Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রাতে ইলিশ শিকারে নদীতে নামবে লক্ষ্মীপুরের জেলেরা

লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২১ পিএম

বুধবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে মা-ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এরপর থেকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা থাকছে না। তাই এখন ইলিশ শিকারের আনন্দে মেঘনা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের প্রায় ৬০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে জেলেরা নদীতে নামার বেশ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। অবসর সময়ে ঠিকঠাক করে নিয়েছেন জাল-নৌকাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বুধবার রাত ১২টা থেকে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নামবেন। প্রজনন মৌসুমের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে নদীতে আবার মাছ ধরার সময় হওয়ায় জেলে পরিবার গুলোতে উৎসব বিরাজ করছে। মেঘনা নদীর গোটা উপকূলীয় এলাকার ঘটগুলো আবার সরব হয়ে উঠেতে শুরু করেছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার সময় শুন্যতা বিরাজ করেছিল সেখানে এখন আবার প্রাণ সঞ্চলতা ফিরে এসেছে।

১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ছিলো ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম। এ ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ ছিলো। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি ছিলো নিষিদ্ধ। এ আইন আমান্য করায় বেশ কয়েকজন জেলের জেল-জরিমানা হয়। অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়েছিল জাল।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। বিগত বছরের ছেয়ে চলতি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে পোনা ছাড়তে পেরেছে। জেলেরা নদীতে নামেনি। প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ ছিলো অনেক বেশি তৎপর। যে কারণে বিগত বছর গুলোর ছেয়ে এবার ইলিশ রক্ষা অভিযান অনেক বেশি সফল হয়েছে।

বুধবার সকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীহাট মেঘনা পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে নদীতে মাছ শিকারে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত জেলেরা। তাদের চোখে মুখে আনন্দের চাপ। জেলেরা জানান, মাছ শিকার করা ছাড়া অন্য কোন কাজ জানানায় তাদের, মাছ শিকার করায় তাদের এক মাত্র পেশা। ২২ দিন নদীতে যেতে পারেন নি তারা, এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে তাই দলবেঁধে আবার নদীতে মাছ শিকারে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সংসারে অভাব-অনটন প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই রাত থেকেই নদীতে নামতে হবে তাদের। জেলেদের আশা এখন তাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা গেছে, বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২দিন ইলিশের প্রজনন সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ এসে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘ্নে যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যই ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে লক্ষ্মীপুরের নানা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, অভিযানের সময়সীমা আরো কিছুদিন বাড়ানো হলে যেসব মা-ইলিশ এখনো ডিম ছাড়তে পারেনি, তার অধিকাংশই ডিম ছাড়ত। ৪০ ভাগ মা-ইলিশ ডিম ছাড়লে মিঠা পানির ইলিশের প্রাচুর্য আরো বেড়ে যেত। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের অভয়াশ্রম কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স তৎপর ছিল। এ সময় নদীতে ২৪ ঘন্টা অভিযানে ছিল জেলা মৎস্য বিভাগ। মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ছিল তৎপর। কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। বুধবার মধ্যরাত থেকে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের নির্ধারিত সময় শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের জেলেরা ফের নদীতে মাছ ধরতে নামতে পারবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন