Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সিইসির বক্তব্য হাস্যকর

ডিআরইউতে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমেরিকার নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছ থেকে শিখতে পারে- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার এমন বক্তব্য হাস্যকর। এ রকম হাস্যকর কথা একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে আসতে পারে, কল্পনাও করিনি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, গতকাল ঢাকা-১৮ আসনে যে উপনির্বাচন হয়ে গেল, সেখানে নির্বাচনের মাঝেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে ফেললেন, এই নির্বাচন কমিশন এত ভালো যে আমেরিকার নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আমেরিকা চার-পাঁচ দিনে যে ফলাফল দিচ্ছে, তারা সেই ফলাফল চার-পাঁচ মিনিটে দিয়ে দিচ্ছে। এ রকম হাস্যকর কথা একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে আসতে পারে এটা কল্পনাও করতে পারি না। এ থেকেই বোঝা যায় আমাদের গণতন্ত্রের অবস্থা কোথায়, নির্বাচনের অবস্থা কোথায়?

তিনি বলেন, দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে, তাহলে জবাদিহিতা থাকে না, অ্যাকাউন্টিবিলিটি থাকে না। এই বিষয়টিই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। স্বাস্থ্য সেক্টরে দুর্নীতি এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে, এখন আর মানুষ কথাও বলতে চায় না। ড্রাইভারের চার-পাঁচশ’ কোটি টাকা ধরা পড়ে, একজন পিয়নের দুইশ’ কোটি টাকা ধরা পড়ে। কিন্তু বড় কেউ ধরা পড়ে না। শাহেদ ধরা পড়ে কিন্তু শাহেদের সঙ্গে যারা বসলেন মন্ত্রী এবং সচিব, তাদের কেউ ধরা পড়ে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অল্প দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নেয়। চীনের সঙ্গে, মিডল ইস্টের সঙ্গে সম্পর্ক তখনই স্থাপিত হয়ে এবং পাশ্চাত্য বিশ্ব তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইরাক-ইরান যুদ্ধে তাকে নেগোশিয়েশনের জন্য পাঠানো হয়। জাপানাকে হারিয়ে জাতিসংঘের অস্থায়ী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ।
বিএনপি কতদূর এগিয়েছে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রের চর্চা যদি না থাকে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি না থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক দলগুলোর জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। কোনো অন্যায় হলে গণতান্ত্রিক দলগুলো মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করে, পার্লামেন্ট থাকলে সেখানে কথা বলতে পারে। কিন্তু এখানে তো সেরকম কিছু নেই। পার্লামেন্টে বিএনপির মাত্র পাঁচ-ছয়জন প্রতিনিধি আছে। বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে চায়, করার চেষ্টা করছে। সেদিক থেকে আমরা মনে করি যে বিএনপি এখনো আছে, প্রতিটি জায়গায় ভিজিবল। এই যে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, কেন নিচ্ছি? নিচ্ছি এই কারণে যে গণতন্ত্রের মিনিমাম যে স্পেস, সেই স্পেসে আমরা থাকতে চাই। আমাদের চেয়ারপারসন দুই বছর ধরে কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে। তারপরও গত দুই বছর নিয়মিত স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক করছি। দল চলছে যৌথ সিদ্ধান্তে। এই সঙ্কটের সময় বিএনপি যে ভ‚মিকা পালন করছে, আমি মনে করি সেটা যথেষ্ট।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার চারপাশে বিশ্বস্ত ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেননি এ বক্তব্য সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এ কথা একেবারেই সঠিক নয়। সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতৃত্ব তৈরি করেছেন তিনি। তার প্রমাণ গত দুই বছর তিনি জেলে গেলেও দল ভেঙে যায়নি। কেউ চলে যায়নি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মামলার যে অগ্রগতি, তার শরীরের যে অবস্থা, তাতে তার রাজনীতিতে ফোরার সম্ভবনা কতটুকু? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো মনে করি উনি এখনো অ্যাকটিভ আছেন। বেগম খালেদা জিয়া কখনো রাজনীতি থেকে চলে যাননি এবং যাবেন না। রাজনীতিতে তার যে অবদান, সেটির শেকড় অত্যন্ত গভীরে। তিনি আছেন এবং থাকবেন।

মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ