Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

প্রিয় মহানবীর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ীর মসজিদে মসজিদে খুৎবায় ইমামদের ক্ষোভ, নিন্দা

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ৫:০০ পিএম

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিভিন্ন মসজিদে খুৎবায় খতিবগণ বলেন, চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের উপর পাশবিক নির্যাতনসহ ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানাই। মহানবী (সা.) এর আদর্শ পূর্ণ অনুসরণেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। রাসূলুল্লাহর (সা.) জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সারা বিশ্বে এই আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আজও পৃথিবী হবে শান্তির এবং বসবাসযোগ্য। মসজিদে জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম ও খতিবরা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব শাহ সুলতান ( রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাইখ মাও মোঃ দুরুল হোদা বলেন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ফ্রান্স নবী সাহেবের যে অবমাননা করছেন তার দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এর তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে যেন আর কোন রাষ্ট্র এ ধরনের কাজ করার সাহস না পাই। তিনি আরও জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, মহান আল্লাহর পর যিনি সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী তিনি হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। রাস্তায় চলার সময় পাহাড়,বৃক্ষ ও পাথরও তাঁকে সালামের হাদিয়া পেশ করে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় চন্দ্র পর্যন্ত দ্বি-খন্ডিত হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামীন তাঁকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত করে প্রেরণ করেছেন। কাল ক্বিয়ামতের দিন যখন সবাই চিৎকার করবে নাফসী নাফসী করে তখন তিনি কাঁদবেন উম্মাতী উম্মাতী করে। তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর উম্মত হতে পারা আমাদের জন্য এক পরম সৌভাগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়। আর তাঁর প্রতি কোনরূপ বিদ্বেষ পোষণ করা অপরিণামদর্শিতা বৈ আর কিছুই নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ফরমান তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ, জিব্রাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরা তাহরীম, আয়াত-৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, নবী আমার! বিদ্রপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে আমি একাই যথেষ্ট। (সূরা হিজর,আয়াত-৯৫)। মাওলানা আফেন্দী আরো বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাসূল (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে চরম ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সম্মান সুরক্ষিত না থাকলে আমাদেরও বেঁচে থাকার কোন স্বার্থকতা নেই। সি এন্ড বি জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ কারী মিম ওবাইদুল্লাহ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করা এটা কোন মসুলমান সহ্য করতে পারেন না।

নবীর বিরুদ্ধে চীন ফ্রান্সসহ কয়েকটি রাষ্ট অপপ্রচার করছেন। নবী সাহেবের পুরো জীবনীর ওপর সারগর্ভ আলোচনা করেন। তাতে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই বিশ^বাসীর জন্য অনুসরণীয়। ছোটবেলায় দুধ মাতা হালীমার এক স্তনের দুধ পান করে তিনি বিরল ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তরুণ বয়সে হিলফুল ফুযুলে নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে তৎকালীন আরবে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন। পঁচিশ বছর বয়সে আম্মাজান খাদীজা (রা.) কে বিয়ে করে নারীদের অধিকারকে সমুন্নত করেন। এছাড়া ধনাঢ্য খাদীজা (রা.) এর সমস্ত সম্পদ গরীবকে বিলিয়ে দিয়ে মানবতার মহানজিরও স্থাপন করেন। চল্লিশ বছর বয়সে মহান আল্লাহর গভীরতর নৈকট্য পেতে হেরাগুহায় ইবাদত-বন্দেগিতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীপ্রাপ্ত হন। ওহীপ্রাপ্তির পর তা পথহারা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য হন্যে হয়ে ছুঁটতে থাকেন। মক্কার কাফেররা বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে এই নতুন ধর্মকে একটুও মেনে নিতে চাইলো না। নানান ধরনের রাজকীয় লোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি কাফেররা অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকে প্রিয় নবীর ওপর। এরপরও ওরা প্রিয়নবীকে সত্য ও সুন্দরের প্রচার থেকে একটুও বিরত রাখতে পারেনি। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় মহানবী (সা.) মদীনায় হিজরত করেন। স্বল্পসংখ্যক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরে জিহাদ পরিচালনা করে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান ও অটল তাওয়াক্কুলের প্রমাণ দেন তিঁনি। মদীনা সনদের মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ঐক্য স্থাপন করেন এবং অনুপম নেত্বত্বের পরিচয় দেন। হুদায়বিয়ার সন্ধিতেও বিরল ত্যাগ ও সুদূরপ্রসারী বিজয়কৌশলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অবশেষে বিনা রক্তপাতে শুধুমাত্র সাম্য, মানবতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে পবিত্র নগরী মক্কা বিজয় করেন মহানবী (সা.)।



 

Show all comments

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নিন্দা


আরও
আরও পড়ুন