Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

মানবীয় মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের প্রধান উদ্দেশ্য

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

টেকসই উন্নয়নের মূলনীতি ঃ টেকসই উন্নয়ন মুলত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এমডিজি’র মতো জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিক্রমা, যা ২০১৫ সালের পর এমডিজি-র স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়। ৩-১৪ জুন ১৯৯২ ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০-২২ জুন ২০১২ অনুষ্ঠিত হয়। রিও+২০ (Rio+২০) বা আর্থ সামিট ২০১২ (Earth Summit 2012) সম্মেলন, যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন বা World Sustainable Development Conferences (WSDC) এ সম্মেলনে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা Sustainable Development Goals (SDGS) গ্রহন করা হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কনফারেন্স-এ (রিও+২০) ৭৯ জন সরকার প্রধানসহ ১৯১ টি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র অংশগ্রহন করে। কনফারেন্স এর ফলাফল সংবলিত দলিল ‘দি ফিউচার উই ওয়ান্ট’ এ টেকসই উন্নয়নের রুপরেখা তুলে ধরা হয় এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায় সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। ১ জানুয়ারী ২০১৬ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া এসডিজি (SDGS) র লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০৩০ সাল। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য পুরোপুরি দূর করা এবং এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের খসড়া রোডম্যাপ ২ আগষ্ট ২০১৫ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশ দীর্ঘ তিন বছরের আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১৭ টি লক্ষ্য সামনে রেখে ৩০ পৃষ্ঠার এ খসড়া গ্রহণ করে। এর নামকরণ করা হয় Transforming our World: The 2030 Agenda for Sustainable Development. ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা চরম দারিদ্র্যমুক্ত পরিবেশ সুরক্ষিত ও নিরাপদে বসবাসে উপযোগী বিশ্ব তৈরির উপরিউক্ত এজেন্ডা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে। ২০৩০ লক্ষভেদী টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ প্রধান লক্ষ্য ১৭টি: সূচক ৪৭টি ও সহযোগী লক্ষ্য ১৬৯টি। নিম্নে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার সংক্ষিপ্ত ভাবে উপস্থাপন করা হলো: বেকারত্বের মতো দিকগুলো থেকে সমাজের প্রত্যেকের সুরক্ষা, সকলের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। মৌলিক সেবাসমূহ তথা শ্রম, ভূমি প্রযুক্তিতে স্বল্প পুঁজির লোকদের সম সুযোগ নিশ্চিতকরনে এবং তাদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য যেসব সামাজিক নীতিমালা সহায়তা করে সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্টন নিশ্চিত করা। প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে উঠার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা, ক্ষুধা দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুষ্টি বাড়ানো এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতির প্রচলন। সব বয়সী মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনমান নিশ্চিত করা এবং মরণঘাতী রোগ থেকে মুক্তা থাকা। সবার জন্য ন্যায্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সকলের জন্য সব বয়সে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। লিঙ্গসমতা অর্জন এবং সব নারী ও বালিকার ক্ষমতায়ন করা। সবার জন্য পানি ও পয়ঃব্যবস্থার প্রাপ্যতা ও তার টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণকালীন ও উৎপাদনশীল এবং যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণকালীন ও উৎপাদনশীল এবং যথোপযুক্ত কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা। অবকাঠামো নির্মাণ, সবার জন্য ও টেকসই শিল্পায়ন গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তদেশীয় বৈষম্য হ্রাস করা, বিশেষ করে দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল ভোগের জন্য দরিদ্রদের সহায়তায় প্রদান করা। নগর ও মানব বসতির স্থানগুলো সবার জন্য, নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয়। টেকসই ভোগ ও উৎপাদন ব্যবস্থা প্যার্টান নিশ্চিত হবে। জলবায়ূ পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষন ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা। ভূপৃষ্টের জীবন পৃথিবীর ইকোসিষ্টেম সুরক্ষা পূর্ণবহাল করা এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, টেকসইভাবে বন ব্যবস্থাপনা করা, মরুকরণ রোধ, ভূমিক্ষয়রোধ করা এবং জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন বন্ধ করা। টেকসই উন্নয়নের জন্য শন্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তি মুলক সমাজ প্রতিষ্ঠাকরা, সবার ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সর্বস্থরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন কৌশল গুলো আরো কার্যকর করা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব পূনর্জাগরিত করা।
জাতীয় টেইসই উন্নয়ন কৌশলপত্র ঃ ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৩ জাতীয় অথ্যনৈতিক পরিষদের (NEC) এক সভায় টেকসই অথ্যনৈতিক উন্নয়ন পরিবেশ নিরাপত্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রথমবারে মতো ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র (National Sustainable Development Strategy-NSDS) নামের একটি উন্নয়ন দলিল অনুমোদন দেয়া হয়। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে অবস্থি জাতসংঘের টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব সদস্য এ ধরণের টেকসই উন্নয়ন কৌশল অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এ কৌশল গ্রহণ করেছে। এ কৌশলপত্রের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১০-২০২১ সাল পর্যন্ত। দেশের উন্নয়ন যাতে স্থিতিশীল হয় সে জন্য এ কৌশলপত্র একটি রোডম্যাপ। কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য টেসকই উন্নয়ন। এতে দেশের সব খাতের সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন