Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর

মাগুরায় পানিবদ্ধতামুক্ত বিল অঞ্চল

সাইদুর রহমান, মাগুরা থেকে | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

মাগুরায় বিল অঞ্চলের জমিকে পানিবদ্ধতা মুক্ত করে এক ফসলি থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করে উন্নত জাতের ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলিয় সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কালিদাসখালি আড়পাড়া উপ-প্রকল্পে কৃষি বিভাগের সহায়তায় জেলার শালিখা উপজেলায় বিভিন্ন বিল এলাকায় ব্রি ধান-৭৫ ও বিনা-ধান ১৭ চাষ করে স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক ফসল পেয়ে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এ প্রকল্পের অধীনে মোট ১২ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমি পানি ব্যবস্থাপনার আওয়ায় এনে উচ্চ ফলনশীল জাতের কৃষির আওতায় আসায় জেলায় এ এলাকার অন্তত ১২ হাজার ৬৯৩ জন কৃষক কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সরেজমিনে জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি, শতখালি ও ধনেশ্বরগাতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের যৌথ সহায়তায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন বিল অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের চিকন ধান ব্রি-৭৫, বিনা-১৭ ধান চাষ করে কৃষকরা ফলন পেয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। স্বল্প পানি ও পরিমিত সারের ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক বালাই ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে গড়ে তোলা হচ্ছে দক্ষ কৃষক হিসেবে।

ফলে অন্যরাও আগামীতে এ ধরনের উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এ এলাকার মুন্তাজ বিশ্বাস, মন্মথ রায়, আকলিমা বেগমসহ একাধিক কৃষক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ ফসলি জমিকে ৩ ফসলিতে রূপান্তর করে সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় উপযোগি উন্নত জাতের ধান ও চৈতালী ফসলের বীজ সরবরাহের ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এক সময়ে পানিবদ্ধ জমিতে প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে ৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনে সক্ষম এ জাতগুলো উৎপাদন করতে কৃষক কৃষানিরা উচ্ছসিত প্রশংসা করেন।

এ প্রসঙ্গে দীঘলগ্রাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি নিখিল মিত্র জানান, কৃষকদের বিভিন্ন দলে সংগঠিত করার কারণে কৃষকরা তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারছেন। একই সঙ্গে সমিতির মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলের সাথে দেন দরবারের মাধ্যমে নিজেদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারছেন।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক জানান, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরফলে সরকারের দারিদ্র বিমোচনের সমন্বিত কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন