Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

উলিপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাংচুর-লুটপাট, পৃথক পৃথক মামলা দায়ের

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০২০, ৪:৪৫ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দু’টি পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাংচুর, মারপিট ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে উলিপুর থানায় পৃথক ৩’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ পরিবার দু’টির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মহুর্তে আবারো সংঘষের্র আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দলদলিয়া মিয়া পাড়া গ্রামে।
এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ঐ গ্রামের মৃত নবির উদ্দিনের পুত্র এমদাদুল হকের বাড়িতে প্রতিবেশী আব্দুুল হাইয়ের কলেজ পড়–য়া ছেলে জিহাদ মিয়ার আসা-যাওয়া নিয়ে এমদাদুল হকের স্ত্রী জবা বেগমকে ঘিরে অবৈধ সম্পর্কের মিথ্যা অপ-প্রচার ছড়িয়ে পরলে জিহাদকে ঐ বাড়িতে আসতে মানা করা হয়। তখন থেকে সে ঐ বাড়িতে না আসলেও এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
এমতাবস্থায়, ঘটনার প্রায় ৩ মাস পর গত ০৯ আগষ্ট/২০ রাত আনুমানিক ৯ টায় কে বা কাহারা আব্দুল হাইয়ের বাড়ীতে ইট-পাক্টেল দিয়ে ঢিল ছুড়ে মারলে যার সন্ধেহে তারা এমদাদুলের পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ব-দল বলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে। এসময় এমদাদুলের স্ত্রী জবা বাঁধা দিতে আসলে হামলাকারীরা তার উপর হামলে পরে এবং পড়নের কাপড় ও চুলের মুঠি ধরে তাকে বেধরক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত এবং লজ্জাশ্লীলতাহানী ঘটায়। হামলাকারিদের হাত থেকে জবা বেগমকে উদ্ধারের জন্য তার দেবর নওয়াব আলী, মেয়ে জামাই সোয়াইবুর রহমান, শ্বাশুরী মর্জিনা বেগম ও পুত্র ইমন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধরক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে এবং ঘরের আসবাব পত্র ভাংচুর, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ডের লক্ষাধীক টাকা লুটপাট এবং ক্ষতি সাধন করে। আহতদের সে সময় উলিপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে নওয়াব আলী বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
পক্ষান্তরে ওই মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে ঘটনার ২ মাস পর গত ২৯ অক্টোবর/২০ তারিখে জিহাদের চাচা ছবুর মিয়া বাদী হয়ে ভাই আঃ হাইকে হত্যার চেষ্টা ও ভাবী জুলেখা বেগমকে লজ্জাশ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ এনে ৬ জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার বিবরণে জানাগেছে, গত ১৮ অক্টোবর/২০ দুপুরে বাদীর পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে আসামী সোয়াইবুর রহমান, নওয়াব আলী, ইসরাত জাহান, এমদাদুল হক, মহসিন আলী ও আশরাফুল ইসলাম সংঘবদ্ধ ভাবে আঃ হাই ও তার স্ত্রী জুলেখা বেগমকে লাঠি-লোহার রড লইয়া আক্রমণ করে শ্লীলতাহানী ও হত্যার চেষ্ঠা করে।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী আসাদুজ্জামান , ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, ছবির উদ্দিন , আমিনুর ইসলাম , বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম সহ আরও অনেকে জানান, ঐ দিন কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি এবং এ বিষয়ে তারা অবগত নন। তারা আরও জানান, আঃ হাই (৬৫) ইতোপূর্ব হতেই ব্রেইন স্টোক রোগে ভোগছিলেন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অসহায় রোগীকে পুঁজি করে এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আব্দুস ছবুর মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘গ্রামবাসী উপরোক্ত ঘটনার মিমাংসার প্রস্তাব দিলেও গত ০৬ সেপ্টেম্বর/২০ রাত আনুমানিক ১০ টায় পার্শ্ববর্তি নাজিমখাঁন বাজার থেকে বাড়ী আসার পথে তেজারমোড় সংলগ্ন স্থানে কোনো ধরনের বাকবিতন্ড, হুমকী-ধমকী বা সহিংস ঘটনা না ঘটলেও বিবাদী পক্ষের আসামী সোয়াইবুর রহমান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় পৃথক আরও একটি মিথ্যা অভিযোগ করে।’
এ ব্যাপারে সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা থেকে মুক্তির জন্য পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট এলাকার শান্তিকামী মানুষ আবেদন জানিয়েছেন। বাদী ছবুর মিয়ার মামলা প্রসঙ্গে এস আই মোঃ রাসেল মাহমুদ জানান, ‘মামলাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংঘর্ষ


আরও
আরও পড়ুন