Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

হতদরিদ্র নাসির এখন হাজার কোটি টাকার মালিক

ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে : | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

নরসিংদীর বেলাবর হতদরিদ্র নাসির উদ্দিন খন্দকার। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে হাজার কোটি টাকা, জমি ও বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। নামে-বেনামে ঢাকা, বেলাব ও কিশোরগঞ্জের শ্বশুরবাড়িতে গড়ে তুলেছেন প্রাসাদোপম অট্টালিকা। ক্রয় করেছেন শত শত বিঘা জমি। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া দেখে গ্রামের মানুষ আশ্চর্য হয়ে গেছেন। প্রশ্ন উঠেছে সেদিনের হতদরিদ্র নাসির উদ্দিন কিভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন। যার মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না সে কিভাবে কোটি কোটি টাকার জমি ক্রয় করে। সে কোথা থেকে দামি গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। এলাকার কয়েকজন তার বিরুদ্ধে দুদকের চেয়ারম্যানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বাজনাব সৈয়দপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে নাসির উদ্দিন খন্দকার ছিল হতদরিদ্র। চাকরি দেয়ার শর্তে সে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর গ্রামে বিয়ে করে। এরপরই বেহিসাবি সম্পদের মালিক হয়ে যান নাসির উদ্দিন। সে ঢাকার কাওলা বাজার মসজিদ রোডের ১৯০/১ শিফা গার্ডেনে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন সাততলা দালান। এই বাড়ি ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক বাড়ি, মার্কেট ও জমি ক্রয় করেছেন। বেলাব উপজেলার সৈয়দপাড়া গ্রামে ২০ কোটি টাকা মূল্যে ৭/৮ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। বাড়িতে নির্মাণ করেছেন ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন। বেলাব বাজারে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে একটি মার্কেট ক্রয় করেছেন। এলাকার কয়েকটি বাজারে জায়গা কিনে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। নাসিরুদ্দিন তার শ্বশুর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আদপুর বাসস্ট্যান্ডে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। শ্বশুরবাড়ি এলাকার ২০ কোটি টাকার জমি এবং ১০ কোটি টাকার দোকান ক্রয় করেছেন। তার ভাই-বোন, শালা-শালি, স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের নামে প্রায় ৫০ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। তার নামে বেনামে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা। মাত্র ১০/১১ বছরে এত বিত্ত- বৈভবের মালিক হবার উৎস সম্পর্কে সে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরকে জানিয়েছে যে, সে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। তার মাসিক আয় ১০ কোটি টাকা। অভিযোগ দায়েরকারীরা নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নাসির উদ্দিন খন্দকার জানান, তিনি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নন। তিনি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার। বর্তমানে পাইওনিয়ার কোম্পানির পল্লবী শাখায় কর্মরত। তিনি এত সম্পদের মালিক নন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে কেন এসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হতদরিদ্র


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ