Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দালালদের দৌরাত্ম্যে মিলছে না চিকিৎসাসেবা অসহায় সাধারণ মানুষ

প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এমপির নির্দেশের পরও উন্নতি হয়নি
তানোর (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা

রাজশাহীর তানোর উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে জনবল সঙ্কট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে স্বাস্থসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এছাড়াও রোগী ধরা দালাল ও ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের চরম দৌরাতেœ্য রোগীরা সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ক্লিনিকের দালালদের কাছে জিম্মি হয়ে উঠেছে পুরো হাসপাতালের একশ্রেণীর চিকিৎসকের যোগসাজশ থাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য চরমে উঠেছে। এদিকে, এসব চিকিৎসকরা কমিশনের আশায় হাসপাতালে কোনো রোগী আসামাত্র তাদের কমপক্ষে তিন থেকে চারটি পরীক্ষার জন্য সেফা নামের নির্দিষ্ট ওই ক্লিনিকে পাঠায়। আর পঞ্চম শ্রেণী পাস ক্লিনিক মালিক আরিফুল ইসলাম এসব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট প্রদানের নামে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যার একটি বড় অংশ পাচ্ছেন চিকিৎসকরা বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। হাসপাতালটি ২৯ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি স্বাস্থ্যসেবার মান। এখানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অনেকটা সোনার হরিণ। হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক নিয়মিত অফিস করেন না, আবার টাকা নিয়ে রোগী দেখেন ও কমিশনের আশায় হাসপাতাল সংলগ্ন নির্দিষ্ট ক্লিনিকে রোগী পাঠান। এছাড়াও রোগীদের খাবারের মান অত্যন্ত নি¤œমানের ও খাবার অযোগ্য। কিন্তু তার পরেও রোগীদের সেই খাবার পরিমাণ মতো দেয়া হয় না। বন্ধ্যাকরণ ও এমআর করতে আসা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করা হয়। আবার টাকার লোভে অবৈধ গর্ভপাত করানো হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ২৮টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও ১০টি পদ শূন্য রয়েছে, আর ১৮ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এর মধ্যে আবার ১০ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে অন্যত্র রয়েছেন, ফলে যে ৮ জন চিকিৎসক রয়েছেন তারাও অনিয়মিত। এছাড়াও ১৪ জন নার্সের (সেবিকা) বিপরীতে মাত্র ৭ জন নার্স কর্মরত রয়েছেন ও নার্সের ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি পাঁচন্দর ইউপি এলাকার জনৈক ব্যক্তির স্ত্রীকে (গর্ভবতী) মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারাদিন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই প্রসূতি ছটফট করলেও কোনো চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পায়নি। ফলে সন্ধ্যায় প্রসূতির স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে টিএইচও সাহেবকে অভিযোগ করায় চিকিৎসক গভীর রাতে ওই প্রসূতিকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। গভীর রাতে ভুটভুটিযোগে প্রসূতিকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তায় সন্তান প্রসব করে। আবার ক্লিনিক থেকে কমিশনের আশায় হাসপাতালের এক্সরে মেশিন, জেনারেটর ও অধিকাংশ বৈদ্যুতিক পাখা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট করে রাখা হয়েছে এবং অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি প্যাকেট অবস্থায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর কমিশনের আশায় এসব করা হয়েছে যাতে রোগীরা হাসপাতালে না থেকে ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোগীদের জন্য উন্নত খাবার পরিবেশন করার কথা থাকলেও এসব উন্নত খাবার হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরা হরিলুট করে। একইদিন হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা দুই ওয়ার্ডে মোট ১৮ জন রোগী (ভর্তি) চিকিৎসাধীন থাকলেও খাতায় ২৯ জন রোগী দেখানো হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও হাসপাতালের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এব্যাপারে তানোর হাসপাতালের কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ইসমাত আরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি যোগদানের পরে এখানে চিকিৎসাসেবার মান অনেকটা উন্নত করা হয়েছে, তবে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন