Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

গোপালগঞ্জে ২৩৯ কি.মি. সড়ক সংস্কার শুরু

গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ নভেম্বর, ২০২০, ৯:২২ এএম

গোপালগঞ্জে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ত (এলজিইডি) গ্রামীন ২৩৯ কিলো মিটার সড়ক সংস্কার শুরু করেছে।
এরমধ্যে এলজিইডির মহিলা এলসিএস কর্মীরা এসব সড়ক সংস্কার ও সংরক্ষণ শুরু করেছে। এতে করে জেলার এলজিইডির কোন সড়কই আর জড়াজীর্ণ থাকবে না। সব সড়কই সারা বছর চলাচলের উপযোগী থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ-সিলনা সড়কের ৩০ মিটার সড়কের সংস্কার করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এলজিইডির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোহা.আব্দুস সালাম।
এর আগে সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ৫ উপজেলার ২১০ মহিলা এলসিএস কর্মীর হাতে ছাতা, এপ্রোন, মাস্ক, সাবান, হাসুয়া, দা, কোদাল, দুরমুজ, কলস, পতাকা, জগ সহ সড়ক সংরক্ষণের মালামাল তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ।
সড়ক সংস্কার কাজ উদ্বোধনের পর গত ৪ দিনে ২৫ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গোপালগঞ্জে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক বলেন, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার সড়ক হবে সংস্কার’- এ শ্লোগান বাস্তবায়নে আমরা ২৩৯ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। মোট ২১০ জন মহিলা এলসিএস কর্মী ৫ জন করে ৪২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে জেলার ৫ উপজেলার ২৩৯ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করছে। ইতিমধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় এপ্রোন, মাস্ক, সাবান সহ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে। তারা সড়কের সোল্ডার ভাঙ্গন প্রতিরোধ, সড়কের ঝোপ জঙ্গল পরিস্কার করবে। এছাড়া সড়কের গর্ত ও দেবে যাওয়া অংশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় ইট, খোয়া, বালু, বিটুমিন ট্রাকে করে মেবাইল টিম সেখানে উপস্থিত হবে । এ কাজে শ্রমিক হিসেবে মহিলা এলসিএস কর্মীরা কাজ করবেন। পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন একজন এলসিএস কর্মী ৩১০ টাকা পাবেন। এরমধ্যে তাকে প্রতিদিন ১ শ’ টাকা সঞ্চয় হিসেবে রাখতে হবে। প্রকল্প শেষে এলসিএস কর্মীকে সঞ্চয়ের সব অর্থ ফেরত দেয়া হবে। ওই কর্মী সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে আয়বর্ধক কিছু করে সাবলম্বী হবেন। এ ব্যাপারে তাকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। তারা সারা বছর গ্রামীন সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগি করে রাখবেন। ফলে এ সড়কগুলো আর জড়াজীর্ণ থাকবেনা। জনগনের ওই সব সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ লাঘব হবে। যানবাহন স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পাবরে। আমাদের সড়কগুলোও সুরক্ষিত থাকবে।
এলজিইডির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোহা. আবদুস সালাম বলেন, সড়ক সংস্কার ও সংরক্ষণ করে সারা বছর মানুষের চলাচল ও পন্য পরিবহন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকলে গ্রামীন অর্থনীতি আরো গতিশীল হয়। মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। এর মধ্য দিয়ে মজিব বর্ষে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
এলসিএস কর্মী রোজিনা আক্তার বলেন, সড়ক সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ করে প্রতিদিন যে পরিশ্রমিক পাই তার সাথে স্বামীর আয় যুক্ত হওয়ায় সংসারে স্বাচ্ছন্দ এসেছে। আমরা আগের থেকে এখন ভাল আছি। ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করছে। অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, গোপালগঞ্জ-ছিলনা সড়কের মাত্র ৩০ মিটার এলাকা দেবে ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃস্টি হয়েছিলো। এটি সংস্কার হওয়ায় সেটি দুর হয়েছে। এখন স্বাচ্ছন্দে আমরা চলাচল করতে পারছি। পন্যপরিবহণ ও যানবহন চলাচল করছে নির্বিঘেœ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন