চালায়।

এ সময় তারা কারখানার মূল ফটক ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা ভবনের কাঁচ, আইটি সেকশনের কম্পিউটার, মেশিনপত্র ভাঙচুর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি বাইরে ফেলে দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপসহ অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় পথচারীসহ অন্তত ১০জন আহত হন। আহতদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করে এবং তাদের সড়ক থেকে হটিয়ে দেয়। শ্রমিকরা আন্দোলন ছেড়ে চলে গেলে সকাল ১০টার দিকে সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আশেপাশের কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মেশিনপত্র তছনছ করেছে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ৮টার দিকে তারা আন্দোলনে নামেন। এ সময় শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে।

 

দিগন্ত সোয়েটার কারখানার নিটিং সেকশনের শ্রমিক মোরশেদ আলম জানান, মালিকপক্ষ কারখানায় জ্যাকার মেশিন বসিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়েরর পায়তারা শুরু করে। একপর্যায়ে কারখানার ১৮শ' শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে তারা আন্দোলনে নামেন। পরে গতকাল পুলিশের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সমঝোতা হয়। কিন্তু সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে তাদের মেশিনপত্র ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান।

মালিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ মেশিনপত্র ভাঙচুর করে শ্রমিকদের ফাঁসিয়ে দিচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন খবরে শ্রমিকদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়কে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে, যোগ করেন শ্রমিক মোরশেদ আলম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ । এতে বলা হয়, ‘যে ফ্লোরে যেদিন কাজ শেষ হবে তার একদিন পর চলতি মাসের পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর কাজের অর্ডার পাওয়া যাবে। তখন সকলকে কাজে যোগদানের জন্য ফোন করা হবে। ছুটিকালীন সময়ে শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে ২৫ নভেম্বর ও ২৭ ডিসেম্বর। ছুটির পর কাজে যোগ দেওয়ার সময় শ্রমিকদের আইডি কার্ড হস্তান্তর করা হবে। প্রত্যেককে কারখানা খোলার সময় যোগদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। কর্মরত শ্রমিকদের নাম ও কার্ড নম্বরের তালিকা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে।’

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, দিগন্ত সোয়েটার কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের ঝামেলার কারণে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়

৫ ডিসেম্বর, ২০২০
৩ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ