Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

শরণখোলার মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সুপারের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

শরণখোলা (বাগেরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ নভেম্বর, ২০২০, ১:৪৩ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলায় পঞ্চম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। আদালত একই সাথে তাকে কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন। বৃহষ্পতিবার দুপুর সোয়া বারোটায় বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় বাদী পক্ষে ১৫ জন এবং আসামী পক্ষে দু’জন মিলিয়ে মোট ১৭জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।
ধর্ষক ইলিয়াছ জোমাদ্দার এই মামলায় একাই আসামী। তিনি শরণখোলা উপজেলার উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপার এবং উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের আব্দুল গফফার জোমাদ্দারের ছেলে। মেয়েটি ওই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি মাদ্রাসার পাশ্ববর্তী উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামে।
মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারি কৌসুলি (এপিপি) রনজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৯ সালের ৮ আগষ্ট সকাল সাতটায় আরবি শিক্ষা নিতে গেলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দার। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস ওই ছাত্রীকে জিনে ধরার কথা বলে পানি পড়া দেন। এরপর মেয়েটির বাবা-মা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান। একপর্যায়ে মেয়েটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। ঘটনার এগারোদিন পর ১৯ আগষ্ট মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্ত করে।
এরপর পিবিআই”র উপ পরিদর্শক (এসআই) আবু সাইয়েদ পালিয়ে বেড়ানো মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দারকে ঘটনার প্রায় দুই মাস পরে ওই বছরের ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর সুপার ইলিয়াছ ধর্ষণের কথা স্বীকার করে তিনদিন পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইয়েদ তদন্ত শেষে ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন। এরপর আদালতের বিচারক মামলাটিকে আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ৯ মার্চ চার্জ গঠন করে। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আদালতের বিচারক চিকিৎসক, পুলিশ, বাদী ও বিবাদী মিলিয়ে মোট ১৭ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। গত রবিবার এই মামলার বাদী বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালতের বিচারক আজ ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মো. আলী আকবর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ মামলা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ