Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সঙ্কটের অজুহাতে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন আলুবীজ ব্যবসায়ীরা

মুহাম্মদ আবু মুসা, জয়পুরহাট থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলুর দাম বেশি পেয়ে এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে আলুচাষের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জয়পুরহাটের আলু চাষিরা। উন্নতজাতের আলুবীজ সংগ্রহে তারা ভিড় করছেন বীজ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে। ব্যাপক চাহিদার সুযোগে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি মূল্যে বীজ বিক্রি করছেন বীজ ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় আলুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটে এবার আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০ হেক্টর। ধান কাটার পর আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় জেলায় এবার ব্যাপকভাবে আগাম আলুচাষের প্রস্তুতি শুরু করেছে কৃষকরা। কিন্তু শুরুতেই বীজ সংগ্রহে চরম সঙ্কটে পড়েছে তারা। বীজ সঙ্কটের কারণে বর্তমানে বাজারে ব্র্যাকের সরবরাহকৃত ৪০ কেজির প্রতি বস্তা অ্যাস্টেরিক, ক্যারেজ ও ডায়মন্ড জাতের আলুবীজ জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। অগ্রীম টাকা দিয়েও বীজ পাচ্ছেন না কৃষকরা। অথচ কোম্পানির নির্ধারিত ডিলারগণ এ গ্রেড আলুবীজ প্রতিমণ ২ হাজার ২০০ টাকা এবং বি গ্রেড ২ হাজার ৮০ টাকায় বিক্রি করার কথা। কিন্তু চাহিদার কারণে বাজারে সঙ্কটের অজুহাতে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বীজ ব্যবসায়ীরা।
জেলার বিভিন্ন বাজার ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আগাম আলু চাষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কৃষকরা। ফলে গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বীজের চাহিদা দেখা দিলে বাজারে সবার আগে বীজ সরবরাহ করে ব্র্যাক সীড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ব্র্যাকের আলু বীজ পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে থাকায় বীজ সংগ্রহে ব্র্যাক অনুমোদিত ডিলারদের ঘরে ভিড় জমায় আলু চাষিরা।
ক্ষেতলাল উপজেলার আয়মাপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যে ইটাখোলা বাজারে খুচরা বীজ ব্যবসায়ীর কাছে অগ্রীম টাকা দিয়েও তিনি ব্র্যাকের আলু বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে বেশি দামে তাকে আলু বীজ কিনতে হয়েছে। বাঘাপাড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ৭৫ বস্তা বীজ আলুর অগ্রীম টাকা জমা দিয়ে তিনি ২৩০০ টাকা দরে ৫০ বস্তা আলু পেয়েছেন। আক্কেলপুরের সোনাই মাগুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, বীজের পাশাপাশি সারের দামও বেশি। এতে এবার এক বিঘা জমি চাষ করতে তাদের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজারের খুচরা বীজ ব্যবসায়ী মুর্শিদুল আলম পলাশ বলেন, এবার বেসরকারি কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত ডিলারদের কাছে বীজ সরবরাহ করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের চাহিদার কারণে তার মতো খুচরা বীজ ব্যবসায়ীরা কম চাহিদার জেলাগুলো থেকে বীজ সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছেন। এতে দাম কিছুটা বেশি হলেও সময়মতো বীজ পেয়ে কৃষকরা খুশি।
ক্ষেতলালের চৌমুহনী বাজারের ব্র্যাকের বীজ ডিলার মেসার্স ফারদিন ট্রেডার্সের মালিক শাহজামান তালুকদার বলেন, হাজার টন বরাদ্দ দিলেও কোম্পানি থেকে তাকে ৯৫০ টন সরবরাহ করা হয়েছে। যা নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে তিনি সরবরাহ করেছেন। সঠিক মূল্যে বীজ পাওয়ায় কৃষকরা বেশি ভিড় করছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় এই বীজই বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স. ম. মেফতাহুল বারি বলেন, জয়পুরহাটে এ বছর আলু বীজের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টন। যার মধ্যে শুধু বিএডিসি আলুবীজের চাহিদা ১৩ হাজার ৭০০ টন। কিন্তু বাজারে সেই পরিমাণ আলু বীজের সরবরাহ নেই। এজন্য আলুবীজের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আলুবীজ-ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন