Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

শাহরুখের শুটিং সেটে হিন্দু পরিষদের কান্ড : আমিরের সঙ্গে চুক্তি বাড়াবে না স্ন্যাপডিল

প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ভারতে আবারও অসহিষ্ণুতার শিকার হলেন ‘বলিউড কিং’ শাহরুখ খান। বুধবার গুজরাটের ভুজ শহরে পরবর্তী ছবি ‘রাইস’-এর শুটিং করার সময় এ অসহিষ্ণুতার শিকার হন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা সেখানে এসে শাহরুখের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। এরআগে মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কিছু নেতা-কর্মী ভুজের জেলা কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে একটি স্মারকলিপি দেন। তাদের দাবি, ‘রাইস’-এর শুটিংয়ের অনুমতি প্রত্যাহার করতে হবে। বুধবার তারা শুটিংস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তারা শাহরুখের বিরুদ্ধে সে¬াগান দেন এবং তার কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ও আগুনে পোড়ায়।
শাহরুখ খান এর আগে অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ভারতের দেশপ্রেমিক হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষ না হওয়াটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বেড়ে গেছে। এমনটি চলতে থাকলে তিনি তার রাষ্ট্রীয় পদক ‘পদ্মশ্রী’ ফেরত দেবেন।
তার এমন বক্তব্যে ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করলে শাহরুখ নিজের মন্তব্য নিয়ে বলেন, তার কথা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তার কথার মানে কখনোই এই নয় যে, ভারত অসহিষ্ণু দেশ।
গুজরাট বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রণছোড় ভরদ্বাজ বুধবার বলেছেন, তারা কখনোই ওই মন্তব্যের জন্য শাহরুখকে ক্ষমা করবেন না।
উল্লেখ্য, ভারতে সম্প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে আমির খান একটি সাধারণ মন্তব্য করেও কট্টরপন্থী হিন্দুদের তোপের মুখে পড়েন।
এদিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে আমির খানের চুক্তি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল স্ন্যাপডিল। চলতি মাসেই বলিউডি সুপারস্টারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে এই অনলাইন বিপণন সংস্থার। সেই চুক্তি আর বাড়ানো হবে না জানিয়েছে স্ন্যাপডিল।
মাস তিনেক আগে একটি অনুষ্ঠানে দেশে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন আমির খান। সে দিন রামনাথ গোয়েঙ্কা এক্সেলেন্স ইন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডে আমির বলেন, “যখন আমি বাড়িতে স্ত্রী কিরণের সঙ্গে কথা বলি, ও বলে, আমাদের কি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত? এটা খুবই হতাশাজনক কথা। ও নিজের সন্তানের জন্য ভয় পায়। আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি নিয়েও ভয় পায়। রোজ সকালে খবরের কাগজ খুলতেও ভয় পায়।”
আমিরের মন্তব্যের পরই টুইটারে বিতর্কের ঝড় ওঠে। স্ন্যাপডিল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান অনেকে। অ্যাপওয়াপসি হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে চলে প্রতিবাদ।
তাঁর এই মন্তব্যের জেরে প্রতিবাদে সোচ্চার হন আমির বিরোধীরা। আমির খান গত মার্চ মাস থেকে স্ন্যাপডিলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। প্রায় ৭০ হাজার অ্যাপ ইউজার স্ন্যাপডিলকে মাত্র এক নম্বর দেন।
তড়িঘড়ি সংস্থার তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, আমিরের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে সংস্থার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও জানানো হয়। এর পর থেকেই নিজেদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে আমিরের মুখ দেখানো কমাতে থাকে স্ন্যাপডিল। আর এবার আমিরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করারই সিদ্ধান্ত নিল সংস্থা।
এর আগে ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’র প্রচার থেকে আমিরকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় পর্যটন দফতর। তাঁর জায়গায় চুক্তি করা হয় অমিতাভ বচ্চন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে। তবে আমিরের জায়গায় এখনই কোনও বালিউডি তারকাকে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্ন্যাপডিল। -সূত্র : আনন্দবাজার,টাইমস অব ইন্ডিয়া



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ