Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন

সরকার ও ইসিকে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে গণতন্ত্রকে ধবংস করে ফেলেছে। কিন্তু এটা শেষ নয়। তাদের এই নির্বাচন (যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন) থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আওয়ামী লীগের এবং যারা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বুঝতে হবে নির্বাচন কমিশন কাকে বলে?

গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমেরিকার নির্বাচনের যারা অথোরেটি তারা দেখেন, সমস্ত চাপের মুখেও অবিচল থেকেছে। সেই অবিচল থেকে তারা জনগণের যে রায় সেটাকে আপহোল্ড করেছে-দ্যাট ইজ ডেমোক্রেসি, এটাই গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যদি না থাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ হতে হবে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শক্তিশালী হতে হবে, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ শক্তিশালী হতে হবে, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে। এই আওয়ামী লীগ, যারা বার বার ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে পরিকল্পিভাবে, আত্মভরিতা করে, অহঙ্কার করে, এমন এমন কথা বলে যার এখন নাম বলতে চাই না তাদেরকেও ছাড়িয়ে যায়।

তিনি বলেন, তাদের (সরকার) দেখা উচিত- সোশ্যাল মিডিয়া খুললে দেখবেন যে কিভাবে আমেরিকাতে সেই আত্মভরিতার অবসান ঘটানো হয়েছে, জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করছেনে, আমেরিকার জনগণ অনেকে কাঁদছে যে, তারা একটা ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, সারা পৃথিবীর মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কারণ কর্তৃত্ববাদীতার যে নিবোধ, কর্তৃত্ববাদীরা যে চাপ, যে অসহায়ত্ব সেখান থেকে তারা, গোটা পৃথিবীর মানুষ বেরিয়ে আসতে চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দিয়ে আর সম্ভব না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা (সরকার) অন্ধকারে আছেন। দেখতে পারছেন না আপনার চারদিকে কি অবস্থা, মানুষের মধ্যে কি চলছে, তাদের চোখের ভাষা আপনারা পড়তে পারছেন না, দেওয়ালের লিখন আপনারা দেখতে পারছেন না। আপনারা সেই অন্ধকার গহ্বরের মধ্যে বাস করছেন। সেই সাথে দেশকে টেনে নিয়ে গেছেন ওদিনকে, জাতিকে টেনে নিয়ে গেছেন ওদিকে। সেই গহবর থেকে আমরা স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমরা সূর্যের আলো দেখাতে চাই। আসুন আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি। আমরা আহ্বান থাকবে এই নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করে সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, এই বংশ্বদ নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠান ধবংস হয়ে গেছে। এখানে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, এখানে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। কোন চাকরি হয় না- ডিএনএ টেস্ট না করে। অর্থ্যাৎ বিএনপির কোনো গন্ধ থাকলে তার চাকরি হয় না। অন্য সব জায়গাতে ঘটছে, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা এখন পর্যন্ত চলছে। আনওয়ানটেড, আনফুরচুনেড ইনসিডেন্ট। সকল রাজনৈতিক দল-মত নির্বিশেষ সকল মানুষের এখন গণতন্ত্রের জন্য এগিয়ে আসা দরকার এবং এক কন্ঠে আওয়াজ তোলা দরকার আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দাও। ইট ইজ এ হাই টাইম।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও সাইদুর রহমান বাচ্চু।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন