Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

খুলনায় এবার ৩৭ শতাংশ কোরবানীর পশু সংকট

প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে : খুলনা মহানগরীরসহ ৯ উপজেলায় এবার কোরবানীর ৩৭ শতাংশ পশু সংকট দেখা দেবে। পরপর দু’বছর কোরবানীর হাটে পশুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় খামারীরা উল্লেখ্যযোগ্যসংখ্যক ষাঁড় ও বলদ লালন-পালন করছেন না। বিশেষ করে দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় খামারে গরু মোটাতাজাকরণের পরিমাণ কমেছে। কোরবানীর পশুর চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু আমদানি করবে বলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা আশাবাদী। কোরবানীতে হাটে-বাজারে নিরাপদ গো-মাংস নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দফায় দফায় মনিটরিং করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশাখ থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে চাহিদা অনুযায়ী ঘাষ উৎপাদন হয়নি। দানাদার খাবারেরও মূল্য বেড়েছে। লোকসান এড়াতে খামারীরা গরু লালন-পালনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে খামারীরা আশানুরূপ দাম পাইনি। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় খামারীরা ন্যায্যমূল্য পাবে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশাস্ত করেন। ঈদের ৪ দিন পূর্বে পর্যাপ্ত গরু আমদানি হওয়ায় এ অঞ্চলের খামারীরা সস্তায় গরু বিক্রি করে যায়।
জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, বরুণা, ছয়বাড়িয়া, গজেন্দ্রপুর, থুকড়া, মিকশিমিল, রুদাঘরা, খর্ণিয়া, রানাই, বদনিয়া, চুকনগর, মাগুরঘোনা, কোমরাইল, সোলগাতিয়া, কয়রা উপজেলার আমাদী, কিনুকাটি, গড়আমাদী, মসজিদকুড়, ফতেকাটি, বাগালী, জয়পুর, জোড়শিং, হায়াতখালী, হোগলা, অন্তাবুনিয়া গ্রামে উন্নতজাতের গবাদি পশু লালন-পালন হচ্ছে।
খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় ৭ হাজার খামারী ২৪ হাজার ৯০টি গরু এবং ৭ হাজার ৮৫৩টি ছাগল লালন-পালন করেছে। গেল বছর ৩৮ হাজার ৬৫২টি গরু এবং ৫৯ হাজার ১২৫টি ছাগল ঈদুল আযহায় জবাই হয়। সে হিসেবে এবারের পশুর সংকট দেখা দেবে। নিরাপদ গরুর গোশত নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটি খামারে মনিটরিং হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ সৈয়দ মোঃ আনোয়ার উল ইসলাম জানান, নিরাপদ গরুর গোসত নিশ্চিত করতে খামারীদের দফায় দফায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদী- এবারেও নিরাপদ মাংস সরবরাহ হবে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু এনে এ জেলার চাহিদা পূরণ করবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলাম জানান, ১৪ ইউনিয়নের ৫ হাজার ৪৮৫টি গরু, ২ হাজার ১৩২টি ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। গত বছর ১২ হাজার গরু-ছাগল এ উপজেলায় কোরবানীতে জবাই হয়। এবার পশুর সংকট থাকবে। পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে আগামী মাসের প্রথম দিকে গরু আসা শুরু হবে। তিনি জানান, গেল বৃহস্পতিবার খর্ণিয়া ও শাহপুরে গরুর হাট বসে। আগামী সোমবার আঠারমাইল হাটে কোরবানীর পশু বিক্রি শুরু হবে।
কয়রা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিরাপদ গরুর গোশত নিশ্চিত করতে খামারীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের স্টেরয়াড ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। উপজেলার দেউলী ও কালনায় পশুরহাট বসতে শুরু করেছে। সোমবার হোগলাহাটে পশু বিকিকিনি হবে। এ উপজেলায় কোরবানীর জন্য বিভিন্ন খামারে ৬ হাজার ৬৭টি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।






 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ