Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

অসুস্থ রিজভী ফের কারাগারে

২০ দলের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ : অবিলম্বে মুক্তি দাবি

প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১:২৪ এএম, ১৯ আগস্ট, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণকারী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফের কারাগারে। গতকাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিভিন্ন মামলায় ১০ মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মুক্তি পান রিজভী। ওই সময় ৯ দফায় ৩৪ দিন রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। দলের ইতিহাসে তার মতো দীর্ঘ সময় রিমান্ডের মুখোমুখি হননি বিএনপির কোন নেতা।
রিজভী আহমেদকে কারাগারে প্রেরণে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি জামিনযোগ্য মামলায় জামিন না পাওয়ায় রিজভী আহমেদ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দলের মুখপাত্র চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ন্যায় বিচার পাননি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তারপরও সুবিচার প্রত্যাশা করেছে বিএনপি।
রাজধানীর পল্লবী, মতিঝিল, খিলগাঁও ও রমনা থানার মোট পাঁচ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রিজভী। এ মামলাগুলোতে আগেই অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সকালে নাশকতার পাঁচ মামলায় রিজভী আহমেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে অবিলম্বে রিজভীর মুক্তি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, রিজভীর জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি বলে আমি মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা রিজভীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। জামিনযোগ্য মামলায় জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছারই প্রতিফলন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন এ কথা বলেন।
রিজভীকে কারাগারে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ভোটারবিহীন অবৈধ ও অনৈতিক সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে মানবতাবোধও হারিয়ে ফেলেছে। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্মূল ও পর্যুদস্ত করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে সারাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব স্তম্ভকে তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিচার বিভাগও আজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।
খালেদা জিয়া বলেন, রিজভী একজন আইনজীবী ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আদালতে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। আদালতে রিজভীর জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। মামলার এজাহারে রুহুল কবির রিজভীর নাম না থাকলেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পুলিশ তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। পৃথক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রিজভীকে কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।
রাজধানীর পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় গত ২৫ জুলাই রিজভীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে, গত ১১ আগস্ট আদালতে হাজির না থাকায় মতিঝিল থানার মামলায় রিজভীসহ ৫৬ জনের ও খিলগাঁও থানার মামলায় রিজভীসহ ১২ জনের জামিন বাতিল করা হয়। ২০১৩ সাল ও গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির ডাকে হরতাল-অবরোধ চলাকালে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর ও  ককটেল বিস্ফোরণসহ নাশকতার অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন এবং সরকারের এক বছর পূর্তিতে সরকার পতনের আন্দোলনে নাশকতার ঘটনায় রিজভীর বিরুদ্ধে অন্তত ৪৪টি মামলা হয়। এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হন তিনি। বিভিন্ন মামলায় ১০ মাস কারাবন্দি থাকার পর সর্বশেষ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মুক্তি পান রিজভী।
অঙ্গ-সংগঠনের নিন্দা
রিজভী আহমেদকে কারাগারে পাঠানোয় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান অবিলম্বে রিজভীর মুক্তি দাবি করেন।
রিজভীর জামিন নামঞ্জুরে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি : খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, রুহুল কবির রিজভীর জামিন না-মঞ্জুরের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভীর মুক্তি দাবি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন এই কথা বলেন।
গতকাল নাশকতার পাঁচ মামলায় রিজভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিজভীকে কারাগারে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে মানবতাবোধও হারিয়ে ফেলেছে। বিচার বিভাগও আজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। রিজভী একজন আইনজীবী ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আদালতে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। আদালতে রিজভীর জামিন না-মঞ্জুরের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। মামলার এজাহারে রুহুল কবির রিজভীর নাম না থাকলেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পুলিশ তাঁর নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অসুস্থ রিজভীকে জামিনযোগ্য মামলায় জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছারই প্রতিফলন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন