Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সন্দেহভাজন শ’খানেক পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করার পর ৬৮ জনের ক্ষেত্রে মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যরা নজরদারিতে আছেন এবং তাদের ডোপ টেস্ট করা হবে বলে জানানোর পর বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের কাছে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যের তালিকা পাঠাতে বলা হয়। তারা ওই শ’খানেক নামের তালিকা পাঠান। অভিযুক্ত মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ জনকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ১৮ জনকে। ৪৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। আর ২৫ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মাদক বিক্রী, মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং উদ্ধারকৃত মাদক কম দেখানোর অভিযোগে ডিএমপির আরো ২৯ জন সদস্য অভিযুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের চাকরিচ্যুতি ও অপর ৫ জনের সাজা হয়েছে। বাকীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন আছে। মাদক সেবন, বিক্রী, মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় করার ব্যাপারে ডিএমপি যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এ থেকে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ডিএমপির এ উদ্যোগ-পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, পুলিশের মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার, প্রতিবাদী এবং মাদক রুখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা এ প্রসঙ্গসূত্রে তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। মাদকের ব্যাপারে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি প্রত্যাশিত সুফল দেবে বলে আশা করা যায়।

পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে মাদক সেবন, মাদক ব্যবস্যা, মাদক কারবারীদের সহায়তা, মাদক পকেটে ঢুকিয়ে গ্রেফতার বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ যে অসত্য নয়, তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে প্রমাণিত হয়েছে। ডিএমপির আলোচ্য উদ্যোগ-পদক্ষেপেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাদক সম্পর্কিত অপরাধ দমন বা নির্মূল করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষত পুলিশের ওপর ন্যাস্ত। সেই পুলিশ সদস্যই যদি মাদকাসক্ত হন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন কিংবা মাদককে হাতিয়ার বানিয়ে অপরাধ সংঘটন করেন, তবে কীভাবে মাদকের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব? সরিষায় ভূত থাকলে যেমন সরিষা দিয়ে ভূত তাড়ানো সম্ভব নয়, পুলিশে মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারী থাকলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিহত বা রহিত করা সম্ভব নয়। তাই মাদককে ‘না’ এবং মাদকের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে পুলিশের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানোর বিকল্প নেই। পুলিশ বাহিনীর তরফে এই সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, পুলিশের মধ্যে কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারী থাকতে পারবে না। পুলিশের চাকরি করতে হলে মাদক ছাড়তে হবে। মাদক ও পুলিশের চাকরি এক সাথে চলবে না। ডিএমপি তার সদস্যদের মধ্যে মাদকাসক্তি শনাক্ত করার জন্য ডোপ টেস্ট ও মাদক সংশ্লিষ্টতা নিরূপণে তার নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়োজিত করে যে নজির স্থাপন করেছে, তা গোটা পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিশুদ্ধির অভিযান আংশিক বা খন্ডিত হলে কাম্য সফলতা আসবে না। অত্যন্ত পরিতাপ ও উদ্বেগজনক হলো, মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার অভিযান চলছে। এ অভিযানে বহু লোক নিহত ও গ্রেফতার হলেও মাদকের দৌরাত্ম্য ও বিস্তার এতটুকু কমেনি। সরিষায় ভূতের উপস্থিতি এর অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যান্য কারণের মধ্যে মাদকের অনুপ্রবেশ, বাজারজাতকরণ ও বেচাকেনা বন্ধ করতে না পারা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মদপান বা মাদক সেবন আল্লাহপাক হারাম করেছেন। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, এটা সমস্ত অশ্লীলতার উৎস। দেশ ও সমাজকে এই হারাম ও অশ্লীলতা থেকে সুরক্ষা করার জন্য অবশ্যই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকের উৎপাদন, আমদানি, অনুপ্রবেশ, বাজারজাতকরণ ও বিকিকিনি বন্ধ করতে হবে। ডোপ টেস্টসহ অন্যান্য পদক্ষেপ কার্যকর করতে হবে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেশি, যা জাতির জন্য খুবই উদ্বেগের কারণ। অন্যান্য বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হয়। ২০১৮ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে ঢোকার সময় ডোপ টেস্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ, জনপ্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মাদকাসক্ত রয়েছে বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সময়োপযোগী, বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে। সবার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করতে হবে বা
ধ্যতামূলক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন