Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই

জাহাজ রফতানির আশা প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগের সাথেই আমাদের চলতে হবে, তাই আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতিও থাকতে হবে। সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই। গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কোস্টগার্ডের ৯টি জাহাজ ও একটি ঘাঁটির কমিশনিং অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে জাহাজের কমিশনিং ও বিসিজি বেস ভোলার উদ্বোধন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্টগার্ড পূর্বাঞ্চলের বেস স্টেশনে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে আমরা কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।

আমাদের বিস্তীর্ণ উপক‚লীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক জলসীমার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, দেশের সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা বিধান, চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান, ডাকাত দমনসহ প্রাকৃৃতিক দুর্যোগে উপক‚লীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা উত্তরোত্তর বাড়ছে।
জাটকা নিধন রোধে এবং মা ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুজিববর্ষে কোস্ট গার্ডের বহরে এই নৌযানগুলো যুক্ত হওয়া সংস্থাটির জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে। কারণ, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল টহলে রাখাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত প্রায় ১২ বছরে কোস্ট গার্ডে’র জন্য বিভিন্ন আকারের ৫৫টি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের আওতায় কোস্ট গার্ডের বেইসসমূহের কর্মকর্তা ও নাবিকদের বাসস্থান, অফিসার্স মেস, নাবিক নিবাস ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পটুয়াখালী অঞ্চলে নিজস্ব প্রশিক্ষণ বেইস ‘বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার’ মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের জনবলের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যরা স্বল্পতম সময়ে সুবিশাল সমুদ্র ও উপক‚লীয় এলাকার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন জাহাজ ও ঘাঁটি কমিশনিংয়ের মাধ্যমে এ বাহিনীর সক্ষমতা আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এসব জাহাজ ও ঘাঁটি কোস্টগার্ড সদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষ, মানসিক বিকাশ ও উন্নত মনোবল অর্জনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের একটি সুসজ্জিত চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আশরাফুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে অধিনায়কগণের হাতে ‘কমিশনিং ফরমান’ হস্তান্তর করেন। নব্য কমিশনিংকৃত ৯টি জাহাজের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র ও পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০১৪ সালে ইতালি সফরের সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনি ইতালি সরকারের যে সহযোগিতার কামনা করেন তারই অংশ হিসেবে পরবর্তীকালে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে ইতালি নৌবাহিনীর চারটি করভেট প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড-কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার দুটি বিসিজিএস তাজউদ্দীন ও বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল জাহাজ দু’টি ২০১৭ সালে তিনি কমিশনিং করেন। ইতালি হতে সংগৃহীত আরও দু’টি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল-বিসিজিএস মনসুর আলী এবং বিসিজিএস কামারুজ্জামান আজ কমিশনিং হলো। পাঁচটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল-বিসিজিএস সবুজ বাংলা, শ্যামল বাংলা, সোনার বাংলা, স্বাধীন বাংলা ও অপরাজেয় বাংলা এবং দু’টি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট বিসিজিএস সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া- আজ এ বাহিনীর বহরে যুক্ত হলো। ৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্যই আজকে দেশেই বিশ^মানের জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে বলেও সরকার প্রধান উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ও খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত আজকের কমিশনিং করা ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং ফাস্ট প্যাট্রোল বোটগুলো। অর্থাৎ আমরা নিজেরাও তৈরি করতে পারি, সেটারই আজ প্রমাণ পেলাম। আজকে এটা আমাদের নিজেদের কাজে লাগল। আগামীতে আমরা রফতানীও করব ইনশাল্লাহ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকলেও জাতীয় সংসদে তাদের আনিত বিলের কারণেই ‘কোস্টগার্ড’ একটি বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সৃষ্টির পেছনে একটা মজার ঘটনা রয়েছে। তখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল এবং জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আকারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সৃষ্টির প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইতোপূর্বে আনিত অন্যান্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের মতো এটিরও বিরোধিতা করে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে তা বাতিল করে দিতে চেয়েছিল বিএনপি। একটি পর্যায়ে আমরা দেখলাম সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও সংসদে আমাদের উপস্থিতি বেশি ছিল এবং সরকারি দল বিএনপি’র সদস্যদের উপস্থিতির সংখ্যা খুব কম ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয় এবং বিতর্কের একটা পর্যায়ে সরকারি দল যখন এটাকে কণ্ঠভোটে নাকচ করে দিতে চাইলো সঙ্গে সঙ্গে আমরা ডিভিশন ভোট দাবি করলাম বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখানে সংসদীয় গণতন্ত্র অনুশীলনের যে ব্যাপারটি রয়েছে তা হচ্ছে, আমরা তখন তাৎক্ষণিকভাবে ডিভিশন ভোট দাবি না করলে তা নাকচ হয়ে যেতে পারতো। তাদের দাবি মোতাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার তখন ডিভিশন ভোট করলে, ভোট গুণে দেখা গেল তাদের দলের সংসদ সদস্যই বেশি, কাজেই তাদের আনিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি পাস হলো। উপক‚লীয় নিরাপত্তায় আমাদের আনিত প্রস্তাবটি বিরোধী দলে থেকেও পাস করিয়ে আনাটা ছিল একটা বিরল ঘটনা। কিন্তু আমরা সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলাম ১৯৯৪ সালে। সেখান থেকেই এই কোস্টগার্ড সৃষ্টি। পরবর্তীতে তা আইনও হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক কারণে দুর্যোগের সঙ্গে বসবাসরত এবং মানুষের জানমাল রক্ষার্থে তার সরকার কোস্টগার্ড বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য হোভারক্রাফট, ড্রোন ও সব আবহাওয়ায় চলাচলের উপযোগী ৩ হাজার ৫০০ টন ক্ষমতা বিশিষ্ট জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্যোগের সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে এবং সেই প্রস্তুতিও আমাদের থাকতে হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে দু’টি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল, একটি ফ্লোটিং ক্রেন, দু’টি টাগ বোট এবং ১৬টি বোট তৈরি হচ্ছে। অচিরেই এগুলো কোস্ট গার্ডের বহরে সংযুক্ত হবে। কোস্ট গার্ডের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গজারিয়ায় একটি ডকইয়ার্ডও নির্মাণ করা হচ্ছে।



 

Show all comments
  • মারিয়া ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৪ এএম says : 0
    সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে
    Total Reply(0) Reply
  • এস এম রিয়াদ হোসেন ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৩ এএম says : 0
    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, উন্নত হোক বাংলাদেশ, জয় হোক শেখ মুজিবুর রহমান এ-র কন্যা শেখ হাসিনা'র
    Total Reply(0) Reply
  • শেখ রাসেল ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫২ এএম says : 0
    দেশের সেরা প্রধানমন্ত্রী। উনাকে আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হোক
    Total Reply(0) Reply
  • Bojlur Rahaman ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৩ এএম says : 0
    তুমিই বঙ্গবন্ধুর আশা প্রত্যাশা পূরনের একমাত্র বাতিঘর।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahfuz Alam ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৪ এএম says : 0
    জাতির প্রকৃত ও যোগ্য অভিভাবক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা
    Total Reply(0) Reply
  • Md Monowar Hossain ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৫ এএম says : 0
    যতদিন জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ
    Total Reply(0) Reply
  • লিয়াকত আলী ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৬ এএম says : 0
    আশা করি খুব শিঘ্রই বাংলাদেশ জাহাজ রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা আয় করবে
    Total Reply(0) Reply
  • Maahi Ahmed ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ৭:৪০ এএম says : 0
    Congratulations best regards Honourable prime minister Sheikh Hasina
    Total Reply(0) Reply
  • Kmn Alam Sabu ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ৭:৪১ এএম says : 0
    প্রিয় নেত্রী জন নেত্রী, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সালাম জানাই।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন